সারাজীবন সারদা মায়ের করুণা লাভ করতে কী প্রার্থনা করেছিলো ছেলেটি, শুনলে অবাক হয়ে যাবেন

0
594

সংগীতা চৌধুরী, বহরমপুরঃ- ভগবানের কাছে কীভাবে কী চাইতে হয় তা আমরা অনেকেই জানিনা। অনেকটা শিব চাইতে বাঁদর গড়ার মত ভগবানের কাছ থেকে আমরা বর প্রার্থনা করি আর সেই প্রার্থনা পূরণ না হলে হাত পা ছুঁড়ে কাঁদতে বসি। ভগবান যে আমাদের পরম হিতাকাঙ্খী, তার সঙ্গে যে আমাদের আত্মার সম্পর্ক তা আমরা ভুলেই যাই। তিনি তো সবসময় আমাদের মঙ্গলসাধন করে থাকেন, কিন্তু আমরা চোখ থাকতেও অন্ধ তাই তাকে বুঝিনা।

ভগবানের কাছে কীভাবে চাইতে হয় তা স্বামী অপূর্বানন্দজী মহারাজ নিজের স্মৃতি সংকলনে তুলে ধরেছিলেন। তিনি যখন জগত জননী সারদা মায়ের সম্মুখীন হলেন তখন তিনি কী চাইবেন তা ভেবে দিশেহারা হয়ে যাননি, তিনি সঠিকভাবে জানতেন যে মায়ের কাছে কী চাইতে হয়,কীভাবে চাইতে হয় তাই তিনি মায়ের অপার করুণা লাভ করেছিলেন। স্বামী অপূর্বানন্দজী মহারাজের কিছু কথা আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি,মহারাজের কথায়-

মাকে পেলেই তো সব পাওয়া হল। তাঁর করুণা থাকলেই তো সবকিছু হল। আমি মাকে ভুলে যেতে পারি সংসারের পেষণে দলিত হয়ে, ধূলি-কাদায় মলিনদৃষ্টি হয়ে, কিন্তু মা যদি আমায় স্মরণে রাখেন তাহলেই তো সুপথে চলতে পারব। মা যদি স্মরণ করে কোলে তুলে নেন, কোলে কোলে রাখেন, সংসারের মৃত্তিকা গায়ে মাখতে না দেন, তবেই তো আমি হব নির্মল সুন্দর। এই ভেবে মায়ের কাছে শুধু একটি প্রার্থনা জানিয়েছিলাম,“মা, আপনি আমায় মনে রাখবেন।” তিনবার এই প্রার্থনা জানাই, তিনবারই তিনি অভয় দিয়ে বলেছিলেন,“হ্যাঁ বাবা, তোমাকে মনে রাখব।”পরে সেবক বরদা মহারাজের মুখে শুনেছিলাম, আমি চলে আসার পর মা তাঁকে ডেকে বলেছিলেন“দেখো গো, ছেলেটি তিন সত্যি করিয়ে নিলে!” মায়ের মুখ থেকে যা কিছু বেরুবে তাই সত্য। তিনি ত্রিসত্য করে বলেছিলেন আমায় ভুলবেন না। এই আমার জীবনে পরম প্রাপ্তি, পরম আশীর্বাদ, পরম অভয়, বল, ভরসা ও সান্ত্বনা।

এই প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়লে সকলেই বুঝতে পারবেন ভগবানের কাছে কীভাবে চাইতে হয়,ঠিক কী চেয়ে নিতে হয়?আর এই প্রতিবেদনে মহারাজের বক্তব্য অনুধাবন করলেই বুঝতে পারবেন কেন শ্রীকৃষ্ণ বরাবর নিঃস্বার্থভাবে ভগবানকে ডাকার কথা বলে গিয়েছিলেন। হ্যাঁ আমরা যদি কোনো গাছের মূলকেই আঁকড়ে ধরতে পারি তাহলে ডালপালা এমনি আমাদের হাতের নাগালে চলে আসে।ঠিক সেইরকম ভাবে যার ভগবানের কৃপা লাভ হবে তার এমনি সমস্তকিছু লাভ হয়ে যাবে, কিন্তু ভগবান লাভের জন্য সবসময়ই নিঃস্বার্থভাবের প্রয়োজন, সরলতার প্রয়োজন। তিনি অন্তর্যামী তাই অন্তরে লুক্কায়িত ভাবকেও তিনি মুহূর্তের মধ্যেই পড়ে ফেলেন, তাই ভগবানকে নিঃস্বার্থভাবে ডাকুন, ভক্তের ভালো-মন্দ কীসে তা তিনি সবথেকে ভালো বোঝেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here