অক্ষয় তৃতীয়াতে কী করা উচিত আর কী নয় ? অক্ষয় তৃতীয়ার গুরুত্বই বা কী

0
1285

বহরমপুর থেকে সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- সামনেই আসছে অক্ষয় তৃতীয়া। কিন্তু এই অক্ষয়তৃতীয়া তিথি টি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ও এই তিথিতে কী করা উচিত চলুন জেনে নিই-

আমরা সবাই জানি যে আগামী ২৬/৪/২০২০ তারিখ অক্ষয় তৃতীয়া। এই দিন একটি শুভ তিথি।তাই এই তিথি তে যে যে ধর্মের মানুষ আছেন প্রত্যেকেই নিজ নিজ ইষ্ট দেবের শরণাপন্ন হোন। এবং এইদিন হিংসা জনিত কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকুন। অর্থাৎ নিরামিষ খাদ্য দ্রব্য গ্রহণ করুন।যেহেতু এখন লকডাউন চলছে তাই‌ সকলেই ঘরে থেকে ধর্ম পালন করুন।দয়া করে কেউ মন্দির বা মসজিদে যাবেন না।ঈশ্বর অথবা আল্লাহ সর্বত্র ই বিরাজ মান।আপনি ঘরে থেকেই ‌সেই মহান সৃষ্টিকর্তার অলৌকিক মহিমা স্মরণ করুন।

আমি লক্ষ করে দেখেছি অক্ষয়তৃতীয়া আসলে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পর্কে‌ কারোর ই সেরকম ধারণা নেই।তাই আজ আমি এই অক্ষয় তৃতীয়া র দিন জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে কী করা উচিত তাই বলবো আর তারপরে বলবো কেন এই অক্ষয় তৃতীয়া কে এত শুভ হিসেবে মানা হয়?

অক্ষয় তৃতীয়া আসলে কী?

অক্ষয় তৃতীয়া হল চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি। অক্ষয় শব্দের অর্থ হল যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। বৈদিক বিশ্বাস অনুসারে এই পবিত্র তিথিতে কোন শুভকার্য সম্পন্ন হলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে।

এইদিন কী করবেন আর কী করবেন না?জেনে নিন-

১।যদি ভালো কাজ করা হয় তার জন্যে আমাদের লাভ হয় অক্ষয় পূণ্য আর যদি খারাপ কাজ করা হয় তবে লাভ হয় অক্ষয় পাপ। তাই এদিন খুব সাবধানে প্রতিটি কাজ করা উচিত।
২।খেয়াল রাখতে হবে এদিনে ভুলেও যেন কোনো খারাপ কাজ হয়ে না যায়।
৩।কখনো যেন কটু কথা না বেরোয় মুখ থেকে।
৪।কোনো কারণে যেন কারো ক্ষতি না করে ফেলি বা কারো মনে আঘাত দিয়ে না ফেলি।
৫।তাই এদিন যথাসম্ভব মৌন থাকা জরুরী।
৬।এদিন পূজা, জপ, ধ্যান, দান, অপরের মনে আনন্দ দেয়ার মত কাজ করা উচিত।
৭।যেহেতু এই তৃতীয়ার সব কাজ অক্ষয় থাকে তাই প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হয় সতর্কভাবে।

অক্ষয়তৃতীয়ারগুরুত্ব –
১) এদিনই বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম জন্ম নেন পৃথিবীতে।
২) এদিনই রাজা ভগীরথ গঙ্গা দেবীকে মর্ত্যে নিয়ে এসেছিলেন।
৩) এদিনই গণপতি গণেশ বেদব্যাসের মুখনিঃসৃত বাণী শুনে মহাভারত রচনা শুরু করেছিলেন।
৪) এদিনই দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব ঘটে।
৫) এদিনই সত্যযুগ শেষ হয়ে ত্রেতাযুগের সূচনা হয়।
৬) এদিনই কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেন। এদিনই কুবেরের লক্ষ্মী লাভ হয়েছিল বলে এদিন বৈভব-লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।
৭) এদিনই সুদামা দ্বারকায় গিয়ে শ্রীকৃষ্ণের সাথে দেখা করেন এবং তাঁর থেকে সামান্য চালভাজা নিয়ে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সকল দুঃখ দূর করে দেন।
৮) এদিনই দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করতে যান এবং সখী দ্রৌপদীকে রক্ষা করেন শ্রীকৃষ্ণ।
৯) এদিন থেকেই পুরীধামে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রথ নির্মাণ শুরু হয়।
১০) কেদার বদরী গঙ্গোত্রী যমুনত্রীর যে মন্দির ছয়মাস বন্ধ থাকে এইদিনেই তার দ্বার উদঘাটন হয়। দ্বার খুললেই দেখা যায় সেই অক্ষয়দীপ যা ছয়মাস আগে জ্বালিয়ে আসা হয়েছিল।
১১) এদিনই সত্যযুগের শেষ হয়ে ত্রেতা যুগ শুরু হয়।
১২) এইদিন থেকে চন্দন যাত্রা শুরু।

সকলেই এইদিন নিজ‌নিজ ঘরে থেকে মহান সৃষ্টিকর্তার কথা স্মরণে রেখে যৎকিঞ্চিৎ দান করুন।গরীব মানুষদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।কেউ যদি আর্থিক ভাবে এতোটা সক্ষম না হন তাহলে অন্তত রাস্তার অবলা অসহায় পশুদের কিছু খাওয়ান।একটা কথা মনে রাখবেন আপনি কাউকে কৃপা করছেন না।মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ‌ কৃপাতেই আপনি এখনো সুস্থ আছেন এবং কাউকে কিছু দিতে সক্ষম হচ্ছেন।এ সব ই তাঁর কৃপা।তাই ঘরে থেকেই তাঁর নাম গান করুন।কৃপা করে সকলে লকডাউন মেনে চলুন।ঘরে থাকুন।অযথা‌ ঘরের বাইরে বেরোবেন না।মাথায় রাখবেন যা আমাদের ধারণ করে তাই হলো ধর্ম।আর এই সময় দেশ জাতির স্বার্থে ঘরে থাকলেই আপনি নিজের এবং সকলের মঙ্গল সাধন করতে পারবেন তাই এই মুহূর্তে এটাই আমাদের ধর্ম।ঘরে থাকা এবং ঘরের মধ্যে থেকেই আশেপাশের মানুষ গুলোর দিকে সহযোগিতা র হাত বাড়িয়ে দেওয়া। দূরত্ব বজায় রাখুন সামাজিক ভাবে। দূরত্ব যেন মানসিক না হয়।চলুন এই অক্ষয় তৃতীয়া তে আমরা সকলে মিলে পার্থনা করি আমাদের পৃথিবী সুস্থ হয়ে উঠুক।আবার হেসে খেলে মেতে উঠুক আমার দেশ।সকলের সুস্থতা কামনা করি আমরা।কারণ একা আমরা বাঁচতে পারবোনা।তাই এই সমাজ এই জেলা এই রাজ্য এই দেশ আমাদের এবং সর্বোপরি এই পৃথিবী সুস্থ হয়ে উঠুক এই প্রার্থনাতেই আমরা আবার মনে মনে এক হয়ে যাই।ভালো থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here