ধর্ম আচরণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল নিদর্শন নাচন গ্রামবাসী

0
664

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- গতকাল অর্থাৎ ৩ রা ডিসেম্বর গোটা রাজ্যের সাথে সাথে দুর্গাপুর শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মা কালীর পুজো ও হোম যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয় । দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের নাচন গ্রামকে ‘দেব ভূমি’ বলে মনে করেন আশেপাশের অঞ্চলের মানুষজনরা । এই নাচন গ্রামে অবস্থিত আছে বহু প্রাচীন মন্দির। গোটা গ্রাম জুড়ে একাধিক মন্দির রয়েছে এই গ্রামে। নিত্যদিন সেখানে পূজা আর্চনা হয়ে থাকে। আজ থেকে ১৭ বছর আগে নাচন গ্রামে অবস্থিত মা শ্মশান কালীর স্বপ্নাদেশে মা শ্মশান কালীর পূজা শুরু হয়। তারপর থেকে লাগাতার ১৭ বছর ধরে মহাসমারোহে ও আড়ম্বরের সাথে মা শ্মশান কালীর পুজো অনুষ্ঠিত হয় নাচন গ্রামে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষের এক মিলন মেলার সৃষ্টি হয় এই মা শ্মশান কালীর পুজোকে কেন্দ্র করে । করোণা অতি মারির কারণে বিগত দুবছর পুজোতে আরম্ভর না থাকলেও এবছর গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে মহাসমারোহে সাথে মায়ের পুজো অনুষ্ঠিত করেন। মা শ্মশান কালীর এই পুজোকে কেন্দ্র করে নাচন গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ,বস্ত্র বিতরণ ও মায়ের ভোগের নরনারায়ন সেবা। আজ এই রকমই এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের হাজির ছিলেন পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। নাচন গ্রামবাসী ও মা শ্মশান কালী পুজো কমিটির পক্ষ থেকে তাকে আজ সম্বর্ধনা দেওয়া হয়।

পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী সম্বর্ধিত হওয়ার পর আপ্লুত হয়ে বলেন, ” ইলেকশনের রেজাল্টের পর তিনি প্রথম এই গ্রামে এলেন, তাও আবার মা শ্মশান কালীর আশীর্বাদ পেতে। মায়ের পুজোয় আসতে পেরে ভীষণভাবে খুশি তিনি ।” সহৃদয় বিধায়ক জানান ,আগামী দিনে এই খোলা মঞ্চের ওপর শেড বানানো হবে যাতে ভবিষ্যতে এ রকম অনুষ্ঠানে কাউকে বৃষ্টিতে ভিজতে না হয়। তিনি মুক্তকণ্ঠে গ্রামবাসীদের অনুরোধ করেন, গ্রামের যে কোন সমস্যা বা প্রয়োজন থাকলে যেন তাকে অবিলম্বে জানানো হয়। তিনি এই গ্রামের মানুষের উন্নয়নের জন্য সদাই সক্রিয় ভূমিকা নেবেন।

প্রতাপপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সঞ্জয় মুখার্জী এ দিন জানান ” বিগত ১৭ বছর ধরে আমরা শ্মশান কালী মায়ের পূজার্চনা করে আসছি। প্রতি বছরের এই দিনটিতে আমরা এলাকার গরীব দুঃস্থ মানুষদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দিয় ও নরনারায়ণ সেবার আয়োজন করে থাকি। নাচন গ্রামের সমস্ত মানুষের যৌথ প্রয়াসে এই অনুষ্ঠান সার্বিক রূপে সফল হয়। এ বছরও আমরা আশেপাশের গ্রামের সমস্ত মানুষকে মিলিয়ে প্রায় হাজার চারেক মানুষের নরনারায়ন সেবা আয়োজন করেছি । আজকের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনুষ্ঠানে কিছুটা বিলম্বে শুরু হলেও মা শ্মশান কালীর ভোগ গ্রহণ করতে মানুষ ইতিমধ্যেই আমাদের ভোগ ভান্ডারে এসে হাজির হয়েছেন। আজ আমরা নাচন ও তার আশেপাশের অঞ্চলের বহু দুঃস্থ গরিব মানুষদের হাতে তুলে দিলাম শীতবস্ত্র। আগামী দিনে সকলের প্রয়াসে আমরা এই অনুষ্ঠানটি আরো বড় করে তুলতে পারবো এই আশা রাখি।”

এদিনের এই অনুষ্ঠানে পাণ্ডবেশ্বর এর বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের সভাপতি তথা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সুজিত মুখার্জী , জেলা পরিষদের নেত্রী চুমকি মুখার্জি, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কিরিটি মুখার্জি, প্রতাপপুর তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি কাজল মুখার্জি ও দুর্গাপুরের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বেঙ্গল ডিজিটাল মিডিয়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি মনোজ সিংহ । মা শ্মশান কালীর পুজো আরও বড় আকারে ভালোভাবে হোক এটাই আশা রাখেন উপস্থিত সকল ব্যক্তিবর্গরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here