হুল উৎসবে জুতো পড়েই শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন আসানসোলের মহানাগরিকের, অন্যদিকে খালি পায়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য দুর্গাপুরের মহানাগরিকের

0
1937

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ ৩০শে জুন। সাঁওতাল তথা আদিবাসী সম্পদায়ের এক ঐতিহাসিক মুহুর্ত। কারণ আজ থেকে প্রায় দেড়শো বছরেরও বেশি সময় আগে ১৮৫৫ সালের ৩০শে জুন হাজার সাঁওতালদের মিলিত প্রতিবাদ গর্জে উঠেছিল ভাগনাডিহির মাঠে। সিদু, কানু, চাঁদ ও ভৈরবের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বাহিনীর বর্বরোচিত শাসন, শোষণ এবং নির্বিচারে হত্যার তীব্র প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল সাঁওতাল বিদ্রোহে অংশগ্রহণকারীরা। ক্রমে এই বিদ্রোহ বাংলা, বিহার সহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়লে ইংরেজ সরকার তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কায় বিদ্রোহ দমনে সচেষ্ট হয়। বিদ্রোহীদের শক্তি ক্ষয় করতে প্রথমেই ব্রিটিশ বাহিনী সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরবকে একে হত্যা করা হয়। বিদ্রোহে ব্রিটিশ বাহিনীর গোলাগুলির সামনে তীর-ধনুক, বল্লম নিয়ে পাল্টা হামলা চালালেও ব্রিটিশদের হাতে প্রায় ৩০ হাজার বিদ্রোহী শহীদ হন। প্রাথমিকভাবে সাঁওতাল বিদ্রোহ ব্যর্থ মনে হলেও আদপে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথম কৃষক বিদ্রোহ হিসেবে খ্যাত সাঁওতাল বিদ্রোহ ইংরেজ শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল। এরপর দেশ স্বাধীন হওয়ার বেশ কয়েকবছর পর ১৯৫৬ সালের ৩০শে জুন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বেলতারা গ্রামের দুই জনৈক ব্যাক্তি নাথা নিয়েল মুরমু ও দেবী সরেন সাঁওতাল বিদ্রোহের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে হুল দিবস উদযাপনের মাধ্যমে হুল দিবস পালনের রীতি চালু করেন। আর তারপর থেকেই প্রত্যেক বছর ৩০শে জুন আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষজন এই বিশেষ দিনে শহীদদের স্মরণ করেন হুল দিবসের মাধ্যমে। তেমনি রবিবার ৩০শে জুন মহাসমারোহে দেশ তথা রাজ্য জুড়ে পালিত হল হুল দিবস। ব্যতিক্রম নয়, দুর্গাপুর ও আসানসোল শহরও। এই হুল দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন দুর্গাপুরের মেয়র দিলীপ অগস্তি এবং আসানসোলের মেয়র জীতেন্দ্র তিওয়ারি। কিন্তু দুই মহানাগরিকের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের থেকেও আলোচনা বিষয় হয়ে উঠল আসানসোলের মেয়র জীতেন্দ্র তিওয়ারির জুতো পরিহিত অবস্থায় শহীদদের শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনের ঘটনায়। একদিকে আসানসোলের মেয়র যখন জুতো পড়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন শহীদদের উদ্দেশ্যে তখন দুর্গাপুরের মহানাগরিক দিলীপ অগস্তি মহাশয়কে দেখা গেল খালি পায়েই শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন শহীদদের উদ্দেশ্যে। আর এই দুই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক শুরু হয়ে গেল। আসানসোলের মহানাগরিকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী শহীদদের অপমানের অভিযোগ তুলে দুর্গাপুরের একশ্রেণীর মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। দুর্গাপুরের মানুষের একাংশের বক্তব্য, দুর্গাপুরের মানুষের মধ্যে আজও যে রুচিশীলতা বজায় রয়েছে তা সর্বসমক্ষে তুলে ধরেছেন দুর্গাপুরের মহানাগরিক দিলীপ অগস্তি মহাশয়। অন্যদিকে আসানসোলের একজন মহানাগরিক হিসেবে জীতেন্দ্র তিওয়ারিরি এহেন আচরণে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।