সত্যযুগে রামচন্দ্র অনুষ্ঠিত এই ব্রত মাহাত্ম্য শ্রবণ করলে সংসারে শান্তি বজায় থাকবে

0
788

বহরমপুর থেকে সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- গতকাল ছিল বিজয়া একাদশী। এই ব্রত স্বয়ং পুরুষোত্তম রামচন্দ্র করেছিলেন।জানুন এই ব্রত মাহাত্ম্য কী? এই ব্রত মাহাত্ম্য পড়লেও সংসারে মঙ্গল সাধন হয়। গতকাল যারা এই ব্রত পালন করতে পারেননি কোনো কারণ বশত আজ তারা স্নান করার পর একটি বার এই ব্রত মাহাত্ম্য পড়ে প্রণাম করুন। স্কন্ধ পুরাণে এই মাহাত্ম্য কথা বর্ণিত আছে। মহারাজ যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণ বললেন-‌ হে বাসুদেব! ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর মাহাত্ম্য অনুগ্রহ করে আমাকে বলুন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে যুধিষ্ঠির! এই একাদশী ‘বিজয়া’ নামে পরিচিত। এই একাদশী সম্পর্কে একসময় দেবর্ষি নারদ স্বয়ম্ভু ব্রহ্মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি এই প্রসঙ্গে যা বলেছিলেন, তা আমি এখন আপনাকে বলছি। এই পবিত্র পাপবিনাশকারী ব্রত মানুষকে জয় দান করে বলে ‘বিজয়া’ নামে প্রসিদ্ধ।পুরাকালে শ্রীরামচন্দ্র চৌদ্দ বছরের জন্য বনে গিয়েছিলেন। সীতা ও লক্ষ্মণের সঙ্গে তিনি পঞ্চবটী বনে বাস করতেন। সেই সময় লঙ্কাপতি রাবণদেবী সীতাকে হরণ করে। সীতার অনুসন্ধানে রামচন্দ্র চতুর্দিক ভ্রমণ‌ করতে থাকেন। তখন মৃতপ্রায় জটায়ুর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। জটায়ু রাবনের সীতাহরণের সমস্ত বৃত্তান্ত রামচন্দ্রকে জানিয়ে মৃত্যুবরণ করেএরপর সীতা উদ্ধারের জন্য বানররাজ সুগ্রীবের সাথে তিনি বন্ধুত্ব স্থাপন করেন। ভগবান রামচন্দ্রের কৃপায় হনুমানলঙ্কায় গমন করেন। সেখানে অশোকবনে সীতাদেবীকে দর্শন করে শ্রীরাম প্রদত্ত অঙ্গুরীয় (আংটি) তাঁকে অর্পণ করেন। ফিরে এসে শ্রীরামচন্দ্রের কাছে লঙ্কার সমস্ত ঘটনার কথা ব্যক্ত করেন। হনুমানের কথা শুনে রামচন্দ্র সুগ্রীবেরপরামর্শে সমুদ্রতীরে যান। সেই দুস্তর সমুদ্র দেখে তিনি লক্ষ্মণকে বললেন- ‘হে লক্ষ্মণ! কিভাবে এই অগাধ সমুদ্র পাড় হওয়া যায়। তার কোন উপায়খুঁজে পাচ্ছি না।’উত্তরে লক্ষ্মণ বললেন- ‘হে পুরুষোত্তম! সর্বজ্ঞাতা আদিদেব আপনি, আপনাকে আমি কি উপদেশ দেব? তবে বক্দালভ্য নামে এক মুনি এই দ্বীপে বাস করেন। এখান থেকে চারমাইল দুরে তাঁর আশ্রম। হে রাঘব, আপনি সেই প্রাচীন ঋষিশ্রেষ্ঠকে এর উপায় জিজ্ঞাসা করুন।’ লক্ষ্মণের মনোরম কথা শুনে, তাঁরা সেই মহামুনির আশ্রমে উপনীত হলেন। ভগবান রামচন্দ্র ভক্তরাজ সেই মুনিকে প্রণাম করলেন। মুনিবর রামচন্দ্রকে পুরাণপুরুষবলে জানতে পারলেন। আনন্দভরে জিজ্ঞাসা করলেন- হে রামচন্দ্র! কি কারণে আপনি আমারকাছে এসেছেন, তা কৃপা করে বলুন।শ্রীরামচন্দ্র বললেন- হে মুনিবর! আপনার কৃপায় সৈন্যসহ আমি এই সমুদ্র তীরে উপস্থিত হয়েছি। রাক্ষসরাজের লঙ্কা বিজয় করাই আমাদের প্রধানউদ্দেশ্য। যাতে এই ভয়ঙ্কর সমুদ্র উত্তীর্ণ হতে পারি তার উপায় জানবার জন্য আমরা আপনার কৃপা প্রার্থনা করি। মুনিবর প্রসন্নচিত্ত পদ্মলোচন ভগবানশ্রীরামচন্দ্রকে বললেন- ‘হে রাম! আপনার অভীষ্ঠ সিদ্ধির জন্য যে শ্রেষ্ঠ ব্রত করণীয় আমি তা বলছি।ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের ‘বিজয়া’ নামকএকাদশী ব্রতপালনে আপনি নিশ্চয়ই সৈন্যসহ সমুদ্র পার হতে পারবেন। এই ব্রতের বিধি শ্রবণ করুন। বিজয় লাভের জন্য দশমীর দিন সোনা, রূপা, তামা অথবা মাটির কলস সংগ্রহ করে তাতে জল ও আমপাতা দিয়ে সুগন্ধি চন্দনে সাজিয়ে তার উপর সোনার নারায়ণমূর্তি স্থাপন করবেন। একাদশীর দিন যথাবিধি প্রাতঃস্নান করে কলসের গলায় মালা চন্দন পড়িয়ে উপযুক্ত স্থানে নারকেল ও গুবাক দিয়ে পূজা করবেন। এরপর গন্ধ, পুষ্প, তুলসী, ধূপ-দ্বীপ নৈবেদ্য ইত্যাদি দিয়ে পরম ভক্তিসহকারে নারায়ণের পূজা করে হরিকথা কীর্তনে সমস্ত দিন যাপন করবেন। রাত্রি জাগরণকরে অখন্ড ঘি-প্রদীপ প্রজ্বলিত রাখবেন। দ্বাদশীর দিন সূর্যোদয়ের পর সেই কলস বিসর্জনের জন্য কোন নদী, সরোবর বা জলাশয়ের কাছে গিয়ে বিধি অনুসারে পূজা নিবেদনের পরে তা বিসর্জন দেবেন। তারপর ঐ মূর্তি বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণকে দান করবেন। এই ব্রত প্রভাবে নিশ্চয়ই আপনার বিজয় লাভ হব্রহ্মা বললেন- হে নারদ! ঋষির কথামতো ব্রত অনুষ্ঠানের ফলে তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। সীতাপ্রাপ্তি, লঙ্কাজয়, রাবণবধের মাধ্যমে শ্রীরামচন্দ্র অতুল কীর্তি লাভ করেছিলেন। তাইযথাবিধি যে মানুষ এই ব্রত পান করবেন তাদের এজগতে জয়লাভ এবং পরজগতে অক্ষয় সুখ সুনিশ্চিত জানবে। হে যুধিষ্ঠির! এই কারণে এই বিজয়া একাদশী ব্রত পালন অবশ্য কর্তব্য। এই ব্রতকথার শ্রবণ-কীর্তন মাত্রেই বাজপেয় যজ্ঞর ফল লাভ হয়। এইবার যারা করতে পারলেন না তারা পরের বার পঞ্জিকা তে দেখে অবশ্য ই পালন করবেন।(আর মনে রাখবেন একাদশীর দিন পঞ্চশস্য গ্রহণ নিষিদ্ধ। দুধ, ফল, আলু পেঁপে কাঁচকলার তরকারি(সাদা তেল ও সন্ধর্ব লবন ঘি আদা বাটা জিরে গুঁড়া দিয়ে) সাবুদানা (জে কে সাবু) কলা ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।)
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here