নাটকের যবনিকা পতন, বিজেপিতেই যোগ দিলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি, স্বাগত জানালেন বাবুল

0
210

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে চলা নাটকের যবনিকা পতন হল মঙ্গলবার। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বিজেপিতেই যোগ দিলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। এদিন বৈদ্যবাটির এক জনসভায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। আর বিজেপিতে যোগ দিতেই, একেবারে উল্টো সুর গেয়ে তাঁকে দলে স্বাগত জানালেন আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। আসানসোলের প্রাক্তন মেয়রের দলে ফেরা নিয়ে বাবুল বলেছেন,‘‘কেউ যদি নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে উন্নয়নের কাজ করতে চান, তাকে বিজেপি-তে স্বাগত। উনি এলে আমাদের দল শক্তিশালীই হবে।’’

অথচ গত ডিসেম্বরে যখন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা উস্কে পশ্চিম বর্ধমানের তৃণমূলের জেলা সভাপতির পদ, আসানসোল পৌরসভার প্রশাসক পদ থেকে আচমকা ইস্তফা দেন জিতেন্দ্র, তখন নেটমাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রবল আপত্তি জানিয়েছিলেন বাবুল। সেইসময় বাবুলকে সমর্থন করেছিলেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল, সায়ন্তন বসুরা। যদিও ওই ঘটনার পরেই বাবুল সুপ্রিয় ও দিলীপ ঘোষ ছাড়া সকলকে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য শো-কজ করেছিল বিজেপি। তার থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল বিজেপি-র শীর্ষ নেতারা পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ককে চান। যদিও এরপর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনাতে জল ঢেলে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে বৈঠক করে তৃণমূলেই থাকছেন বলে জানিয়ে দেন খোদ জিতেন্দ্রই। তারপর থেকে অবশ্য দলীয় কর্মসূচীতে তাকে বিশেষ দেখা যায়নি। বলতে গেলে অজ্ঞাতবাসেই ছিলেন। যদিও দলের জেলা সভাপতির পদে তাকে ফেরানো না হলেও সম্প্রতি তাকে জাতীয় মুখপাত্র্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর তার জেরেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করেছিল এবার বোধহয় জিতেন্দ্র তিওয়ারির জোড়াফুল শিবিরে থাকা পাকা হল। কিন্তু সেই জল্পনাতেও এদিন জল ঢেলে দিলেন পশ্চিম বর্ধমানের তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি।

অন্যদিকে পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই পাণ্ডবেশ্বরের হরিশপুর এলাকার বিধায়ক পার্টি অফিসটি দখল করে নেয় তৃণমূল নেতা কর্মীরা। শুধু পার্টি অফিস দখলই করেই ক্ষান্ত থাকেননি তারা। গোবরজল, গঙ্গাজল দিয়ে পার্টি অফিস রীতিমতো শুদ্ধিকরণ করা হয়। এবিষয়ে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রাবর্তী বলেন, দীর্ঘদিনের পাপ বিদায় হয়েছে। তাই পার্টি অফিস গঙ্গাজল, গোবরজল দিয়ে শুদ্ধ করা হয়েছে। এদিন তিনি দাবি করেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি দল ছাড়ায় পাণ্ডবেশ্বরের মানুষ খুশিতে রাস্তায় নেমে মিষ্টি বিতরণ করছে। যদিও পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ককে মীরজাফর, বেইমান, নিমকহারাম বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি।

অন্যদিকে জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিজেপি-তে যোগদান নিয়ে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন কেউ চলে গেলে দলের কিছু যাবে-আসবে না। তবে যারা যাচ্ছেন, তাদের শেষ পর্যন্ত আঙুল চুষতে হবে বলে আগাম সাবধান বাণী শুনিয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here