জলের দরে পাওয়া জমি ৪০ বছর হেলায় পড়ে কলকাতায়ঃ ব্যবস্থা নিচ্ছে কে.এম.ডি. এ

0
845

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতাঃ- নূন্যতম মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে যে শহরে মানুষের নাকাল অবস্থা, সেই মহানগরী কলকাতার বুকে ডজন ডজন বরাদ্দ করা জমি প্রায় ৪০ বছর ধরে ফেলে রেখেছেন সরকারের তাঁবেদার আমলা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নেতা থেকে ব্যবসায়ী। এবার টানা চার দশক ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা জমির ব্যাপারে কঠোর মনোভাব নিল কে. এম. ডি. এ।
অনেক দেরীতে হলেও, কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটির ঘুম ভেঙেছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের ওই সব পড়ে থাকা জমি নিয়ে। ইতিমধ্যেই কে. এম. ডি. এর পক্ষ থেকে ওই রকম থাকা ১০০ টি অব্যবহৃত জমি কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ১০০ জনকে অ্যালট্মেন্ট লেটার বাতিলের চিঠিও ইতিমধ্যেই ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ওই সব জমি। তবে, জমি ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যবিত্তদের জন্য বেশ কিছুটা নরম মনোভাব নিয়েছে রাজ্য সরকারের স্বশাসিত সংস্থা কে. এম. ডি. এ। বিশেষ একটি সূত্র জানাচ্ছে, জমি বাতিলের তালিকা বাছাই করে মধ্যবিত্তদের আলাদা করা হচ্ছে। সরকার মানুষের ‘ মানুষের ছাদ’ কেড়ে নিতে চায় না। তাই, মধ্যবিত্তদের জন্য বিশেষ জরিমানা ধার্য করে ওই জমিতে তাদের কে ঘরবাড়ী করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে, শর্ত থাকছে এখন থেকে ২০ বছর তারা ওই জমি কাউকেই বিক্রী করতে পারবেন না।
১৯৮০ র দশকে কলকাতার সল্টলেক, কল্যানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্ত – এই তিন শ্রেনীতে ভাগ করে, সাধারন মানুষ থেকে আমলাদের মধ্যে বসবাসের বাড়ি করার বিভিন্ন মাপের জমি বরাদ্দ করা হয়। দামও ছিল সাধ্যের ভেতর – কাঠা পিছু ১৮০০০ টাকা। তবে, জমি সময় শর্তই ছিল তিন বছরের মধ্যে বাড়ী নির্মান না করলে, কে. এম. ডি এ ফিরিয়ে নেবে জমি।
বার বার নোটিশ করা সত্বেও বহু জমির মালিক বছরের পর বছর অবহেলায় ফেলে রেখেছেন জমি। কলকাতা শহরে, যেখানে জমি দাম সোনার চেয়ে ঢের বেশি, সেখানে হেলায় পড়ে থাকা জমিকে ঘিরে সরকারি সংস্থার নোটিশে এবার চাঞ্চল্য পড়ে গেছে। কে. এম. ডি. এ. র সল্টলেক উন্নয়ন ভবনে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বহুজন। রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমই হলেন কে. এম. ডি. এ.র চেয়ারম্যান। তিনি জানান, ” বাম আমলে জলের দামে পাওয়া জমি প্রায় ৪০ বছর ফেলে রেখেছেন কিছু মানুষ আর কলকাতা শহরে সামান্য মাথার ছাদ টুকুর জন্য মাথা ঠুকে মরছেন অগুন্তি লোক”। তিনি বলেন, ” এই ব্যবস্থা চলতে পারেনা। তাই ওনাদের শেষ সুযোগ দিচ্ছি”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here