সেই করোনা’তেই থমকে গেল বাঁকুড়ার প্রীতির স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ যাত্রা

0
1042

অনন্যা রায়, বাঁকুড়াঃ- গ্রীন জোনে দুই শহর-ই, পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া আর স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ। তবু, করোনা গেরোতেই থমকে গেল বাঁকুড়ার প্রীতির স্পেন যাত্রা। তাই হোয়াটস অ্যাপেই দত্তক নেওয়া আড়াই বছরের কন্যা প্রীতি বাউরি কে ‘বার্থ ডে উইশ’ পাঠালেন স্প্যানিশ দম্পতি। আর সাগরপার থেকে ভেসে আসা বৈদ্যুতিন এই বিরল মমতা’র সাক্ষী রইল বাঁকুড়া।

আলোচনার শেষে বাঁকুড়ার জেলা জজ অপূর্ব সিংহ রায় জানালেন, “ভারত- স্পেন দুটি দেশই এখন করোনা আক্রান্ত। যদিও বাঁকুড়া, মাদ্রিদ দুটিই গ্রীন জোনে। তাও, এই সংকটকালে শিশুটিকে অতদূরে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারিনা। সেই কথাই জানালাম স্পেনের দম্পতিকে। ওরা বিষয়টি বুঝেছেন।” ইতিমধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপে ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপে তাদের দত্তক নেওয়া কন্যা প্রীতিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও আলাপ। ভিডিওতে গোটা পরিবারের সাথে দফায় দফায় আলাপ করাচ্ছেন স্পেনের মাদ্রিদের আরাভাকা পাকার সরকারি কর্মচারী দম্পতি ফ্রান্সিস্কো জেভিয়ার হেরেডিয়া ও মারিনা করদেরোমোরালেস। পাঠাচ্ছেন প্রীতির থাকার ঘর, পড়ার ঘরের গুচ্ছ গুচ্ছ ছবি। কোনো ভিডিওতে আবার চোখের জল মুছদেন দত্তক মা।

বাঁকুড়ার ছাতনার চামটাগড়া আদিবাসী মহিলা সমিতির যে অনাথ আশ্রম চলছে ১৯৭৩ সাল থেকে, সেখানে প্রীতি বাউরিকে নিয়ে মোট ১১ জন পিতা-মাতা হীন শিশুর আস্থানা। “ও এখানে এসেছিল ২০১৭ ডিসেম্বরে জন্মের পাঁচদিন দিনের মাথায়। তারপর এটাই ওর ঘর। এখন প্রীতি মা-বাবা পেয়েছে। স্পেনের মাদ্রিদে। চলে যাবে। কেবল করোনার কারণে আর কটা দিন ও এখানে আমাদের অতিথি মাত্র,” ছল ছল চোখে বললেন মোদো সরেন। মোদো-ই হলেন ছাতনার অনাথ আশ্রমটির সচিব। তার স্বামী তপন সরেন উপদেষ্টা। তপন বললেন “আমাদের এই সমিতি থেকে ২০১৬ তে একটি শিশু ইতালিতে গেছে আর ২০১৮ তে আরেকজন গেছে মালটা দ্বীপে। এখনো নিয়মিত যোগাযোগ আছে ওদের সাথে। ভাল লাগে এটা দেখে যে ওরা ভাল আছে।”

প্রীতিকে জিম্মা’য় পাওয়ার পর সরকারি নিয়ম মেনে সেন্ট্রাল অ্যাডপশন রিসোর্স এজেন্সি (কারা) কাছে শিশুটির শারীরিক ও পারিপার্শ্বিক যাবতীয় তথ্য পাঠানো হয়। ‘কারা’ কর্তৃপক্ষ যথারীতি তাদের আন্তর্দেশীয় পোর্টালে ৬০ দিনের জন্য প্রীতির ছবি সহ বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে। কিন্তু টানা দু’মাসেও কোনো ভারতীয় সন্তানহীন দম্পতি প্রীতিকে কোলে তুলে নিতে আগ্রহ দেখাননি। সমিতির সচিব মোদো সরেন জানালেন “এরপর কারা’র নিয়ম অনুযায়ী প্রীতির বিবরণ ও ছবি আন্তর্জাতিক পোর্টালে দিয়ে দেন ওঁরা। সেখানেই সাড়া মেলে স্পেনের দম্পতির কাছ থেকে।”

তারপর বিভিন্ন সরকারি পদ্ধতি ধাপে ধাপে পার করে ফ্রান্সিসকো- মারিনা শেষমেষ প্রীতির দত্তক পিতা-মাতার স্বীকৃতি পেলেন। পেলেন বটে, তবে, তারই মধ্যে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়ে গেল করোনা দাপট। যার ঝাপটা এসে লাগল ছোট্ট প্রীতির জীবনেও। পরিস্থিতি বিচার করে বাঁকুড়ার জেলা জজ এখনই প্রীতিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ যেতে দিতে রাজি হননি। আইন মোতাবেক, যে কোনও জেলার জেলা জজ-ই কিন্তু সেই জেলার সমস্ত অনাথ শিশুর আইনি অভিভাবক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here