মান্ধাতার আমলের প্রথা মেনেই আজও চলছে জলপাইগুড়ির দুই স্টেশন

0
791

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ ঢাল নেই, তরোয়াল নেই, নিধিরাম সর্দার। বর্তমান জলপাইগুড়ির হলদিবাড়ি ব্লকের অন্তর্গত দুই রেলস্টেশন হলদিবাড়ি রেলস্টেশন ও কাশিয়াবাড়ি হল্ট ষ্টেশনের জন্য উপরিউক্ত এই প্রবাদবাক্যই এককথায় প্রযোজ্য। কিন্তু হঠাৎ করে এই দুটি রেলস্টেশনকে উদ্ধৃত করে এই ধরণের প্রবাদ বাক্য কেন ব্যবহার করা হল তাঁর জন্যই এই প্রতিবেদন। ভারতীয় রেলের উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রেলের তত্বাবধানে এই রেল স্টেশন দুটি তৈরী হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ২৯ বছর আগে ১৯৮৬ সালের নভেম্বর মাসে। নাই নাই করেও যা প্রায় তিন দশক পেরোতে চলল। কিন্তু ওই পর্যন্তই। কারণ বর্তমানে হলদিবাড়ি রেলস্টেশন ও কাশিয়াবাড়ি হল্ট ষ্টেশনে ঢুঁ মারলে শুধুমাত্র ষ্টেশনের নামাঙ্কিত বোর্ড দেখে বোঝা ছাড়া আর বিন্দুমাত্র বোঝার উপায় নেই যে ১৯৮৬ সালে তৈরী হয়েছিল এই দুই স্টেশন। কারণ, সমস্ত রকম আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে আজও সম্পূর্ণ ব্রাত্য এই জলপাইগুড়ির এই রেলস্টেশন দুটি। তবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার কথা বললে হয়তো একটু বেশি চাওয়া হয়ে যায়, কারণ কোনও ছোট ষ্টেশনের জন্য নূন্যতম যে সুযোগ-সুবিধাটুকু থাকা দরকার সেটুকুও পর্যন্ত এই দুটি ষ্টেশনের কপালে জোটে নি বলে অভিযোগ জানাচ্ছেন এই ষ্টেশনের নিত্যযাত্রীরা। ঠিক কীরকম অবস্থা বর্তমান এই দুটি রেল ষ্টেশনের আসুন জেনে নেওয়া যাক। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে হলদিবাড়ি রেলস্টেশন ও কাশিয়াবাড়ি হল্ট ষ্টেশন নির্মিত হয়েছে আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে। কিন্তু বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার বা তৎকালীন ইউপিএ সরকারের আমলে দেশের রেল পরিকাঠামোকে যখন ঢেলে সাজানো হয়েছে তখন এই দুটি রেলস্টেশনের কপালে জোটে নি কোনও প্ল্যাটফর্ম। শুধু প্ল্যাটফর্ম নয়, শুনতে অবাক লাগলেও উত্তরবঙ্গের এই দুই রেলস্টেশনে এখনও বিদ্যুৎ পরিষেবায় যেমন জোটে নি, তেমনি নেই যাত্রীদের জন্য কোনও পানীয় জলের ব্যবস্থাও। অথচ বর্তমান এই দেশ বুলেট ট্রেনে চড়ার বা চড়ানোর দিবাস্বপ্নে মশগুল। স্থানীয় নিত্যযাত্রীদের বক্তব্য, দেশজুড়ে বিভিন্ন রেলস্টেশনগুলি যখন গ্রিন টয়লেট, ওয়াইফাই, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধায় সমৃদ্ধ তখন তাদের এই দুই স্টেশনে নেই প্ল্যাটফর্ম, পানীয় জল, টয়লেট, বিদ্যুত সংযোগ এইসবের মতো প্রাথমিক সুবিধাগুলি। তারা নিতান্তই হতাশার সঙ্গে জানাচ্ছেন, বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম নেই, ফলে ট্রেন এলে রেললাইনের ধার থেকে ট্রেনের দরজার হাতল ধরে বিপজ্জনকভাবে ট্রেনে চেপে যাতায়াত করতে হয়। কী পুরুষ, কি মহিলা, কি শিশু সকলের ক্ষেত্রেই এই একই পদ্ধতি। এই যখন অবস্থা, তখন এখানেই অভিযোগ শেষ নয়। নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, একেই তো প্ল্যাটফর্ম নেই, তার ওপরে ট্রেন দাঁড়ায় মাত্র দু’মিনিট। সেই দুই মিনিটের মধ্যেই জিনিসপত্র সমেত যাত্রীদের প্রত্যহ যুদ্ধ করে ট্রেনে চাপতে হয়। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা এমনকি পদপিষ্ট হয়ে প্রানহানির ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক কিছু না। এক রেল যাত্রী জানালেন, দেশের মধ্যে বোধহয় এই দুই স্টেশনেই বর্তমান আধুনিকতার যুগে মান্ধাতার আমলের সেই হাতে দেওয়া টিকিট কাটেন তারা। কারণ হলদিবাড়ি রেলস্টেশন ও কাশিয়াবাড়ি হল্ট ষ্টেশনে এখনও কম্পিউটারও এসে পৌঁছায় নি আবার স্বয়ংচালিত টিকিট মেশিনও নেই। তাই বর্তমান এই দুই ষ্টেশনের যাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন দেখেন না, স্টেশনে ট্রেনের জন্য প্রতীক্ষালয়ে বসে হাই-স্পিড ফ্রী ইন্টারনেট পরিষেবাও চান না, তারা শুধু চান একটি ষ্টেশনের জন্য প্রয়োজনীয় শুধুমাত্র প্রাথমিক সুবিধাগুলি। এই প্রাথমিক সুবিধার দাবী জানিয়েই তারা কেন্দ্রীয় সরকার তথা রেলমন্ত্রকের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করছেন।