শ্রীকৃষ্ণের কৃপা লাভ করার প্রথম শর্ত কী?

0
1719

বহরমপুর থেকে সঙ্গীতা চৌধুরী:- শ্রী কৃষ্ণ বাঁশি বাজান এ তো আমরা সবাই জানি কিন্তু কেন বাজান তা কী জানেন?

আজকে আপনাদের বলবো শ্রীকৃষ্ণের হাতে কীভাবে এলো বাঁশি? শ্রীকৃষ্ণের বাঁশির অর্থ কী?কারা সেই বাঁশির সুর শুনতে পান?

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন তার বাল্যলীলা করছিলেন।
তখন খেলা করতে করতে একদিন নদীর তীরে যান।সেখানে দেখেন একজন বৃদ্ধ বাঁশি বাজাচ্ছেন এবং বাঁশি বিক্রি করছেন। ঐ বাঁশির সুর শুনে শ্রীকৃষ্ণ বৃদ্ধ লোকটির কাছে যান এবং বলেন, “হে মুনিবর আপনার বাঁশির সুর খুব সুন্দর। আপনি কি আমাকে শিখাবেন বাঁশি বাজানো।” তখন বৃদ্ধ লোকটি বললেন “তুমি খুব ছোট।। তুমি পারবে না বাঁশি বাজাতে। তখন একথা শুনে গোপাল রূপী শ্রীকৃষ্ণ কেঁদে দিল এবং বললো “আমি পারবো দয়া করে আমাকে শিখিয়ে দিন।” বৃদ্ধ ব্যাক্তিটির ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলা দেখে খুব দয়া হলো।তারপর সেই বৃদ্ধ বললেন-” আচ্ছা ঠিক আছে আমি তোমাকে শিখাবো।” তখন শ্রীকৃষ্ণ খুবই আনন্দিত হলেন। বৃদ্ধ লোকটি শ্রীকৃষ্ণ এর হাতে একটি বাঁশি দিল এবং বললো “আমি যেভাবে বাজাবো তুমিও ঠিক সেইভাবে বাঁশি বাজাবে।” শ্রীকৃষ্ণ বললো “ঠিক আছে।” বৃদ্ধ যখনই বাঁশিতে ফু দিল। মা সরস্বতীকে স্মরণ করে শ্রীকৃষ্ণও তখনই বাঁশিতে ফু দিল। শ্রীকৃষ্ণ যখন বাঁশি সুর তুললো সেই সুর শুনে সমস্ত দেবদেবী, সমস্ত জীব জগৎ বিমোহিত হয়ে গেল। তখন বৃদ্ধ লোকটি ভাবলো এ কোন সাধারন বালক নয়। শ্রীকৃষ্ণ যখন একাগ্রতার সহিত বাঁশি বাজাচ্ছিল,সেই সময় বৃদ্ধ লোকটি তার চরনে শুয়ে পড়লো।এভাবেই শ্রীকৃষ্ণের কাছে বাঁশি এলো এবং শ্রীকৃষ্ণ বাঁশি বাজানো শুরু করলেন…

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কি ধরণের বাঁশি বাজাতেন?

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তিন প্রকার বাঁশি ব্যবহার করেন।তার একটিকে বলা হয় বেণু,অন্যটি মুরলী এবং আরেকটি বংশী।

বেনু অত্যন্ত ছোট,তাতে ৬ টি ছিদ্র থাকে।মুরলীর দৈর্ঘ্য প্রায় আঠারো ইঞ্চি।যাতে এক প্রান্তে ১ টি,গায়ে ৪ টি ছিদ্র।বংশী প্রায় ১৫ ইন্ছি।তাতে ৯ টি ছিদ্র থাকে।ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রয়োজন অনুসারে এই বাঁশি গুলো ব্যবহার করেন।তবে আরেকটি বাঁশি আছে যা আরও বেশী লম্বা,যাকে বলা হয় মহানন্দ ও সম্মোহিনী।একে
আকর্ষণীও বলা হয়।

এর চেয়ে যদি লম্বা হয় বাঁশি সেটা আনন্দিনি।এই আনন্দিনি বাঁশি ব্রজ গোপবালক সখাদের অত্যন্ত প্রিয়।এর আর একটি নাম বংশুলী।এই বাঁশি গুলি কখনও মনিরত্ন খচিত থাকে।কখনও তা মর্মর দিয়ে তৈরী হয়।এবং কখনো বাঁশ দিয়ে তৈরী হয়।বাঁশি যখন মনি রত্ন দিয়ে তৈরী হয় তখন তাকে বলে সম্মোহনী।আর যখন তা স্বর্ণ দিয়ে তৈরী হয় তাকে বলে আকর্ষনী।

বিদগ্ধ মাধব গ্রন্থে শ্রীল রুপ গোস্বামী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বংশী ধ্বনির বনর্না করে বলেছেন-

“শ্রী কৃষ্ণের বাঁশির অপূর্ব সুন্দর সুরের প্রভাবে শিবের ডমরু বাজানো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল,প্রজাপতি দেব ব্রহ্মার চমকিত হয়ে গেলেন।সমস্ত দেব দেবীরা এমন সুন্দরের চেয়ে সুন্দর সুর শ্রবন করে ভগবানকে প্রনতি নিবেদন করেন মহা আনন্দে।অনন্ত শেষনাগ বাঁশি শ্রবন করে তার মস্তক আন্দোলন করতে শুরু করল।ব্রহ্মান্ড ভেদ করে বৈকুন্ঠলোকে ধ্বনিত হয়েছে।
.
শ্রীকৃষ্ণের এই বাশির সুর শুনে সমগ্র বৃন্দাবনবাসীই মোহিত হয়ে যেতেন।ছোট,বড়,গোপ,গোপী সকলেকেই আকর্ষণ করতো সেই সুর। এ যেনো এক অদ্ভুত দিব্য সুর।এ যেনো পরমাত্মার প্রতি আত্মার আকর্ষণ।”
আসলে শ্রী কৃষ্ণ বাঁশির মধ্য দিয়ে তার ভক্তদের তার কাছে ডাকেন অহরহ। এই বাঁশি আত্মাকে স্মরণ করায় পরমাত্মার কথা।

এই বাঁশি কারা শুনতে পাবেন?

এখনো বৃন্দাবনে গেলে বাঁশির আওয়াজ শোনেন কেউ কেউ। যারা সরল নির অহং কারী,যারা সৎ -সেই সকল ভক্তরা আজ ও বৃন্দাবনে গেলে বংশীধ্বনি শুনতে পান। আপনি শুনতে পারেন তার জন্য সবার আগে অন্তরে বিশ্বাস কে দৃঢ় করুন। বিশ্বাস করুন তিনি আছেন।আপনার মধ্যেও আর পাপীর মধ্যেও।কারোর প্রতি রাগ দ্বেষ হিংসা ইত্যাদি করবেন না।কারোর অনিষ্ট চাইবেনা।অন্তর থেকে শিশুর মতো সরল হোন এটিই তাঁকে লাভ করার প্রথম শর্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here