হাসপাতাল চত্বরে মৃত শিশুকন্যাকে খুবলে, চিবিয়ে খেল কুকুরে, কাটোয়ায়

0
541

সংবাদদাতা, কাটোয়াঃ- দিনেদুপুরে, সকলের চোখের সামনে নবজাত শিশুকন্যার দেহ চিবিয়ে চিবিয়ে খেল রাস্তার কুকুরে। বুধবার। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালে তড়িঘড়ি করে পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি তদন্তের নির্দেশ দিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

একটি প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ থেকে বের করে নবজাত শিশুকন্যাটিকে কুকুরে চিবিয়ে খাওয়ার দৃশ্য দেখে উত্তাল হয়ে ওঠে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল চত্বর । হাসপাতাল চত্বরে এই অমানবিক ছবি দেখে শিউরে উঠেছে হাসপাতালে আসা রোগীর পরিজনরা। তাঁরা বলেন একটি প্রিম্যাচিওর মৃত শিশুকন্যাকে ক্যারিব্যাগ থেকে বের করে হাসপাতাল চত্বরে খুবলে খুবলে কুকুরে খাচ্ছিল। এই খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য শুরু হয়ে যায় । হাসপাতালে সুপারের বক্তব্য গত ২২ শে মে তারিখে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল কাটোয়ার পাশের গ্রামের এক মহিলা । ২৩ তারিখে তিনি একটি মৃত শিশুর জন্ম দেয় । পরে তিনি হাসপাতালে দরখাস্ত জমা দিয়ে ঐ শিশুটি নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন । সেইমতো মৃত শিশুটিকে ওই মহিলাটিকে দিয়ে দেওয়া হয় । এমনও হতে পারে ওই মহিলার পরিবার মৃত শিশুটিকে ওখানে ফেলে দিয়ে গেছেন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কাটোয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মৃত শিশুটির এই মর্মান্তিক পরিণতি দেখে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী ও সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে রেখে লাভ কি? ঘড়ির কাটায় তখন সকাল সাড়ে বারোটা। হাসপাতালে আসা রোগীর পরিজনরা রোগীর সঙ্গে দেখা করার পর নার্স কোয়াটারের সামনে যখন বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তখনই কয়েকজন রোগীর পরিজন দেখতে পায় কুকুরে একটি বাচ্চাকে প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে বার করে খাচ্ছে। এরপর খবর দেওয়া হয় হাসপাতাল চত্বরে থাকা পুলিশ ক্যাম্পে। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাচ্চাটিকে প্লাস্টিক বন্দি করে নিয়ে যান। কাটোয়া হাসপাতাল সুপার ডাক্তার সৌভিক আলম বলেন, কাটোয়ার পাশের একটি গ্রাম আছে যার নাম পলসোনা। গ্রামের বৈশাখী মাঝি নামে এক মহিলা চলতি মাসের ২২তারিখ কাটোয়া হাসপাতালে ভর্তি হন। ২৩ তারিখ অর্থাৎ পরের দিন মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করেন ওই মহিলা। নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ওই মহিলা দরখাস্ত দেয় মৃত বাচ্চাটিকে তিনি নিতে চান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়ম মোতাবেক বাচ্চাটিকে মহিলার কাছে ফেরত দেয় । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মীর দাবি এই বাচ্চাটি ই আসলে ওই বাচ্চা। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল। হাসপাতালের চিকিৎসা করতে আসা রোগীর আত্মীয় যতন দাশ , রহিম শেখরা বলেন হাসপাতাল চত্বরে এত সিসি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে তাহলে কী লাভ হচ্ছে । আমাদের তো মনে হয় ওই সিসি ক্যামেরাগুলো বেশিরভাগ লোক দেখানো । সবই তো বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এগুলো লাগিয়ে রেখে লাভ কি? খবর পাওয়ার পর কাটোয়া থানার পুলিশ ছুটে আসে ঘটনাস্থলে । শুরু করে দেন তদন্তের । কাটোয়া থানার আইসি তীর্থেন্দু গঙ্গোপাধ্যায় বলেন হাসপাতাল চত্বরে কোথা থেকে ওই মৃত শিশুটি এলো এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করা হয়েছে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here