‘আফফানের’ প্রভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে বাঁকুড়া জেলার চাষীরা

0
475

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- ‘করোনা’ সংকট যেমন সাধারণ মানুষের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। লকডাউনের মধ্যে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে চাষীদের। সবজির দাম কম থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চাষীদের। অন্যদিকে ‘আমফান’ চাষীদের ক্ষতির পরিমাণ আরো দ্বিগুন করে দিল । গোটা রাজ্যের মতো ‘আমফানের’ তাণ্ডবের আঁচ পেলো বাঁকুড়া জেলা। গতকাল সকাল থেকেই গোটা বাঁকুড়া জেলা জুড়ে শুরু হয় বৃষ্টি সহ দমকা হওয়া। বেলা যত এগিয়েছে তত পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বৃষ্টি ও ঝড়ের দাপট। বিকেলের দিক থেকে বৃষ্টি ও ঝড়ের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। বাঁকুড়া হাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে গতকাল বাঁকুড়া জেলায় সন্ধ্যার পর থেকে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ৬০ কিমির উপর। আজ সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বাঁকুড়া জেলায় বৃষ্টি হয়েছে ৫১.৪ মিলিমিটার। প্রবল ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বাঁকুড়া জেলার বোরো ধান চাষীদের। পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন সবজি চাষীরাও। জমিতে জল জমে যাওয়ায় বিঘার পর বিঘা ধান জলের তলায় চলে গিয়েছে। মাথায় হাত পড়েছে ধান চাষীদের কেননা এই ধান থেকে চাল তৈরি করা অসম্ভব ব্যাপার। পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়েছে সবজি চাষীরা। বিভিন্ন এলাকায় পটল মাচা ভেঙে পড়েছে সব মিলিয়ে করোনা অবহের মধ্যে ‘আমফান’ চাষীদের ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়াও একাধিক জায়গায় ঝড়ের দাপটে গাছ উপড়ে পড়েছে রাস্তার উপর। রাতের অন্ধকারে সেই গাছ সরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল সাধারণ মানুষ এবং পাত্রসায়ের নারায়ণপুরে বেশ কয়েকটি মাটির বাড়িতে ফাটল ধরেছে এবং বাড়ির চালা ঝড়ের তাণ্ডবে উড়ে গিয়েছে তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিছু মানুষ বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অসহায় সাধারণ মানুষ। স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় পরিবারগুলিকে কাছাকাছি সরকারি স্কুলে রাখা হয়েছে। সোনামুখীর নিত্যানন্দপুর এর জয়দেব বিশ্বাস শ্যামল দাস নামের চাষিরা বলেন , লকডাউনে এমনিতেই সবজির দাম পায়নি তার ওপর ‘আমফানের’ প্রভাবে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হলো । এই ধান থেকে আর চাল তৈরি করা সম্ভব নয় । এখন ছেলে মেয়েদের নিয়ে কিভাবে সংসার চলবে তাই ভেবে কুল পাচ্ছিনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here