ডাকাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামুরিয়ায় পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ, পুলিশের লাঠিচার্জ

0
1162

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ ডাকাতি করতে এসে হাতেনাতে গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়ল দুই দুষ্কৃতি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত আখলপুর এলাকা। জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ জামুড়িয়া থানা এলাকায় শেখ জালালের বাড়িতে একদল ডাকাত ডাকাতির উদ্দেশ্যে হানা দেয়। কিন্তু সেইসময় বাড়ির কোনও সদস্য ডাকাতদের উপস্থিতি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে দুষ্কৃতিরা হতচকিত হয়ে পড়ে। বাড়ির লোকের চিৎকারে কয়েকজন দুষ্কৃতি ডাকাতির আগেই ধরা পড়ার ভয়ে পালিয়ে গেলেও বাকি দুজন স্থানীয়দের হাতে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায়। ডাকাত পড়ার খবর পেয়ে জামুড়িয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। পুলিশ ধৃত দুই ডাকাতকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশকে বাধা দেয় উত্তেজিত জনতা। তাদের বক্তব্য, ওই দুই দুষ্কৃতিদের তাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক। কিন্তু পুলিশ তা করতে অস্বীকার করলে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয়ে যায় গ্রামবাসীদের বচসা। পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। লাঠিচার্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তবে এইধরনের ঘটনা জামুড়িয়া বা অন্ডাল এলাকায় নতুন নয়, এর আগেও জামুড়িয়া সহ আশাপাশের অন্ডাল, পান্ডবেশ্বর এলাকায় একাধিকবার চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কোনও ঘটনারই কিনারা করতে পারেনি, ফলে এমনিতেই পুলিশ প্রশাসনের কার্যকারীতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন স্থানীয়রা। বুধবার ফের ডাকাতির ঘটনা ঘটায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই সমস্ত ক্ষোভ গিয়ে পড়ে পুলিশের ওপর। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ায় আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের কাজে যোগ দিতে এসে নিজের সার্ভিস রিভলভার থেকে গুলি চালিয়েই আত্মঘাতী হলেন এক পুলিশ কনস্টেবল। জানা গেছে, বিক্রম লামা নামে ওই পুলিশ কনস্টেবল মেঘালয়ের রাজ্য সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। বাঁকুড়া জেলার মেজিয়ার ভুলুই শশীশেখর রায় বিদ্যাপীঠে অন্য পুলিশকর্মীদের সাথে ভোটের কর্তব্যে সামিল ছিলেন। সেখানেই নিজের বন্দুক থেকে পেটে গুলি চালান তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মেজিয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে রানীগঞ্জের একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। ব্যক্তিগত সমস্যার জেরেই মানসিক অবসাদ থেকেই এমন ঘটনা বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।