আজকের তিথিতে শ্রদ্ধাযুক্ত মনে পাঠ করলে অমঙ্গল কেটে যাবে

0
549

এই বাংলায় ওয়েব ডেস্কঃ- আজ কামদা একাদশী। আজকের দিনে এই কামদা একাদশীর মাহাত্ম্য পড়লে পূণ্যফল লাভ হয়।চলুন জেনে নিই এই মাহাত্ম্য কথা যা শ্রবণেও পূণ্য হয়- চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের কামদা একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য বরাহপুরাণে বর্ণিত হয়েছে মহারাজ যুধিষ্ঠির বললেন-হে বাসুদেব! আপনি কৃপা করে আমার কাছে চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর মহিমা কীর্তন করুন।

শ্রীকৃষ্ণ বললেন-হে মহারাজ! এই একাদশী ব্রত সস্পর্কে এক বিচিত্র কাহিনী বর্ণনা করছি আপনি একমনে তা শ্রবণ করুন পূর্বে মহর্ষি বশিষ্ঠ মহারাজ দিলীপের কৌতূহল নিবারণের জন্য এই ব্রতকথা কীর্তন করেছিলেন। ঋষি বশিষ্ঠ বললেন-হে মহারাজ! চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের একাদর্শীর নাম কামদা এই তিথি পাপনাশক ও পুণ্যদায়িনী।

পূর্বকালে মনোরম নাগপূরে স্বর্ণনির্মিত গৃহে বিষধর নাগেরা বাস করত। তাদের রাজা ছিলেন পুণ্ডরীঁক গর্ন্ধব কিন্নরও অপ্সরাদের দ্বারা তিনি সেবিত হতেন। সেই পূরীমধ্যে অপ্প্সরা শ্রেষ্ঠ ললিতা ও ললিত নামে গন্ধর্ব স্বামী-স্ত্রী রূপে ঐশ্বর্য্যপূর্ণ এক গূহে পরম সুখে দিনযাপন করত। একদিন পুণ্ডরীকের রাজসভায় ললিত একা গান করছিল। এমন সময় ললিতার কথা তার মনে পড়ল ফলে সঙ্গীতের স্বর-লয়-তাল- মানের বিপর্যয় ঘটল। কর্কটক নামে এক নাগ ললিতের মনোভাব বুঝতে পারল। গানের ছন্দভঙ্গের ব্যাপারটি সে পূণ্ডরীক রাজার কাছে জানাল। তা শুনে সর্পরাজ ক্রোধভরে কামাতুর ললিতকে-‘রে দুর্মতি! তুমি রাক্ষস হও
বলে অভিশাপ দান করল। সঙ্গে সঙ্গে সেই ললিত ভযঙ্কর রাক্ষসমুর্তি ধারণ করল। তার হাত দশ যোজন বিস্তৃত, মুখ পর্বত গুহাতূল্য, চোখ দুটি প্রজ্বলিত আণ্ডনের মতো, ঊর্ধ্বে আট যোজন বিস্তৃত প্রকাণ্ড এক শরীর সে লাভ করল।

ললিতের এরকম ভয়ঙ্কর রাক্ষস শরীর দেখে ললিতা মহাদুঃখে চিন্তায় ব্যাকূল হলেন।স্বেচ্ছাচারী রাক্ষস ললিত দুর্গম বনে ভ্রমণ করভে লাগল। ললিতা কিন্তু তার সঙ্গ ত্যাগ করল না। ললিত নির্দয়ভাবে মানুষ ভক্ষণ করত। এই পাপের ফলে তার মনে বিন্দুমাত্র শান্তি ছিল না।পতির সেই দুরাবস্হা দেখে ব্যাথিত চিত্তে রোদন করতে করতে ললিতা গভীর বনে প্রবেশ করল। একদিন ললিতা বিগ্ধ্যপর্বতে উপস্হিত হল। সেখানে ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির আশ্রম দর্শন করে মুনির কাছে হাজির হল। তার চরণে প্রণাম করে সেখানে দাঁড়িয়ে রইল।

মুনিবর জিজ্ঞাসা করলেন- -হে সুন্দরী! তুমি কে, কার কন্যা, কি কারণেই বা এই গভীর বনে এসেছ? তা সত্য করে বল। তদুত্তরে ললিতা বলল-হে প্রভু! আমি বীরধন্যা গন্ধর্বের কন্যা। আমার নাম ললিতা। আমার পতির পিশাচত্ব দূর হয় এমন কোন উপায় জানবার জন্য এখানে এসেছি। তখন ঋষি বললেন-চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের কামদা নামে যে একাদশী আছে, তূমি সেই ব্রত যথাবিধি পালন কর। এই ব্রতের পূণ্যফল তোমার স্বামীকে অর্পণ করলে তৎক্ষণাৎ তার সমস্ত পাপ বিনষ্ট হবে।

বশিষ্ঠ ঋষি বললেন-হে মহারাজ দিলীপ! মুনির কথা শুনে ললিতা আনন্দ সহকারে কামদা একাদশী পালন করল। তারপর ব্রাহ্মণ ও বাসুদেবের সামনে পতির উদ্ধারের জন্য-আমি যে কামদা একাদশীর ব্রত পালন করেছি, তার সমস্ত ফল আমার পতির উদ্দেশ্যে অর্পণ করলাম। এই পূণ্যের প্রভাবে তাঁর পিশাচত্ব দূর হোক । এই কথা উচ্চারণ মাত্রই ললিত শাপ মূক্ত হয়ে দিব্য দেহ প্রাপ্ত হল।

পূনরায় গন্ধর্ব দেহ লাভ করে ললিতার সাথে সে মিলিত হল। তারা বিমানে করে গন্ধর্বলোকে গমন করল। হে মহারাজ দিলীপ এই ব্রত যত্নসহকারে সকলেরই পালন করা কর্ত্তব্য।এই ব্রত ব্রহ্মহত্যা পাপ বিনাশক এবং পিশাচত্ব মোচনকারী। এই ব্রত কথা শ্রদ্ধাপুর্বক পাঠ ও শ্রবণে বাজপেয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here