হিংলাজ দর্শন ও তার ইতিকথা

0
855

নিউজ ডেস্কঃ পাকিস্তানের রাজধানী করাচি থেকে ২৫০ কিমি দূরে বালুচিস্তানে অবস্থিত হিংলাজ মন্দির। কথিত আছে, মহাদেবের পত্নী পার্বতী তথা মাতা সতীর মুন্ড এখানে এসে পড়েছিল। তারপর থেকেই বহু বছর ধরে প্রত্যেক দিন এই হিংলাজ মন্দির দর্শনের জন্য হাজার হাজার মানুষ ব্বহিড় জমান। পাকিস্তানের বালুচিস্তানে অবস্থিত এই মন্দির ও মায়ের দর্শনের জন্য ভারত, বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশ থেকে যেমন ভক্তরা হিংলাজ দর্শনে যান তেমনি পাকিস্তান তথা আশেপাশে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেও এই মরুতীর্থ হিংলাজকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভক্তি ও আগ্রহ চোখে পড়ে। যদিও হিংলাজ দর্শন খুবই কষ্টসাধ্য। আমরা অনেকেই মরুতীর্থ হিংলাজের কথা বইতে পড়েছি। বাস্তবেই এই হিংলাজ দর্শন মরুভূমি না পেরিয়ে সম্ভব নয়। বলা হয়ে থাকে, অমরনাথ যাত্রার থেকেও কষ্টসাধ্য ও ভয়ঙ্কর এই হিংলাজ দর্শন। কারণ মরুতীর্থ এই হিংলাজ দর্শন করতে গেলে দর্শনার্থীদের পেরোতে হয় পাঁচটি মূল ধাপ। যার মধ্যে প্রথম ধাপে পড়ে চন্দ্রকূপ যা mud volcano নামেও পরিচিত। ৩০০ ফুট উচু এই চড়াই পায়ে হেঁটে উঠতে হয় দর্শনার্থীদের। এখানে তারা ধূপ ও নারকেল প্রসাদ হিসেবে ভগবানের উদ্দেশ্যে নিবেদন করেন। দ্বিতীয় ধাপ হল অঘোর নদী। এই নদীতে স্নান সেরেই দর্শনার্থীরা হিংলাজ মন্দির দর্শনে অগ্রসর হন। এরপরের ধাপে আসে ৮৪ ধাম। গুরু গোরক্ষনাথের শিস্যদের হাতে তৈরী এই কুন্ডের ওপর নাম ৮৪ কুন্ড। মনে করা হয়, পূন্যার্থীদের জন্য এই ৮৪ কুন্ড পার করায় সবথেকে কষ্টসাধ্য। যাত্রা পথের চতুর্থ ধাপ হল অলেল কুন্ড। এখানে পৌঁছে পুন্যার্থীরা কুন্ডের জলপান করেন এবং পবিত্র জল হিসেবে তা সংগ্রহও করেন। এই চার ধাপ পার করে শেষ ধাপ হল হিংলাজ মন্দির। যদিও মন্দিরে প্রবেশের আগে মন্দিরের সামনেই এক কুন্ডে পূণ্যার্থীদের স্নান সেরে নতুন বস্ত্র পরিধান করে তবেই মন্দিরে প্রবেশ করতে হয়। প্রত্যেক বছর নবরাত্রির পূন্য লগ্নে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয় এই হিংলাজ মন্দিরে। দেশের সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটেন, আমেরিকার মতো দেশ থেকেও বহু মানুষ প্রত্যেক বছর হিংলাজ মন্দির দর্শনে আসেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here