হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্রের আগে ১১৭৬ বা অন্য কিছুই বলা যাবেনা! কেন জানেন?

0
669

সঙ্গীতা চ্যাটার্জী (চৌধুরী),বহরমপুরঃ– কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, যেখানে লেখা আছে, “১১৭৬ হরে কৃষ্ণ” লিখে শেয়ার করে কোনো একজন ব্যক্তি সুখবর পেয়েছেন। এরপর আরো কিছু পোস্ট ঝড়ের গতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার হচ্ছে যেখানে বহু মানুষ বক্তব্য রাখছেন যে, অবিশ্বাসের সাথে “১১৭৬ হরেকৃষ্ণ লিখেও তাদের মনষ্কামনা পূর্ণ হয়েছে তাই অবিশ্বাস হলেও যেন এটি লিখে ফেসবুকে শেয়ার করা হয়। এটি লিখে শেয়ার করলে নাকি সকল মনস্কামনা পূর্ণ হবে”- এখন এই ১১৭৬ হরেকৃষ্ণ কী? তা বোঝাতে আবার বিভিন্ন রকম ভ্রান্ত যুক্তি খাড়া করা হচ্ছে! বলা হচ্ছে যে এটি নাকি রঘুনন্দন ভট্টাচার্য রচিত কলিসন্তরন উপনিষদে বর্ণিত আছে। কেউ আবার বলছেন এটি গীতায় আছে! কিছু মানুষ এর পক্ষে কথা বলছেন কিছু মানুষ আবার এই কথার বিপক্ষে কথা বলছেন। আসল সত্য কী?

আসল সত্য তো এটাই যে, কলিসন্তরন উপনিষদে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রের কথা উল্লেখ থাকলেও কোথাও ১১৭৬ শব্দের উল্লেখ নেই। কলিসন্তরন উপনিষদে বলা হয়েছে, হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র হলো ৩২ অক্ষর সমন্বিত ১৬ নাম। এই মহামন্ত্র ভক্তিভরে জপ করলে সকল পাপের থেকে মুক্ত হওয়া যায়।

তাই কিছুদিন ধরে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ১১৭৬ হরে কৃষ্ণ আসলে একটি অপ্রামাণিক তথ্য। এরকম কিছুতে বিভ্রান্ত না হওয়াই উচিত। কোন বৈদিক শাস্ত্রেই এই কথা উল্লেখিত নেই।

হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রের আগে অন্য কোন কিছুর উল্লেখ করা যায় না। এই প্রসঙ্গে একটি ঘটনার উল্লেখ করব। একবার একটি কীর্তন এর স্থলে ভক্তরা “ভজ হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ ” বলে গাইতে শুরু করেছিলেন। শ্রীল প্রভুপাদ তখন ক্রুদ্ধস্বরে রেগে গিয়ে সেই কীর্তন তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দেন। এরপর তিনি উচ্চস্বরে জিজ্ঞেস করেন, “ এই ভজ হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ তুমি কোথা থেকে গাইতে শিখেছো?” ভক্ত টি লজ্জায় মাথা নিচু করে থাকেন। শ্রীল প্রভুপাদ তখন বলেন,“ হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র ঠিক যেমন আছে তেমন ভাবেই কীর্তন করতে হবে। হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে- এর সঙ্গে কোন কিছু যুক্ত হবে না অথবা এর থেকে কোন কিছু বাদ দেওয়া যাবে না কেবল ৩২ অক্ষর সমন্বিত ১৬ টি নাম।”

তাই দয়া করে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রের পূর্বে আর কিছু বলবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here