গ্যাসের গোডাউন, অ্যাম্বুল্যান্স , মুদিখানায় হানা দিয়ে লুকোনো অক্সিজেন উদ্ধার কলনা, মেমারি,পূর্বস্থলীতে

0
230

সংবাদদাতা, মেমারি ও কালনাঃ- কোথাও রান্নার গ্যাসের গুদামে, কোথাও অ্যাম্বুল্যান্স চালকের বাড়িতে তো কোথাও আবার মুদিখানার ভেতর- এভাবেই অক্সিজেনের কালোবজারিরা লুকিয়ে রাখছে সিলিন্ডার। আর অক্সিজেন না পেয়ে তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগা কোভিড রোগীরা মারা পড়ছেন বে ঘোরে। পূর্ব বর্ধমান জোলার বিভিন্ন ব্লক, গ্রাম, শহর থেকে বিভিন্ন সূত্রে খবর পেয়ে অক্সিজেন ‘ডাকাত’দের ধরতে দিনভর হানাদারি চলছে পুলিশেরও। গত চব্বিশ ঘণ্টায় জেলার মেমারি, কালনা, অগ্রদ্বীপ, পূর্বস্থলী থেকে মোট ২৬টি এরকম লুকিয়ে রাখা সিলিন্ডার বাজেয়াপ্তও করছে। ধরা হয়েছে ৬ জনকে। তাদের বিরুদ্ধে অতিমারিরতে কালোবাজারির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোমবারও চলবে হানাদারি।

মেমারির পাহাড়হাটিতে, বিডিও অফিসের পাশেই রয়েছে রান্নার গ্যাসের গোডাউন। বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে হানা দিয়ে ১০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার উদ্ধার করল পুলিশ। আটক করা হয়েছে গোডাউন প্রহরীকে। মেমারি থানার ওসি দেবাশিষ নাগ জানান, “রান্নার গ্যাসের গোডাউনে ১০টি আর শহরের দুটি বাড়ি থেকে লুকিয়ে রাখা আরো দুটি সিলিন্ডার কাল উদ্ধার করেছি।” উদ্ধার হওয়া সিলিন্ডার রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়াও হয়েছে।

কালনা মহকুমা হাসপাতালেই অ্যাম্বুল্যান্স স্ট্যান্ডে তাদের জীবিকা, সেই তিন অ্যাম্বুল্যান্স চালক কোমল ঘোষ, চিন্ময় রায় ও সমীর হাজরাকে রবিবার অক্সিজেন কালোবাজারির দায়ে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। কালনা আদালত ধৃতদের পাঁচদিনের জন্য পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃতরা একটি বড়সড় অক্সিজেন কালোবাজারি সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত। তাদের হেফাজতে থাকা ৭টি অক্সিজেন সিলিন্ডার উদ্ধারও করা হয়েছে। “ওরা হাসপাতালে অ্যাম্বুল্যান্সে বসে থাকতো আর মুমুর্ষ রোগীদের পরিবারের সাথে চড়া দামে অক্সিজেনের সওদা করতো। ডিল ফাইনাল হলে, লুকিয়ে রাখা সিলিন্ডার রোগীর পরিষেবায় এনে দিত,” বললেন কালনার বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ। কালনার পাশাপাশি কাটোয়ার অগ্রদ্বীপ, পূর্বস্থলির নিমদহ থেকেও চারটি লুকিয়ে রাখা অক্সিজেন সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয় এদিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here