‘ভীম পুলিশে’র থানায় এবার সেন্টু’র দেদার লোহা পাচার, সগড়ভাঙ্গাঁ য়। দেখুন ভিডিও

0
1963

অমল মাজি, দুর্গাপুরঃ- ফের লোহা পাচারের হদিশ, ফের সেই ‘ভীম-পুলিশে’র কোকওভেন থানা এলাকাতেই। তবে, এবার রেলের জল চলাচলের পুল ব্যবহার করে, সরকারী জমিতে। এখানকার কোকওভেন থানা এলাকার নামো সগড়ভাঙ্গাঁ গ্রামের গায়েই গজিয়ে উঠেছে চোরাই লোহার কাঁটা। গ্রামের ছেলে, বুড়ো সবাই জানে, তবে জানে না নাকি শুধু পুলিশ!! প্রশ্ন, পুলিশ জানে না- নাকি মানে না? দিন-রাত নামো সগড়ভাঙ্গাঁ’র কাঁটা টিতে অনবরত লোহা চোরেরা ঢুকছে, বেরুচ্ছে বুক ফুলিয়ে, মিছিল করে। গ্রামের লোকের অভিযোগ, “পুলিশের সাথে যোগ সাজশ করেই চলে সব”।


নামো সগরভাঙ্গাঁ গ্রামটির গা ঘেঁষে চলে গেছে পন্যবাহী রেল লাইন। বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা হিন্দুস্তান ফার্টিলাইজার আর এখনকার জয় বালাজি ইস্পাত কারখানার পন্য পরিবহণের সুবিধার জন্য পাতা রেল লাইনের তলায় খালের জল ও স্থানীয় গ্রাফাইট ইন্ডিয়া কারখানার বর্জ্য নিকাষী নালার জল পারাপারের জন্য রয়েছে ‘ওয়াটার পাস’। সেই ওয়াটার পাসটি এখন জল পারাপারের কাজে নয়, ব্যবহার হয় চোরাই লোহা কারবারের কাঁটা হিসেবে। তদন্তে জানা গেছে, সেন্টু শেখ নামে এক লোহা কারবারি, ওই ওয়াটার পাস টির দুটি মুখ বন্ধ করে তার ডেরা বানিয়েছে। বানিয়ে ফেলেছে একটি পাকাপোক্ত রাস্তাও। ওয়াটার পাসের মুখে বসানো হয়েছে শক্তপোক্ত লোহার গেট। গেট পেরোলেই বিশালাকার চোরাই লোহার গো ডাউন। কি নেই সেখানে- ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চোরাই কাটিং করা রেল লাইন, চুরি করে জড়ো করা টিন, রড, বিকল যন্ত্রাংশ-যেন বিশ্বকর্মার জ্যান্ত ওয়ার্কশপ! তদন্তে আরো জানা যায়, বন্ধ ফার্টিলাইজার কারখানার ভেতর থেকে লুঠ করে আনা লোহা, কারখানার সাইডিং থেকে উপড়ে আনা আস্ত রেল লাইন, মিনি বয়লারের ট্যাক্সি, লোহার পাইপ থরে থরে সাজানো আছে ওই গো ডাউনে। খদ্দেরের অপেক্ষায়। গোডাউনের চারপাশে সেন্টুর মোতায়েন করা ছিঁচকে চোরেরা রয়েছে পাহারায়। নামো সগড়ভাঙ্গাঁর যুবকেরা জানালেন, “প্রায় প্রতিরাত্রে সেন্টুর বাহিনী পাঁচিল টপকে ঢোকে ফার্টিলাইজার, কখনো বা হেনলিম্যান, বালাজি কারখানায় আর চুরি করে আনে তামা, লোহা, পিতলের যন্ত্রাংশ”। আর তার পরেই কাঁটা য় এনে চলে কাটাই এর কাজ। “চোরাই যন্ত্রাংশ প্রতিদিন ভোরে, কারখানার পাঁচিল সংলগ্ন এলাকা থেকে নিজের চারচাকা গাড়ীতে করে কাঁটা’য় বয়ে আনে সেন্টু নিজে”, বললেন এক গ্রামবাসী। একটি বেসরকারি ইনস্টিট্যুট লাগোয়া জায়গা থেকেই নাকি সেন্টু মাল লোড করে। আর সন্ধ্যায় ৪০৭ মিনি ট্রাকে চোরাই লোহা কাঁটা থেকে দেশবন্ধু কলোনী হয়ে দুর্গাপুর ব্যারাজের ওপারে অন্য একটি কাঁটায় পৌঁছে যায়। সেখানে কারবার চালায় সেন্টুর শাগরেদ।
তিন বছর আগে সেন্টুর কারবার ছিল বাঁকুড়ার বড়জোড়া থানা এলাকায়। এখন পুলিশি সহায়তায় নাকি সে কোকওভেন থানা এলাকার নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে বসে চালাচ্ছে লুঠৎরাজ।

সেন্টু’র কারবারে অতীষ্ট নামো সগড়ভাঙ্গাঁ বাসী ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে লিখিত অভিযোগ জমা করেছেন। “তবে, কাজ হয়নি কিছুই”, বললেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নামো সগড়ভাঙ্গাঁ বাসী।

Previous articleফের হাতির হানায় মৃত্যু হলো এক গ্রামবাসীর
Next articleজঞ্জাল কর ৫০ থেকে ১২৫ টাকাঃ ক্ষোভ বাড়ছে দুর্গাপুরে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here