শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়ো জাতি শংসাপত্র দেখিয়ে চাকরির অভিযোগ, শংসাপত্র বাতিল করে মামলা দায়ের

0
602

সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম:- ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র দেখিয়ে গত ২৬ বছর ধরে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঝাড়গ্রামের কুমুদকুমারী ইনস্টিটিউশনের বাংলার শিক্ষক নিরঞ্জন মান্না। জানা গিয়েছে ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর কুমুদ কুমারী ইনস্টিটিউশনে বাংলা বিষয়ে সহ-শিক্ষক পদে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন নিরঞ্জন। ওই সময় বাংলা বিষয়ের আসনটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত ছিল। নিরঞ্জন তফসিলি জাতি শংসাপত্র দেখিয়েই চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর একাধিকবার তার বিরুদ্ধে ভুয়ো জাতি শংসাপত্র দেখিয়ে চাকরি করার অভিযোগ ওঠে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে নিরঞ্জনের বিরুদ্ধে ভুয়ো শংসাপত্র দেখিয়ে চাকরি করার অভিযোগ ওঠে। তদন্তও শুরু হয় কিন্তু কিছুদিন পর তা ধামাচাপা পড়ে যায়। এরপর গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ঝাড়গ্রাম মহকুমা শাসকের কাছে ফের নিরঞ্জন মান্নার বিরুদ্ধে ‘ভুয়ো শংসাপত্রে’র মাধ্যমে চাকরির অভিযোগ জানান পশ্চিমবঙ্গ ওবিসি মঞ্চের বর্ধমান বিভাগের সম্পাদক মনোরঞ্জন মাহাতো। ফের শুরু হয় তদন্ত। ডিসেম্বরই তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ে। প্রশাসনের তরফ থেকে নিরঞ্জন মান্নার কাছে শো’কজ নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু শিক্ষকের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ১১ জানুয়ারি মহকুমা শাসক বাবুলাল মাহাতো শুনানি করে তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে নিরঞ্জনের জাতিগত শংসাপত্র বাতিল করে দেন। এরপরেই বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

এই বিষয়ে মনোরঞ্জন মাহাতো বলেন, ‘‘মান্না পদবি হল নাপিত। নাপিত কোনওদিনই তফসিলি জাতি হতে পারে না। ওই শিক্ষক ১৯৪১ সালের তাঁর ঠাকুরদার নামে থাকা দলিলে কালি দিয়ে নাপিতের জায়গায় নমশূদ্র করে তফসিলি জাতির শংসাপত্র আদায় করেছিলেন ১৯৯৪ সালে।’’ যদিও বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক নিরঞ্জন মান্না দাবি করেন, তার মানসম্মান নষ্ট করার জন্য কিছু লোকজন চক্রান্ত করেছেন। ১৯৯৪ সালে শংসাপত্র তৈরির সময় প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য দিয়েছিলেন। আগেও দু’বার অবজেকশন হয়েছিল। তখন কিছু হয়নি। কিন্তু এ বার মহকুমা শাসক তা বাতিল করে দিয়েছেন। ১৪ জানুয়ারি রাতে জাতি শংসাপত্র বাতিলের কপি পেয়েছেন। পাশাপাশি তিনি জানান ন্যায় বিচারের জন্য হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here