অন্ডালের হরিশপুরে ১৫ টি বাড়ি ধসে তলিয়ে গেল, আতঙ্কে গ্রামবাসীরা গ্রাম ছেড়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ

0
1084

সোমনাথ মুখার্জী, অন্ডালঃ- অন্ডালে ফের ধস। ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক ঘরবাড়ি। মাটিতে চাপা পড়ে যায় একাধিক গাড়ি। আতঙ্কে গ্রাম ছাড়ছেন গ্রামবাসীরা। চলতি মাসের ১৬ তারিখ ২ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে এক কিলোমিটার দূরে রাস্তায় প্রায় একশ মিটার এলাকা জুড়ে ধস হয়েছিল। অন্ডালের টপ লাইন থেকে বহুলা যাবার প্রধান রাস্তায় যেখানে রাস্তার ওপর পড়ে হরিশপুর গ্রাম। গতকাল গভীর রাতে বিকট শব্দের সঙ্গে এলাকাটি একাংশ বসে যায় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা তপন পাল। গ্রামের ১০ থেকে ১৫ টি বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এই বাড়িগুলো কমপক্ষে ৫ ফুট মাটিতে বসে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। এই ঘটনায় হরিশপুর গ্রামে থাকা ৫৫০ টি পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সকাল থেকেই ঘরের আসবাবপত্র এবং গবাদি পশু নিয়ে অন্যত্র যেতে দেখা যায় গ্রামবাসীদেরকে।

তপন বাবুদের অভিযোগ ১৯৯৮ সাল থেকে এলাকায় ইসিএলের একটা খোলামুখ খনি রয়েছে। সেই খনির কয়লা উত্তোলনের কারণে এই হরিশপুর এলাকা ধস প্রবন। বারবার এলাকায় ধসের ঘটনা প্রায় ঘটতে থাকে। ইসিএল আধিকারিক থেকে শুরু করে প্রশাসন, আসানসোল-দুর্গাপুর ডেভলপমেন্ট অথরিটি,স্থানীয় প্রশাসন প্রায় সকলকেই গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে গ্রামের পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু আগেও হরিশপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খনির থেকে ছিটকে আসা পাথরের আঘাতে আহত হয়েছিল এক স্কুল পড়ুয়া। আজকের এই ভয়ঙ্কর ধসের ফলে হরিশপুর গ্রাম প্রায় জনমানব শূন্য। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে যথেষ্ট। গ্রামবাসীদের আজও একটাই দাবি পুনর্বাসন । যতদিন না পুনর্বাসন হচ্ছে ততদিন গ্রামের বাসিন্দা দের আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না।
অন্যদিকে, ধসের কারনে শেষপর্যন্ত জাতীয় সড়ক অবরোধ করল হরিশপুর গ্রামবাসী। যদিও গ্রামের পুনর্বাসন নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসন ও এ ডি ডি এ ও ইসিএলের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ও হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা যায় খুব শীঘ্রই হরিশপুর গ্রামের পুনর্বাসনের কাজ সম্পুর্ন হবে। কিন্তু এবার আজ রাতে হটাৎ গ্রামের অধিকাংশ জায়গায় ধস ও ফাটল দেখা দিলে আতংকিত ও উত্তেজিত গ্রামবাসী দু নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন । সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসে অন্ডাল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ এসে অবরোধ কারীদের জাতীয় সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় । এরপর বিক্ষোভকারীরা কজোড়া এরিয়ার জ্যানারাল ম্যানেজারের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখতে থাকেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here