১৪ মে অক্ষয় তৃতীয়া,জেনে নিন এই তিথির তাৎপর্য কী

0
489

সংগীতা চৌধুরী, বহরমপুরঃ- চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিকে অক্ষয় তৃতীয়া বলা হয় সনাতন হিন্দু ধর্মে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তিথি। ২০২১ সালে ১৪মে শুক্রবার হলো অক্ষয় তৃতীয়া পড়েছে। অক্ষয় শব্দের অর্থ হলো যা কখনো ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। তাই বৈদিক শাস্ত্রে বলা হয় যে এই পবিত্র তিথিতে করা যেকোনো শুভকর্ম সবসময় অক্ষয় হয়ে থাকে। অন্যদিকে এই তিথিতে করা পাপ কর্ম‌ও অক্ষয় হয়ে থেকে যায়।

অক্ষয় তৃতীয়ার তাৎপর্য

ক। বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম এই ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন অক্ষয় তৃতীয়ার দিন।

খ। রাজা ভগীরথ গঙ্গা দেবীকে মর্ত্যে আনয়ন করেছিলেন অক্ষয় তৃতীয়ার দিন।

গ। এইদিনই বিঘ্নহর্তা গনেশে বেদব্যাসের মুখনিঃসৃত বাণী শুনে মহাভারত রচনা শুরু করেন।

ঘ। মর্ত্য লোকে এইদিন দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব ঘটে।

ঙ। সত্যযুগের শেষ হয়ে ত্রেতাযুগের শুরু হয় এই দিন থেকেই।

চ। কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে এইদিন‌ই শিব কুবেরকে অতুল সম্পদ দান করেন। এইকারণে এইদিন লক্ষ্মীদেবীর পুজো করার কথা বলা হয়।

ছ। এইদিন সুদামা শ্রী কৃষ্ণের সাথে দ্বারকায় গিয়ে দেখা করেন ও তাঁর থেকে সামান্য চালভাজা গ্রহণ করে শ্রী কৃষ্ণ তাঁর সকল দুঃখ মোচন করেন। এছাড়া এইদিনই দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের লজ্জা থেকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাকে রক্ষা করেন।

জ। পুরীধামে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রথ নির্মাণ শুরু হয় এই তিথি থেকে।

ঞ। কেদার বদরী গঙ্গোত্রী যমুনেত্রীর যে মন্দির ছয়মাস বন্ধ থাকে এইদিনেই তার দ্বার উদঘাটন হয়। দ্বার খুললেই দেখা যায় সেই অক্ষয়দ্বীপ যা ছয়মাস আগে জ্বালিয়ে আসা হয়েছিল।

অক্ষয় তৃতীয়ার দিন কী কী করণীয়?

১) এইদিন সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে ইষ্ট দেবতার আরাধনা করুন।

২) কোনরকম পাপ কাজে লিপ্ত হবেন না, কারোর প্রতি অন্যায় আচরণ করবেন না।

৩) সকলকে যথাসাধ্য দান ধ্যান করার চেষ্টা করুন।কটু কথা মুখ থেকে বার করবেন না।

৪) গুরুজনদের সাথে ও বাড়ির প্রতিটি সদস্যের সাথে ভালো রকম ব্যবহার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here