করোনায় কাজ হারিয়ে অভিনব উদ্যোগে এলাকার যুবকদের কর্ম সংস্থানের দিশা দেখাচ্ছেন বুদবুদের কান্তি দে

0
471

সংবাদদাতা, বুদবুদঃ- একসময় হাওড়া জেলায় রঙের কাজ করতেন বুদবুদের নস্করবাঁধের বাসিন্দা কান্তি দে। সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু গত বছর করোনার ঢেউ দেশে আছড়ে পড়তেই সব ছারখার হয়ে যায়। কাজ হারান কান্তিবাবু। দীর্ঘদিন বাড়িতে বসে থেকে তীব্র আর্থিক সঙ্কটের সম্মুখীন হন। কিন্তু আশা ছাড়তে রাজি ছিলেন না নস্করবাঁধের এই বাসিন্দা। অবশেষে এলাকার বেকার যুবকদের সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন অভিনব এক উদ্যোগ। যার ফলে কান্তিবাবুর নিজের যেমন আর্থিক সংস্থান হচ্ছে তেমনই এলাকার ৪৬জনের কর্মের সংস্থানও করে ফেলেছেন তিনি। তার এই উদ্যোগে রীতিমতো খুশি স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে এলাকাবাসী।

কারও সাহায্য়ের আশায় বসে না থেকে একেবারে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বুদবুদের চাকতেঁতুল গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের সাথে যোগাযোগ করে ও প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে পানাগড় সিলামপুর রোডের ধারে প্রায় ৭২একর ফাঁকা অকেজো সরকারি জমি ও ছোট জলাশয় গুলিকে সংস্কার করে বৃহদ আকার জলাশয়ের রূপ দেন তিনি। আর এই কাজে তিনি সঙ্গে নেন এলাকারই যুবকদের। জলাশয়ের নাম দেন অন্নদাতা। জলাশয়ে কয়েকমাস আগে মাছের চারা ছাড়েন। এখন সেই জলাশয়ে মাছ ধরার সুবন্দোবস্ত করে ফেলেছেন কান্তিবাবু। ২৫০গ্রাম থেকে শুরু করে প্রায় ৫কেজি ওজনের রুই,কাতলা মাছ সহ নানান মাছ রয়েছে জলাশয় গুলিতে। আর এই মাছ ধরার জন্য কিনতে হবে ২০০০টাকার টিকিট। তবে কেউ যদি মাছ না পায় তাকে ১০০০টাকা ফেরৎ দেওয়ার নিয়ম রাখা হয়েছে। সঙ্গে রাখা হয়েছে খাবারের ব্যবস্থা। পুকুর পাড়েই পৌঁছে দেওয়া হোচ্ছে খাবার। আর এই উদ্যোগ রীতিমতো সাড়া ফেলেছে এলাকায়। সকাল হলেই জলাশয় গুলিতে মাছ ধরার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। নিত্যদিন বিভিন্ন ওজনের মাছও ধরা পড়ছে। কেউ আসছেন মাছ ধরার নেশায়,আবার কেউ আসছেন মাছ ধরা দেখতে। মাছ ধরার নেশার সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া দাওয়া মিলে যেন পিকনিকের আনন্দ।

এছাড়া জলাশয়ের পাড়েই নানান সবজির চাষ করেছেন কান্তিবাবু। আপাতত জলাশয়ের পাড় থেকে যে কাঁচা সবজি উৎপন্ন হচ্ছে তা গ্রামের মানুষদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাকি সবজি যে সমস্ত কর্মীরা তার অধীনে কাজ করছেন তাদের দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে তার লক্ষ্য শতাধিক বেকার যুবককে কর্ম সংস্থান দেওয়া। আর তার জন্য সুদূর পরিকল্পনাও রয়েছে দেবাবুর। এলাকাটিকে ছোটখাট পর্যটনকেন্দ্রের রূপ দিতে চান তিনি। এলাকার সমস্ত জলাশয় সংস্কার করে সেখানে মাছ চাষের পাশাপাশি বৃহদ আকার জলাশয়ে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে চান। পাশাপাশি স্বপরিবারে ঘুরতে আসা পরিবারের জন্য পিকনিক স্পট গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে তার। একদিকে চলবে মাছ চাষ, সবজি চাষ পাশাপাশি থাকবে জলাশয় ও সবুজ ক্ষেতকে কেন্দ্র করে পিকনিক স্পট।

এর জন্য চাকতেঁতুল গ্রাম পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। চাকতেঁতুল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অশোক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন কান্তিবাবু যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি সমাজ সেবা করছেন আবার বেকার যুবকদের জন্য কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন। তাই পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here