বেআইনী কয়লা খাদান বন্ধে আসানসোলের পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপ চাইল খনি কর্তৃপক্ষ

0
3681

সংবাদদাতা, আসানসোলঃ- অবৈধ কয়লা কারবার বন্ধের জন্য রাজ্য পুলিশের সাহায্য চাইল রাষ্ট্রায়ত্ব খনি কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রায়ত্ব ভারত কোকিং কোল (বি.সি.সি.এল) আসানসোলের পুলিশ কমিশনারের কাছে এ নিয়ে একটি অভিযোগ পাঠায়। তাতে বলা হয় – বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা দামাগড়িয়া খাদান থেকে নিয়মিত কয়লা লুঠ চলছে। আর তা বন্ধ করতে রাজ্য পুলিশের সক্রিয় সাহায্য দরকার।
রাষ্ট্রায়ত্ব খনি সংস্থা ইস্টার্ন কোলফিল্ডস(ই.সি.এল)এবং বি.সি.সি.এলের বিভিন্ন এলাকা থেকে বে আইনী ভাবে কয়লা খনন ও পরিবহন নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত ৩০ বছর ধরে রানীগঞ্জ কয়লাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় সুড়ঙ্গঁ কেটে কয়লা চোরেরা জাতীয় সম্পদ লুঠ করে আসছে অবাধে। বহু ক্ষেত্রে পুলিশও কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী(সি.আই.এস.এফ) এবং ওই দুই রাষ্ট্রায়ত্ব খনি সংস্থার আধিকারিকদের একাংশের যোগ সাজসে বেআইনী কয়লার কারবার যাকে বলে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ পায়। প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার কয়লা লুঠ নিয়ে বারে বারে সরব হয় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও। আসানসোলের কুলটি, বারাবনি, জামুড়িয়া, রানীগঞ্জ, সালানপুর এবং আসানসোল(উত্তর)থানা এলাকাগুলিতে অবৈধ কয়লা কারবার সংগঠিত ভাবে জাঁকিয়ে বসে সময়ের সাথে সাথে। পুলিশ আর কোল-মাফিয়ার আঁতাত চলে আসে প্রকাশ্যে। কোল-মাফিয়াদের পছন্দ মাফিক কয়লা সম্বৃদ্ধ থানা গুলিতে ওসি পোষ্টিং ও ক্রমে একটি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রথম গুরুত্ব দেন বে আইনী কয়লা কারবার বন্ধ করার বিষয়ে। আসানসোলের পুলিশি ব্যবস্থাকে শক্তপোক্ত করার জন্য গঠন করা আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বারে বারে ঘোষনা করেন, পুলিশ কমিশনারেটের মুখ্য কাজই হবে বে আইনী কয়লা খনন বন্ধ করা।
সেই কমিশনারেট গঠনের সাত বছর পর, একটি রাষ্ট্রায়ত্ব খনি কর্তৃপক্ষ কয়লা লুঠ বন্ধ করতে পুলিশি সাহায্য চাওয়ায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে কমিশনারেটের ঘোষিত লক্ষ্য।
গত ১৩ অক্টোবর আসানসোলের কুলটি থানা এলাকার আল্লাডিহি গ্রামে একটি পরিত্যক্ত খাদানে কয়লা চুরি করতে গিয়ে আটকে পড়ে গ্রামের তিন যুবক-কালীচরন কিস্কু, সন্তোষ মারান্ডি আর বিনয় মুরমু। তিনদিন পর জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর(এন.ডি.আর.এফ)র উদ্ধারকারী দল, খাদানের পাথর কেটে ওই তিন যুবকের পচা-গলা দেহ উদ্ধার করে। কয়লা চুরি নিয়ে ফের শোরগোল পড়ে যায়। আল্লাডিহি গ্রামের ওই খাদানটি ই.সি.এলের নিয়ন্ত্রনাধীন।
এদিকে, পুলিশ- ই.সি.এলের উতোর চাপানোর মাসেই অন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা বি.সি.সি.এলের একটি সরকারি চিঠি ফের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে পুলিশ কমিশনারেট কে। বি.সি.সি.এলের চাঁচ ভিক্টোরিয়া এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শঙ্কর দাস আসানসোলের পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়ে জানান, কুলটির দামাগড়িয়া বিস্তর অবৈধ কয়লা খাদান চলছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বরের ওই চিঠিতে ওই আধিকারিক বলেন, “খুব শিঘ্রই দামাগড়িয়ায় সরকারি ভাবে কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু করবে বি.সি.সি.এল। তার আগে অবৈধ খাদানগুলি বন্ধ করা প্রয়োজন”। যদিও, বি.সি.সি.এলের ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখনো পর্যন্ত কার্যতঃ নীরব আসানসোলের পুলিশ কমিশনার দেবেন্দ্র প্রকাশ সিংহ। দামাগড়িয়ায়, চিঠি দেওয়ার দু’মাস পরেও শুরু হয়নি পুলিশি ধরপাকড়। তারই মাঝে কুলটিতেই খাদানে কয়লা কাটতে গিয়ে মারা গেল তিন আদিবাসী যুবক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here