জন্মদিনের আশীর্বাদস্বরূপ প্রাপ্ত সঞ্চিত অর্থ মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান খুদে অনুভব দাসের

0
528

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- দেশজুড়ে লকডাউন, স্তব্ধ জনজীবন। করোনা ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে গৃহবন্দি চারদিক। পরিবারের সব গুরুজন বড়দের থেকে এই মুহূর্তে সবচেয়ে কষ্টকর ভাবে নিয়মের যাঁতাকলে আবদ্ধ হয়েছে শিশুরা। যারা এই ছোট্ট বয়সে স্কুলের সঙ্গী-সাথীদের, খেলার বন্ধুদের ছেড়ে একা একা গৃহবন্দী জীবন কাটাচ্ছে। এই সময় শিশুরা ছোট ছোট কাজের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে নিতে চাইছে।
কিন্তু এই সবকিছুর মাঝে আলাদা এক বায়না করেছে বাঁকুড়ার ইন্দপুর থানার অন্তর্গত চাকলতোড় গ্রামের অনুভব। চাকলতোড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর খুদে অনুভব দাস এই সময় বাবার কাছে বায়না ধরে, তার জন্মদিনে আশীর্বাদস্বরূপ প্রাপ্ত অর্থ ও গুরুজনদের ভালোবেসে হাতে খুঁজে দেওয়া সকল সঞ্চিত অর্থ যেগুলো সে তার বাবাকে জমিয়ে রাখতে দিয়েছিল ভালো ক্রিকেট ব্যাট,বল ও নিজের পছন্দের জিনিস কিনবে বলে। সেই সকল টাকা সে তুলে দিতে চায় রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। তাই সে বাবার কাছে বায়না ধরেছিল যাতে তার বাবা এ ব্যবস্থা করে দেয়। তার বাবা প্রিয়ব্রত দাস জানান- বাড়িতে টিভিতে কার্টুন দেখার সাথে সাথে বড়দের সঙ্গে মাঝে মাঝেই খবর দেখে অনুভব। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর বারবার ত্রাণ তহবিলে সাহায্যের আবেদন সে শোনে ও রাজ্য তথা দেশের এই সংকট মুহূর্তে ছেলে বায়না করে তার জমানো সকল টাকা সে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেবে। তাই তার বায়না বা মনের ইচ্ছা পূরণ করতে ইন্দপুর ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের হাতে অনুভব নগদ ১০২৫/- টাকা তুলে দিল । চোখেমুখে আতঙ্ক নিয়ে ছেলে বলেছিল, ‘বাবা আমরা বাঁচতে চাই’। সে প্রতিনিয়ত শুনতে পায় বিশ্বের হাজার হাজার আক্রান্ত মানুষের কাহিনী। এইসব মানুষের কাহিনী তাকে ব্যথিত করে‌। তার শিশু মনকে ভারাক্রান্ত করে ‌‌আমাদের রাজ্যের, আমাদের দেশের সকল মানুষের কষ্ট।

পারিবারিক শিক্ষা-দীক্ষা কে বুকে নিয়ে ও মানুষের জন্য কিছু করা, মানুষকে ভালোবেসে পাশে থাকতে চাওয়ার প্রয়াস এই ছোট্ট শিশুটির। দুঃস্থ অসহায় মানুষদের সাহায্যার্থে দান করে হাজার মানুষের সাথী হয়ে উঠলো অনুভব। এই দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের দুঃখ দুর্দশা ও কষ্টের অনুভব করতে পারা এই প্রজন্মের ‘অনুভব’ কোথাও যেন সমাজের কাছে দেখিয়ে দিল এভাবেও পাশে থাকা যায়। গৃহবন্দী হয়েও মানুষের দুর্দিনে সাহায্য করতে লাগে একটা বড় মন।

এই ভাবেই সমাজের বুকে জন্ম নিক হাজার হাজার অনুভব। যারা সমাজের দুর্দিনে সমাজের সকল মানুষের দুঃখকে, অসহায় অবস্থাকে, চোখের জলকে নিজের মনে অনুভব করতে পারবে।
তাই আমরাও বলি–
” নতুন দিনের মানুষ তোরা আয় শিশুরা আয় !
নতুন চোখে নতুন লোকের নতুন ভরসায়।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here