সোনামুখীতে দেবসেনাপতি আরাধনার প্রস্তুতি

0
510

প্রতিনিধি, বাঁকুড়া:-

‘কালী-কার্তিকের দেশ’ বলে পরিচিত বাঁকুড়ার প্রাচীণ পৌর শহর সোনামুখীতে দেব সেনাপতির আরাধনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আর মাত্র হাতে গোণা কয়েক দিন, তারপর টানা চার দিন কার্তিক পুজোর আনন্দের গা ভাসাবেন এখানকার মানুষ।

ছোটো, বড়, পারিবারীক, সার্বজনীন মিলিয়ে সোনামুখীতে প্রায় একশোর বেশী পুজো হয়। বাঁকুড়া জেলায় এতো সংখ্যক পুজো আর কোথাও হয়না। এখানকার প্রাচীণ কার্তিক পুজো গুলির অন্যতম শ্যামবাজারের মা-ই-তো বা মধ্যম কার্তিক। প্রায় চারশো বছর ধরে এই পুজো হয়ে আসছে। এছাড়াও শহরের রতনগঞ্জের মহিষগোঠ কার্তিক, বড় কার্তিক সহ বেশ কয়েকটি বড় বাজেটের পুজো এখানে হয়। কালী পুজোর পর ফের একবার কার্তিক পুজোকে কেন্দ্র করে উৎসব-আনন্দে মেতে ওঠেন এখানকার মানুষ।

মা-ই-তো বা মধ্যম কার্তিক পুজোর পুরোহিত ভোলানাথ চক্রবর্তী বলেন, কার্তিক পুজো সোনামুখীর অন্যতম ঐতিহ্য। তাদের পুজোয় শহরের ৯, ১০, ১১ ওয়ার্ডের নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। ধারাবাহিকতা মেনে প্রায় চারশো বছরের এই পুজোর খরচ এখনো স্থানীয় বাসিন্দারাই বহন করেন। বাইরে থেকে কোন চাঁদা আদায় করা হয়না বলে তিনি জানান।

শহরের আর এক অন্যতম বড় পুজো মহিষগোঠ কার্তিক পুজো কমিটির সদস্য সদানন্দ সুর পুজো শুরুর ইতিহাস প্রসঙ্গে বলেন, এক সময় বর্তমান সোনামুখী জঙ্গলে ভর্তি ছিল। ঠিক এই জায়গাতেই মহিষের বাথান বা গোট ছিল। তৎকালীন সময়ে সেই মহিষের রাখাল বালকরা প্রথম পুজো শুরু করেন। সেকারণেই এই পূজোর এইরুপ নাম বলে তিনি জানান।

সোনামুখীর পৌরপ্রধান সুরজিৎ মুখার্জী বলেন, কালী ও কার্তিক পুজোর জন্য বিখ্যাত এই শহর। সেকারণে পুজো সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য পুলিশ, প্রশাসন, পৌরসভা ও বিশিষ্ট মানুষদের নিয়ে একটি কমিটি তৈরী হয়। এবারেও তা হয়েছে। একই সঙ্গে কার্তিক পুজোর আগে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তাঘাট সংস্কারের কাজ পৌরসভার তরফে করা হচ্ছে বলে তিনি জানান ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here