দুর্গাপুরে মোদি’র সাথে ফটো তুলেও শিকেয় ঝুলছে লক্ষনের ভাগ্য

0
835

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- লোকসভা ভোটে প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছিল না। ভোট হল, আসনটি জিতল বিজেপি। এবার দলের আসানসোল জেলা সভাপতি খুঁজতে দলের নাকানি চোবানি খাওয়ার দশা।
দু’দফায় রাজ্যের অধিকাংশ সাংগঠনিক জেলা সভাপতিদের তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। ভাগ্য এখনো ঝুলেই রয়েছে আসানসোল জেলার। “লোকাসভা ভোটে এত সাফল্য দিয়েছে যে সভাপতি, স্বাভাবিক নিয়মে তো তারই ক্ষমতায় ফিরে আসার কথা। এত দোনামনা করার কি আছে? ওরা কি চাইছেন, বোঝা যাচ্ছে না”, বলল লেন দলের বর্তমান জেলা সভাপতি লক্ষন ঘড়ুই ঘনিষ্ট যুব নেতা। উল্লেখ্য, বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলা দুর্গাপুর ও আসানসোল মহকুমা নিয়ে, যার অধীন আসানসোল, দুর্গাপুর – বর্ধমান লোকসভা আসন দুটি। আসানসোল আসনে বাবুল সুপ্রিয় আর বর্ধমান – দুর্গাপুরে সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া জিতেছেন ২০১৯ লোকসভা ভোটে।
সম্প্রতি দক্ষিনবঙ্গেঁর বিভিন্ন জায়গায় দলের মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন কে ঘিরে দলীয় কোন্দল রাস্তায় নেমে আসে। প্রকাশ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে।
সেই ২০১৪ সালে সকলকে চমকে দিয়ে, অবাঙালী অধ্যুষিত আসানসোল আসনটি দখল করে প্রভাব বাড়ায় বিজেপি। তখন সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ছিলেন নির্মল কর্মকার। কিন্তু বছর গড়াতেই বাবুল সুপ্রিয়’র সাথে তার বনিবনার অভাবে, সরানো হয় নির্মলকে। আনা হয় আপাত নিরীহ তাপস রায় কে। কিন্তু, বিজেপি’র অবাঙালী সংস্কৃতির সাথে “ভেতো বাঙালী” তাপস ঠিক মানিয়ে নিতে না পারায় সরতে হয় তাকেও। আনা হয়, আর.এস.এস. ঘরানার লক্ষন ঘড়ুই কে। বেশ চলছিল। তবে, দলের অন্দরেই লক্ষন কে ঘিরে অসন্তোষ এমনকি দুর্নীতির অভিযোগ ও মাথা চাড়া দেয়। লোকসভা ভোট প্রচারের মাঝেই লক্ষন ঘড়ূই’র গ্রামে গিয়ে বাবুল সুপ্রিয় ‘অন্য রকম’ গন্ধ পেয়ে প্রকাশ্যে কড়া ভাষায় লক্ষন কে নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেন। এর ঠিক আগেই, সিটি সেন্টারের একটি হোটেলে চিন্তন বৈঠক চলাকালীন, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতাদের সামনে দুর্গাপুরের এক দম্পতি লক্ষন ঘড়ুই কে “ঘুষ খোর” বলে হোটেলের গেটে কার্যতঃ ধর্নায় বসেন। বিব্রত হন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। পরিস্থিতি কোনোও মতে ধামাচাপা দেয় বিজেপি।
এরই মাঝে চলে এল সভাপতি নির্বাচন। যা নিয়ে জোর জল্পনা দলের অন্দরে। নিয়ম মোতাবেক, রাজ্যের পাঠানো নাম চয়ড়ান্ত করবে দিল্লি। এরই মাঝে লক্ষন মনোনীত তিনজন মণ্ডল সভাপতির নাম ঘোষনার পরও প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন রাজ্যের দলীয় নির্বাচনী আধিকারিক প্রতাপ ব্যানার্জি । পাশাপাশি উঠে আসছে পরবর্তী সভাপতি হিসেবে প্রশান্ত চক্রবর্তী নামে এক পুরনো বিজেপি কর্মীর নাম। লক্ষন বলেন, “আমাদের সভাপতি নির্বাচন দলের সম্পূর্ণ আভ্যন্তরীন বিষয়। এতে বিতর্ক – বিবাদের কিছু নেই। দিল্লির যা সিদ্ধান্ত সকলকে তা মানতে হবে”। সু কৌশলে, এরই মাঝে ঝাড়খন্ডের নির্বাচনী প্রচারের জন্য এখানকার অন্ডাল বিমান বন্দরে নামা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে কায়দা করে গা ঘষাঘষি করে ছবি তুলে বাজিমাৎ করতে চেয়েছেন লক্ষন। তাই দেখে, তার বিরোধী শিবিরের এক নেতা সিটি সেন্টারের দপ্তরে বসে রসিকতার ছলে বলেন, “এটা কংগ্রেস পার্ট নয়। এখানে ফটোশেসন করে নেতা হওয়া যায় না। সেটা হয় তো অনেকে জানে না”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here