জন্ম জন্মান্তর এর সঞ্চিত পাপের থেকে মুক্তি পেতে চান? তাহলে অবশ্যই পড়ুন

0
1020

এই বাংলায় ডেস্কঃ- কর্মফল এমনই এক জিনিস যা থেকে কেউই সহজে মুক্ত হতে পারে না। স্বয়ং ব্রহ্মা কেও কর্মফলের দরুন মানব জন্মগ্রহণ করতে হয়েছিল। তিনি হয়েছিলেন হরিদাস ঠাকুর ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করে যবন গৃহে প্রতিপালিত হয়েছিলেন শুধুমাত্র তাঁর অহংকারের কারণে। এখন কর্মফল থেকে যদি সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা সহজে মুক্ত হতে না পারেন তাহলে আমরা সাধারণ মানুষ কি করে ভেবে নেই যে ঠাকুরকে চাল কলা দিয়ে একটু পুজো করলেই আমরা জন্ম-জন্মান্তরের কর্মফল থেকে মুক্ত হয়ে যাব? কি করে ভেবে নিই যে বছরে একদিন পুজো দিয়েই সারা জীবনের পাপ থেকে মুক্তি পেয়ে যাব?কিন্তু পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ গীতাতে এর উপায় ও বলেছেন। কলিকালে মানুষের জন্য কোনো যঞ্জের বিধান দেওয়া নেই। কলিকালে মানুষদের বদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি লাভের জন্য শ্রীকৃষ্ণ কতকগুলি পন্থা বলেছেন। তার মধ্যে অন্যতম যেটি সেটি হল অহংকার কে ত্যাগ করা। কিন্তু এই অহং কে ত্যাগ করা কি এতই সহজ? আপনি কি পারবেন যে আপনার ক্ষতি করছে তাকে হাসিমুখে ক্ষমা করতে? আপনি কি পারবেন ঘৃণা পেয়েও ভালোবাসা দিতে? আপনি কি পারবেন সমস্ত কষ্ট দুঃখ সহ্য করে দিনের শেষে একমুখ হাসিতে সবকিছু ভুলিয়ে দিতে?এমনটা আমরা সহজে পারিনা কিন্তু একজন প্রকৃত বৈষ্ণব একজন কৃষ্ণভক্ত তা পারেন খুব সহজেই। কারণ কৃষ্ণভক্ত নিজেকে তুচ্ছ মনে করেন তৃণের মতো। তিনি জন্ম-জন্মান্তর সম্পর্কে জানেন আর জানেন এখন তিনি যত দুর্গতির মধ্যেই যান না কেন তার কারণ তিনি নিজেই। কৃষ্ণ ভক্ত যখন খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যান তখন তার জন্য তিনি নিজের পূর্বজন্ম কে দায়ী করেন আর যখন তার জীবনে সুখ আসে তখন সেই সুখ টুকু কে তিনি পরমেশ্বর শ্রী কৃষ্ণের কৃপা বলে মনে করেন। কৃষ্ণভক্ত জানেন যে প্রকৃতপক্ষে তার জন্ম-জন্মান্তরের পাপ কর্মের বদলে শ্রীকৃষ্ণ তাকে অনেক অংশে কম কষ্ট দিয়ে থাকেন তাই তিনি সবসময় শ্রীকৃষ্ণের অনুগত হয়ে থাকেন। তাই যদি আপনি চান জন্ম-জন্মান্তরের কর্মফল থেকে মুক্ত হতে তাহলে সবার আগে নিজের অহং কে ত্যাগ করুন। আর মন থেকে শ্রদ্ধার সঙ্গে “হরে কৃষ্ণ” মহামন্ত্র জপ করুন। হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করতে থাকলে একটা সময় এর পর আপনার মন এমনি শান্ত হয়ে যাবে। একটা সময় দেখবেন আপনার মন থেকে যাবতীয় রাগ বিদ্বেষ হিংসা ধুয়ে মুছে গেছে। হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রের ক্ষমতা এমনই যে এই মন্ত্র জপ করলে মানুষের মধ্যে থাকা যাবতীয় নেতিবাচক জিনিস দূরে সরে চলে যায়। এই মন্ত্র যদি আপনি জোরে জোরে উচ্চারণ করেন তাহলে আপনার ঘরের মধ্যেকার মানুষগুলোর মানসিকতাও বদলে যাবে। মানুষের মধ্যে শুভবোধ জাগ্রত হয় এই মন্ত্রের ফলে। মানুষের জন্ম-জন্মান্তরের পাপ ক্ষয় হতে থাকে। কলিকালের মানুষদের কর্মফল থেকে মুক্তির জন্য শ্রীকৃষ্ণ তাঁর এই নামমন্ত্র উচ্চারণ এর কথা বলে গেছেন। তাই মন থেকে বলুন- হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here