এবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্বেচ্ছা মৃত্যুর আবেদন জানালেন বাঁকুড়া জেলার গ্রাম পঞ্চায়েতে কর্মরত জীবিকা সেবকরা

0
204

সংবাদদাতা ,বাঁকুড়া:– বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই এগিয়ে আসছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর রক্তচাপ ততই বাড়তে শুরু করেছে রাজ্যে কর্মরত সরকারী স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মচারীদের লাগাতার বিক্ষোভ আন্দোলনে। এবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানালেন বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে কর্মরত জীবিকা সেবকরা । বাঁকুড়া জেলায় এদের সংখ্যা ১১২ জন । ২০১০ সালে তারা কাজে যোগ দিয়েছিলেন তারপর ২০১৭ সাল পর্যন্ত তারা সরকারি বেতন পেয়েছেন। এতদিন পর্যন্ত সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল । কিন্তু দীর্ঘ ৪৬ মাস তাঁরা কোনো বেতন পাননি বলে অভিযোগ। স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান পরিস্থিতিতে ছেলে মেয়ে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের । তারউপর রাজ্য সরকারের দুয়ারের সরকার কর্মসূচিতেও তাদের কাজ করতে হচ্ছে, কিন্তু বেতন পাচ্ছেন না । জীবিকা সেবকদের দাবি মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাঁদের সমস্যার সমাধান করা হবে বলে। তার পরেও মিলছে না বেতন। কোথায় সমস্যা, কাদের গাফিলতি রয়েছে, এখন সেই প্রশ্নই উঠে আসছে বার বার।

বিশ্বজিৎ দে, সৌরভ সন্নিগ্রাহী সহ একাধিক জীবিকা সেবকরা জানান, একটি পঞ্চায়েতে যত রকম কাজ আছে সবই করতে হচ্ছে তাঁদের। বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে বেতন না পেয়েও ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। তাই এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতির আবেদন করছেন।

অন্যদিকে জীবিকা সেবকদের এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ ও রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের রেস্পেক্ট করেন না। উনি ভিক্ষা প্রদান করে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকতে চান । আমরা চাইছি জীবিকা সেবকদের রোজগার দিতে, চাকরি দিতে। কিন্তু তিনি সেটা চান না। উনি ভাইপো ছাড়া কিছু বোঝেন না ।” পাশাপাশি তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়টি মানবিকতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিৎ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here