সরস্বতী পুজো বা বসন্ত পঞ্চমীর দিন জোড়া ইলিশ বরণের রীতি কেন জেনে নিন

0
624

এই বাংলায় ওয়েব ডেস্কঃ- ভোজন রসিক হিসাবে বাঙালির খ্যাতি সর্লকালের। যে কোনও উৎসব, অনুষ্ঠান কিংবা পুজোয় তাই খাওয়া-দাওয়া মাস্ট। সেরকমই এক রীতি প্রচীন কাল থেকে চলে আসছে। বসন্ত পঞ্চমী বা সরস্বতী পুজোর দিন জোড়া ইলিশ বরণ। মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে উদযাপন করা হয় বসন্ত পঞ্চমী বা সরস্বতী পুজো আর এদিনই বহু বাঙালি বাড়িতে জোড়া ইলিশ বরণের রীতি রয়েছে। তবে এই রীতি মূলত পূর্ব বঙ্গীয়দের লোকাচার। পূর্ববঙ্গের দক্ষিণের জেলাগুলিতেই এই রীতি বেশি প্রচলিত ছিল। তার মধ্যে বিক্রমপুর অঞ্চলেই এই প্রথার উদ্ভব বলে মনে করা হয়।  

এই দিন সকালে কাঁচা হলুদ মেখে স্নান করে তারপর বাজার থেকে ইলিশ মাছ নিয়ে আসা হয়। এরপর ধান, দূর্বা, তেল, সিঁদুর ও কাঁচা হলুদ ও শঙ্খ ধ্বনি সহযোগে জোড়া ইলিশ বরণ করা হয়। কিছু পরিবারে আবার এইদিন ইলিশের বিয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে। নোড়ার সঙ্গে ইলিশের বিয়ে দেওয়া হয় তাই এই লোকাচারের নাম ‘নোড়া দিয়ে জোড়া’ বা ‘ইলশার বিয়ে’। নোড়াকে পুরুষ এবং মাছকে নারীর রূপে ধরা হয় এবং উলু- শঙ্খ ধ্বনি, ধান- দূর্বা, তেল, সিঁদুর, কাঁচা হলুদ দিয়ে নিয়মকানুন পালন করা হয়। বহু পরিবারে জোড়া ইলিশ বরণের সময় মুখে টাকা গুঁজে দেওয়া হয়। যিনি মাছ কাটবেন, সাধারণত এই টাকাটি তার প্রাপ্য। তবে মাছা কাটার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। আঁশ এদিক ওদিক যাতে ছড়িয়ে না যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হয়। কলাপাতার উপর রেখে অনেকে আঁশ ছাড়ান। পরে সেটি মুড়ে যে কোনও পরিষ্কার স্থানে তা পুঁতে দেওয়া হয়। বরণ করা ইলিশ রান্নাও করা হয় বিশেষ রীতি মেনে। ফোঁড়ন এবং সমস্ত তরকারি একসঙ্গেই দিতে হয় কড়াইতে। রান্নায় কোনও গুঁড়ো মশলা ব্যবহার করা হয় না। কাঁচা হলুদ এবং কাঁচা লঙ্কা ও নুন তেল দিয়ে মাছের বিশেষপদ রান্না করা হয়।

তবে সরস্বতী পুজোর সঙ্গে জোড়া ইলিশ বরণের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই বলেই মনে করা হয়। দুটি অনুষ্ঠানই যেহেতু একই দিনে অর্থাৎ মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতে পালন করা হয় তাই আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় এই দুয়ের মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে। তবে এই তিথিতে জোড়া ইলিশ বরণের কিছু যুক্তি রয়েছে। যদিও তা নিয়ে নানা মতভেদও আছে। তবে মনে করা হয়, পূর্ববঙ্গের মৎসজীবি সম্প্রদায়রা এক সময় বিজয়া দশমীর পর আর ইলিশ মাছ ধরতেন না। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ সময় থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কালে ইলিশ মাছের প্রজনন সময়। অপরিণত ইলিশ যাতে ধরা না পড়ে তাই ওই সময়কালে ইলিশ ধরা হতো না। তাছাড়া এই সময়ে প্রজননের পর ইলিশ আবার নদী থেকে সমুদ্রে ফেরে। তাই কয়েক মাস বিরত থাকার পর বসন্ত পঞ্চমীর দিন থেকেই ফের ইলিশ মাছ ধরা শুরু হতো। আর তাই এই বিশেষ দিন বা তিথি ঘিরেই প্রচলিত হয়েছে নানা লোকাচার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here