করোনা স্বাস্থ্যবিধি মানতে কৈথন রায়বাড়ির কালীপুজো আড়ম্বরহীন

0
637

সংবাদদাতা, পূর্ববর্ধমানঃ- কমবেশী দু’শো বছরের কৈথন গ্রামের রায়বাড়ির কালী পুজো এই বছর আড়ম্বরহীন। আর এর অন্যতম এথবা বলা যায় একমাত্র কারণ হল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আটকানোর জন্য সরকারি নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি পালন।

পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার অন্তর্গ গীধগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের কৈথন গ্রামের রায়পরিবারের স্বর্গীয় জানকীনাথ রায়ের হাতে শুরু হয় প্রায় দু’শো বছরের এই পুজো।

পুজোর বিশেষত্ব হল স্বর্গীয় জানকীনাথের ছয় পুত্র সন্তানের পরিবার এক এক বছর নিজ নিজ পালা বা পুজোর দায়িত্ব পালন করে থাকে। এই নিয়মে কোনও এক পুত্রসন্তানের পরিবার তাদের পুজোর দায়িত্ব বা পালা পাঁচ বছর অন্তর পালন করত এতদিন। তবে এক পুত্র সন্তানের বর্তমান পুরুষরা তাদের পুজোর পালা বা দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা স্বীকার করায় তাদের পালা বন্ধ হয়েছে এবং তাই কোনও এক পুত্র সন্তানের পরিবার তাদের পুজোর পালা চার বছর অন্তর পালন করছে এখন।

রায় পরিবারের নিয়ম অনুযায়ী জানকীনাথ রায়ের ছয় পুত্র সন্তানের এক একটি পরিবার ‘তরফ’ বা ‘বাড়ি’ হিসেবে নিজেদের আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের লোকজনেদের কাছে পরিচিত। যেমন ব়ড় পুত্র সন্তানের পরিবার ” বড় তরফ বা বড় বাড়ি,” মেজর ” মেজ বাড়ি বা মেজ তরফ” এমন আরকি।

কৈথন বাড়ির এই ঠাকুর গ্রামের মানুষের কাছে ” বড় মা”হিসেবে বেশী পরিচিত। এই মা দক্ষিণা কালী রূপে পূজিতা হন তাঁর পঞ্চ মুণ্ডির বর্তমান আসনে। মার পুজো বংশ পরম্পরায় গ্রামেরই ভট্টাচার্য বাড়ির লোক বা পুরোহিত করেন। বর্তমানে যেমন হরি ভট্টাচার্য করছেন। সকল সাজ নিয়ে, মুকুট পরিহিতা অবস্থায় মায়ের উচ্চতা প্রায় দশ ফুট হয়। মায়ের ডাকের সাজ, ঢাক বাজানো, মূর্তি গড়া ইত্যাদির সাথে যারা যুক্ত আছেন তাঁরা বহু বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে একাজ করছেন।

এই ২০২০ সালের অর্থাৎ বাংলার ১৪২৭ সনের কৈথন রায়বাড়ির মা দক্ষিণা কালীর পুজোয় কিছু পরিবর্তন শুধু এই বছরের জন্যই করা হচ্ছে যা পুজোর ইতিহাসে হয়ত প্রথমবারই হবে, যথা –
১) পুজোয় আড়ম্বর অতিমাত্রায় কম হবে,২) আত্মীয় স্বজনের সমাগম অত্যন্ত কম হবে, ৩) নিয়ম বা হিসেব অনুযায়ী এবারের পুজো বড় তরফের হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। পুজো এবার নমো নমো করে সব তরফে একসাথে অংশগ্রহণে সম্পন্ন হবে। তবু এই আয়োজনেও পরিবারের বয়স্ক যথা- সাধন রায়, প্রবীর রায়দের সাথে বর্তমান প্রজন্মের কিংশুক, রণিত, কৌশিক, অঙ্কুর, খুশি, কৌশিকরা উপস্থিত থাকবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here