দুর্গাপুরে নেশা মুক্তি কেন্দ্র এর নেশাগ্রস্ত মালিকের অত্যাচারে জর্জরিত নেশা মুক্তি কেন্দ্র আবাসিকরা

0
1102

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:- নেশা মুক্তি কেন্দ্রের নাম করে বেআইনিভাবে বিনা ট্রেড লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই রমরমিয়ে দুর্গাপুর ভিরিঙ্গি এলাকায় চলছে বহুদিন ধরেই একটি নেশা মুক্তি কেন্দ্র। নেশা মুক্তি কেন্দ্রটির মালিক নেশাগ্রস্ত এক ব্যক্তি যার নাম কল্যাণ মুখার্জি । আদতে আসানসোলের কাছে কুলটির বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও দুর্গাপুরে ঘাঁটি গেড়ে এই অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছেন তিনি বহু দিন ধরেই বলে অভিযোগ ।

দুর্গাপুর উদ্যোগ ফাউন্ডেশন নামক এই সংস্থাতে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলে বহুদিন ধরেই চলছে এই অবৈধ ব্যবসা বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এই নেশা মুক্তি কেন্দ্রটি মূলত কল্যাণ মুখার্জি ও তার স্ত্রী মাম্পি মুখার্জি চালান বলে জানা গেছে। বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ড্রাগ এডিক্ট নেশাখোর মানুষরা এই সেন্টারে এসে তাদের চিকিৎসা করান বলে জানা গেছে। এই কেন্দ্রটিতে প্রায় ৩৫ জন নেশাগ্রস্ত আবাসিকের ডি অ্যাডিকশন করা হয় বলে জানা গেছে। নেশাগ্রস্ত ওই আবাসিকদের অভিযোগ তাদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালান কল্যাণ মুখার্জি এবং তার স্ত্রী মাম্পি মুখার্জি । চিকিৎসার নামে প্রায় প্রতিদিন রাত্রেই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কল্যাণ মুখার্জি মারধর করেন ও গায়ে সিগারেটের ছ্যাকা দেন আবাসিকদের বলে জানা গেছে।

ভিরিঙ্গি এলাকার একটি আবাসিক বাড়িকে ভাড়া করে চলছে এই অবৈধ ব্যবসা। এলাকার কাউন্সিলরের কাছে এই বিষয়ে কয়েকবার অভিযোগ জানানোর পর এলাকার কাউন্সিলর ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন কিছুদিন আগে। কিন্তু তারপরও রমরমিয়ে চলছে এই নেশা মুক্তি অবৈধ কেন্দ্রটি । এই নেশা মুক্তি কেন্দ্রের বেশ কয়েকজন আবাসিক জানিয়েছেন সিটি সেন্টারের কবিগুরু তে অবস্থিত একটি ওষুধের দোকানের ভুয়া মেডিকেল বিল দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওষুধের নামে শুধু একটি করে ওষুধ তাদের দেওয়া হয়েছে, তার বদলে তাদেরকে হাতে পায়ে দড়ি বেঁধে খাটের সাথে ফেলে রাখা হতো দীর্ঘদিন ধরে অনাহারে।

এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন যে সন্ধ্যা নামলেই সেখানে বহিরাগত লোকজনদের আনাগোনা বেড়ে যেত, চলত রাত পর্যন্ত, পাওয়া যেত চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ। সহজেই অনুমান করা যায় যে ওই কেন্দ্রের ভেতরে রহস্যজনক কিছু চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীর একাংশও দাবি করেছেন যে কল্যাণ মুখার্জি বকলমে একটি ড্রাগ মাফিয়া চক্র চালান ওই বাড়ি থেকে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আগন্তুকরা ওই ঘরে এসে তাদের মালপত্র দিয়ে যায় এবং এইখান থেকেই তা সরবরাহ করা হয় গোটা শহর জুড়ে। এমতো অবস্থায় আবাসিকরা তাদের অভিযোগ জানাতে গেলে তাদের ওপর চলে অকথ্য অত্যাচার। কল্যান মুখার্জীর স্ত্রী মাম্পি মুখার্জি তার এক আত্মীয় পুলিশের বড় কর্তা বলে লোককে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখার নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যান এলাকায় ও চিকিৎসা করাতে আশা নেশাগ্রস্ত পরিবারগুলিকে বলে অভিযোগ । কিন্তু গত দু’দিন ধরে তাদের সেই কর্মকাণ্ডের কথা ফাঁস হয়ে যায় জনসমক্ষে। তারপরেই তড়িঘড়ি আবাসিকদের ডিস চার্জ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয় মাম্পি মুখার্জি ও কল্যাণ মুখার্জির পক্ষ থেকে। সমস্ত আবাসিকদের পরিবারবর্গ কে জরুরী ভিত্তিতে ডেকে তাদের লোকজনদের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করতে থাকেন মাম্পি মুখার্জি ও কল্যাণ মুখার্জি বলে জানা গেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছে কোন অভিযোগ জমা পড়ার খবর এখনো পাওয়া যায়নি। ওই নেশা মুক্তি কেন্দ্রের মালিক নেশাগ্রস্ত কল্যাণ মুখার্জির শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ইতিমধ্যেই জালারই একটি ডি অ্যাডিকশন সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে বলে জানা গেছে। সূত্রটি আরো জানায় পরিস্থিতির অবনতি হলে তাকে কলকাতাতেও স্থানান্তরিত করা হতে পারে। এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেছেন এইরকম অবৈধ নেশা মুক্তি কেন্দ্রের নাম করে বিভিন্ন সময় দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে অনেক রকম অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে, তাই তাদের এলাকা থেকে অবিলম্বে এই নেশা মুক্তি কেন্দ্রটি কে সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে বলে জানা গেছে। স্থানীয় পৌরসভা ও পুলিশের ভূমিকাতেও মানুষের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে কারণ বিনা ট্রেড লাইসেন্স বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কি করে ভিরিঙ্গির মতন একটি জনবহুল এলাকায় এতদিন ধরে চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here