পুলিশের ঢিলেমীতেই চাকরি আটকে হাতির হানায় মৃতদের পোষ্যদের

0
279

বিশেষ প্রতিনিধি, বাঁকুড়াঃ– রাজ্যের বনমন্ত্রী সবুজ বনাঞ্চল ছেড়ে গেরুয়া জঙ্গলে নাড়া বাঁধার মাঝেই দলমা থেকে আসা ৫২ টি হাতির নতুন দল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সোনামুখি, বড়জোড়া, বেলিয়াতোড়ের বিস্তীর্ণ জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে। শষ্য, ঘরবাড়িতে হানা দেওয়ার পাশাপাশি দলমার দামালদের অত্যাচারে প্রাণসংশয়ে কাঁটা হয়ে আছেন গ্রামবাসীরা।

এরই মাঝে, রাজ্য সরকারের ঘোষিত হাতির হানায় মৃতদের পোষ্যদের চাকরির দাবিতে নতুন করে উত্তাপ ছাড়াচ্ছে বাঁকুড়া (উত্তর) বনবিভাগের গ্রামগুলিতে।

গত ১০ বছরে বাঁকুড়ার বড়জোড়া, সোনামুখি, বেলিয়াতোড়, গঙ্গাজলঘাঁটি ও বিষ্ণুপুরের গ্রামগুলিতে ৮৬জন গ্রামবাসী হাতির আক্রমণে মারা গেছেন। গত বছর প্রশাসনিক বৈঠকে বাঁকুড়ায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন -হাতির হানায় মৃতদের পোষ্যদের জন্য রাজ্য পুলিশে হোমগার্ড হিসেবে চাকরি দেবে সরকার। রাজ্যের তৎকালীন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সেই মোতাবেক নিজেও ঘোষণা করেন, চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজীব মন্ত্রীত্ব ছেড়ে, দল ছেড়ে, বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন গত মাসে। গত মাসেই বাঁকুড়ায় ঢোকে দলমার একটি নতুন দল। বিভিন্ন গ্রামে তারা তাণ্ডব শুরু করে দেয়।

গত ২৫ জানুয়ারি, হাতি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংগ্রামী গণমঞ্চ নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বাঁকুড়া (উত্তর ও দক্ষিণ) বনবিভাগের দপ্তরে, পোষ্যদের চাকরির দাবিতে ধর্না প্রদর্শন হয়। মঞ্চের সম্পাদক শুভ্রাংশু মুখার্জী বলেন, “জেলায় হাতির হানায় বিগত ২০ বছরে কমপক্ষে ২০০ মানুষ মারা গেছেন। এই সরকার আসার পর যখন পোষ্যদের চাকরির প্রস্তাব করে, তারপরই গত ১০ বছরে মৃতদের পরিবারের খোঁজ নেওয়া শুরু হয়। তাতে ৮৬টি এমন পরিবারের খোঁজ মেলে।” তিনি আরো জানান, ” হোমগার্ডের নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কেবলমাত্র ৫৮ জন চাকরি পেয়েছেন। বাকিদের বিষয়ে গত তিন মাসে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।”

গত অক্টোবর, ২০২০তেই রাজ্যের প্রতিটি মুখ্য বনসংরক্ষকের দপ্তরে হাতির হানায় মৃতদের পরিসংখ্যান তৈরির নির্দেশ পাঠায় রাজ্য। তাতে জানা যায়, ২০২০-র ফেব্রুয়ারি মাস অব্দি এরাজ্যে ১০ বছরে মোট ৪০৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এবিষয়ে দেশের মধ্যে শীর্ষে এরাজ্য। ওই সময়কালে উড়িষ্যায় মারা যান ৩৯৭জন আর আসামে ৪০৮জন।

কিন্তু, হাতির হানায় মৃতদের পোষদের চাকরির বিষয়ে রাজ্য সদর্থক ভূমিকা নিলেও, নিয়োগের ক্ষেত্রে ঢিলেমি কেন? এ প্রশ্নের জবাবে, বাঁকুড়া (উত্তর) বনবিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় বনাধিকারিক ব্যোমকেশ দত্ত বলেন, “বনবিভাগ তালিকা পাঠিয়ে দেওয়ার পর পোষ্যদের নিয়োগের বিষয়টি রাজ্য পুলিশের এক্তিয়ারে। যতদূর জেনেছি, ওখানে নিযুক্তদের ট্রেনিংয়ের বিষয়টি নির্দিষ্ট সময়ে সীমিত সংক্ষক প্রার্থীর জন্য সীমাবদ্ধ। তাই দেরি হচ্ছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here