‘আনন্দমঠ’ আশ্রমে দোল উৎসবে মেতে উঠল গণপুর গ্রামবাসীরা

0
341

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী, পূর্ব বর্ধমানঃ- দেখতে দেখতে ১৮ টা বছর পার হয়ে গেল। ২০০২ সালে শেষ বারের মত সাধক শ্রী শ্রী সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত ‘আনন্দমঠ’ আশ্রমে দোলের আনন্দে মেতে উঠেছিল পশ্চিম মঙ্গলকোটের গণপুর গ্রামের বাসিন্দারা। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি দেখা গেল গত ২৮ শে মার্চ। আট থেকে আশি – কচিকাচা থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা, গৃহবধূ থেকে বাড়ির মেয়েরা – সবাই এই আনন্দোৎসবে সামিল হলো।


নাম সংকীর্তন প্রচার ও মানুষের সেবা করার লক্ষ্যে হুগলির ডুমুরদহের বাসিন্দা সংস্কৃতের পন্ডিত শ্রী শ্রী সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ ঠাকুর গণপুর গ্রামের তাঁর তিন শিষ্য শম্ভুনাথ, তারকনাথ ও সুরথনাথের আহ্বানে ১৩৬০ সালের শ্রাবণ মাসে গণপুর গ্রামে আসেন এবং ‘আনন্দমঠ’ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে চারমাস ধরে যজ্ঞ করেন। মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত রাধা-কৃষ্ণের মূর্তিটি নিম কাঠের তৈরি এবং শোনা যায় স্বয়ং ওঙ্কারনাথ সেটি পাকিস্তান থেকে নিয়ে এসে এখানে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৩৮৫ সালের ভয়াবহ বন্যায় মাটির ঘরটি নষ্ট হয়ে যায়। ১৪০৯ সালে হরনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বর্তমান মন্দিরটি নির্মিত হয়। আর্থিক কারণে সেই শেষবারের মত এখানে উৎসব হয়। এবার সমগ্র গ্রামবাসীদের উদ্যোগে আবার উৎসব হয়। উৎসব উপলক্ষ্যে সারাদিন ব্যাপী মন্দির চত্বরে চলে নাম-সংকীর্তন। দুপুরে হয় নরনারায়ণ সেবা। পরে গ্রামবাসীরা নগর পরিক্রমায় বের হয়। জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত শ্রেণীর মানুষকে নগর পরিক্রমায় পা-মেলাতে দেখা যায়। উৎসবকে কেন্দ্র করে গ্রামে মেলা বসেছে। শোনা যাচ্ছে তিন দিন ধরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হবে।


গ্রামের অন্যতম প্রবীণ ব্যক্তি তথা ওঙ্কারনাথের শিষ্য রামজীবন ভট্টাচার্য্য বললেন- ঠাকুরের লক্ষ্য ছিল সব মানুষের মিলনের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে নেওয়া। তাই ঠাকুরের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে আর যেন এই মিলন উৎসব বন্ধ না হয়। গ্রামবাসীদের কাছে তার আবেদন ছোট করে হলেও ভবিষ্যতেও এই উৎসব যেন চালিয়ে যাওয়া হয়। একই কথা বললেন বর্তমান সেবাইত কনকনাথ ব্যানার্জ্জী ও রমা ব্যানার্জ্জী। তাদেরও ইচ্ছে প্রতি বছর যেন এই উৎসব হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here