হুচুকডাঙ্গাঁ’য় রাজা, রেজ্জি, যাদব আর দিলীপের লোহা চুরির রাজত্বঃ নেপথ্যে ভীম-পুলিশ?

0
2042

অমল মাজি, দুর্গাপুরঃ- ‘হুচুকডাঙ্গাঁ’ – বেশ হুজুগে নাম!
নামে স্রেফ আহ্লাদের গন্ধ থাকলেও, ডাঙ্গাঁটির পেটের ভেতর কিন্তু নিকষ কালো অপরাধের জমাট আঁধার। কারন, দামোদরের পাড়ে সরকারি জমিতে প্রসাদোপম একটি বিতর্কিত রিসর্ট – ই শুধু নয়, ওই হুজুগে পাড়ায় এখন বন্ধ কলকারখানা থেকে অবাধে লোহা লুঠের ঢালাও কারবারের রমরমা। আর এই রমরমা’ র মূল কারন, শহর দুর্গাপুরের কোলে বসে দুস্কৃতি রা এইসব কারবার চালালেও, অপরাধীদের আসল সুবিধা – ওই সব কু কর্মের জন্য তারা যে জায়গাটি ব্যবহার করে, তার আইন শৃংখলার দ্বায়িত্ব দামোদরের ওপারের মেজিয়া থানার। ফলে, এপারের লুঠমারে কার্যতঃ কোনো দায় নেই পুলিশের।
দায় কি এক্কেবারেই নেই? অভিযোগ, দায় নাকি আছে, তবে সেটা নিছক ‘মাল’ কামানোর। এলাকার বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে যে টুকু জানা গেছে – এখানকার পরিচিত কিছু কুখ্যাত লোহা চোরেদের পান্ডা-ই নাকি এপারের কোকওভেন থানার ‘ভীম তিওয়ারী’ নামের এক পুলিশ কর্মী। ভীমের হাতেই নাকি আসল গদা। তিনিই নাকি ধরে রেখেন গোটা কারবারের রাশ! বিষয়টি নিয়ে কোকওভেন থানাও এবার খোঁজ খবর শুরু করেছে। থানার ওসি সন্দীপ দাস বললেন, “রাতুড়িয়া – অঙ্গঁদপুরের বন্ধ হয়ে থাকা কলকারখানা থেকে লাগাতার লোহা লুঠের ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সজাগ আছি। বেশ কয়েকজনের নামে লোহা লুঠের কেস শুরু করাই শুধু নয়, আমরা গত কয়েক মাসে কয়েক’শ টন চোরাই লোহা ও উদ্ধার করেছি। অভিযান চলবে।” তবে, থানারই এক পুলিশ কর্মী ‘ভীম’ কে নিয়ে কোকওভেন থানা-ই যে অস্বস্তিতে, সন্দীপ বাবুর কথাতেই তা স্পষ্ট। তিনি বললেন, “ওর ব্যাপারে আমরা খোঁজ নিচ্ছি”।
হুচুকডাঙ্গাঁয় লোকে পিকনিক ও করে, আবার ওই হুচুক ডাঙ্গাঁতেই চলে লোহা কারবারিদের মোচ্ছব। বন্ধ কলকারখানার পাঁচিল টপকে টন টন লোহার মেশিন কাটাই হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে অবাধে। এ সবের পিছনে যে সব লোহা মাফিয়ার নাম পাওয়া গেছে- সেই – রাজা গুন, উমেশ যাদব, গোবর্ধন রেড্ডি, দিলীপ কীর্তিনিয়াদের সাথে এক শ্রেনীর পুলিশের খুল্লাম খুল্লা মেলামেশা চোখে পড়ার মতো আর এই মেলামেশার মাঝে মধ্যস্থকারী এক তৃনমূল কংগ্রেস নেতা। দল যাকে একবার বহিস্কার ও করেছিল। এখানকারই তৃনমূল কংগ্রেস নেতা বুকুন নন্দি হুচুকডাঙ্গাঁর বিতর্কিত ট্যুরিস্ট বাঙলোটির মূল কারিগর। এলাকায় যে বেআইনী লোহার রমরমা, একজন সমাজ সচেতন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তার কি ভূমিকা জানতে চাইলে, বুকুন বলেন, “তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ‘অ্যাশপন্ড’ টি কার্যতঃ পরিত্যক্ত এলাকা। সেখানে লোহা চোরেরা তাদের লুঠের কাজ চালায়। ওটা আমার ওয়ার্ডের বাইরে। আমরাও চাই পুলিশ ওই সব দুস্কৃতিদের এবার শায়েস্তা করুক”। তাঁর রিসোর্টি ঘিরে যখন পর্যটন ব্যবসা জমে ওঠার সম্ভবনা রয়েছে, বুকুন তখন তো চাইবেনই এলাকায় দুস্কৃতিদের আনাগোনা বন্ধ হোক!
বাঁকুড়ার মেজিয়া থানার পুলিশ গোটা বিষয়টিতে এখনো অব্দি উদাসীন থাকলেও, কোকওভেন থানা জানায়, “রাজা গুন, উমেশ যাদব, গোবর্ধন রেড্ডী, দিলীপ কীর্তিনিয়াদের নামে আমরা লোহা চুরির কেসও দিয়েছি। ওরা দাগী”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here