ডিপিএল আবাসনে বে-আইনি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার, গাড়ি ফেলে রেখে গেছে কোয়ার্টারের সামনে বহিরাগতরা

0
2322

সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- কোক-ওভেন থানা এলাকায় ডিপিএল কর্মচারী আবাসনের সিএন-৪৬ কোয়ার্টারকে মোটা অংকের নগদ টাকার বিনিময়ে কোয়ারিন্টাইন সেন্টার বানানোর অনুমোদন দেবার অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের।

করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যখন সারা রাজ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্গাপুর শহরেও। ঠিক তখনই সরকারী সম্পত্তি হাজার হাজার টাকার বিনিময়ে কোয়ারিনটাইন সেন্টার বানানোর অনুমোদন দিয়েছেন ডিপিএলের টাউন প্রশাসনের কর্মকর্তা আর পি অগস্তী। এই অভিযোগ জানা জানি হতেই শনিবার দুপুর থেকে সংস্থার প্রায় শতাধিক কর্মচারী সতস্ফূর্ত ভাবে ডিপিএলের প্রশাসনিক ভবনে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের বিবরন অনুযায়ী, তিনজন মহিলা একসপ্তাহের বেশি ওই আবাসনে আবদ্ধ রয়েছেন। দু-জন বহিরাগত এদের খাবার সরবরাহ করছেন। প্রতিবেশীরা দেখার পর সন্দেহ বশতঃ খবর নিতে গিয়ে জানতে পারেন, সন্দেহ ভাজন বহিরাগত করোনা আক্রান্ত রোগীদের এই আবাসন ভাড়া দিয়েছেন
ডিপিএলের টাউন কর্তৃপক্ষ। করোনা পজিটিভ নিয়ে আইসোলেশনে ছিল বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ডিপিএল টাউন কর্তৃপক্ষের অভিযুক্ত আধিকারিক শ্রী অগস্তী অবশ্য এবিষয়ে অভিযোগকারীদের বক্তব্য গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই অস্থায়ী ভিত্তিতে অ্যালটমেন্ট দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এই খবর জানাজানি হতেই ডিপিএল কর্মচারী আবাসন এলাকা ছাড়িয়ে খবরটা সমগ্র দুর্গাপুর শহরের আপামর জনসাধারণের মধ্যে যথেষ্ট আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষের ওই আধিকারিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারদের সংগঠন, এনার্জি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন। ডিপিএলের প্রশাসনিক অধিকর্তা তন্ময় মন্ডল অবশ্য এবিষয়ে কিছুই জানেন না বলে অভিযোগকারিদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। অ্যাসোসিয়েশন ও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, একঘন্টার মধ্যে আবাসনের বে-আইনি ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ না করলে, কর্মচারীরা পুলিশ ও মহকুমা প্রশাসনের সহায়তা চাইবেন। যদিও কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে দ্রুত আবাসন খালি করে কোয়ারিনটাইন তুলে দেওয়া হয়। একটি গাড়ি ফেলে রেখে গেছে কোয়ার্টার এর সামনে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মোটর ভিকেল রেজিস্ট্রেশন পোর্টাল থেকে জানা গেছে গাড়ির মালিক আনন্দ রুইদাস।

এদিকে টাউন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ডিপিএলের আবাসন অনৈতিক ভাবে কাজে লাগানোর আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। নিয়মিত লোকসানের বোঝা ঠেলতে প্রকল্পের যখন নাভিশ্বাস উঠেছে। ঠিক তখনই উপনগরীর এ-জোন, বি-জোন ও সি-জোন এলাকায় সংস্থার প্রায় পাঁচশো আবাসন বে-আইনী ভাবে ভাড়া খাটানো হচ্ছে। তাদের বিদ্যুৎ ও জলের বিল পর্যন্ত আদায় করা হয় না। অনেকগুলি খালি পড়ে থাকা আবাসনে প্রতিনিয়ত রাতের অন্ধকারে বে-আইনি কাজকর্ম চলে বলে প্রতিবেশীদের অভিযোগ। কর্তৃপক্ষ সব জেনেও এবিষয়ে পদক্ষেপ না নেবার ফলে ক্ষোভ বাড়ছে। সর্বোপরি, বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মচারী আবাসন এলাকা ভাড়া দিয়ে কোয়ারান্টাইন সেন্টার গড়ে তোলার এই দায়িত্ব জ্ঞানহীন কাজকে শহরবাসী ভালো চোখে দেখছেন না কেউ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here