কাজ না থাকায় মালদার মুচি হরিজনরা অর্ধ অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন

0
417

সংবাদদাতা, মালদাঃ- প্রথম দফায় লকডাউনের যে সময়সীমা ছিলো দ্বিতীয় দফার লকডাউনে সেই সময়সীমা বেড়ে গেছে। অনেকেই আশা করেছিলেন ১৪ এপ্রিলের পর সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি মোড় নিলো অন্যদিকে।লকডাউনের মেয়াদ বেড়ে গেলো ৩রা মে অবধি। রাজ্যের বেশ কিছু জায়গা চিহ্নিত হলো হটস্পট হিসেবে। কলকাতার বেশকিছু অঞ্চল কে রেডজোন বলে সিলেক্ট করে সিল করে দেওয়া হয়েছে গতকাল।দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ই চলেছে। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী- মুখ্যমন্ত্রী সকলেই জোড় হাতে অনুরোধ করছেন লকডাউনকে সফল করতে হবে।লকডাউনকে কঠোর ভাবে মেনে চলতেই হবে।আর লকডাউনকে কঠোর ভাবে প্রয়োগ করতে গেলে ঘরে থাকতেই হবে।

কিন্তু আমাদের এই দেশটার নাম ভারতবর্ষ। তে দেশে ১৩০ কোটি মানুষের বেশিরভাগ মানুষই দিনমজুর,খেটেখাওয়া মানুষ।এনাদের এক একটি পরিবারে সন্তান সংখ্যাই চার পাঁচ এর ও বেশী। তাই এই লকডাউনে তাদের অন্নাভাব দেখা দিচ্ছে।রেশন থেকে খাবারের যে পরিমাণ বরাদ্দ করা হচ্ছে তাতে এনাদের কুলোচ্ছে না।তাই কখনো অনাহারে কখনো আধবেলা খেয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন বহু মানুষ। ঠিক যেমন মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর দিন আনি দিন খাওয়া বহু মানুষ ই আধবেলা খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

লকডাউন চলছে দেশজুড়ে। এই লক ডাউন এর কারণে তাদের স্বামী সন্তানরা বাড়ির বাইরে কাজে যেতে পারছেন না। এই পরিবার গুলো বেশিরভাগই দিনমজুর খেটে খাওয়া পরিবার। তাদের স্বামী ও সন্তানরা বাইরে কাজ করতে যেতে পারছেন না বলে এই পরিবারগুলির অবস্থা রীতিমতো সঙ্গীন হয়ে উঠেছে। তাদের বক্তব্য যে তারা রেশন ছাড়া আর কোন সুবিধা পাচ্ছেন না। রেশনে তাদের জন্য যে চাল ,গম বরাদ্দ করা হয়েছে সেই চালে তাদের প্রয়োজন মিটছে না। কারণ তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনেক বেশি সেই কারণে তাদের কোন কোন দিনে একবেলা খেয়েও জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এনারা জাতিতে মুচি ও হরিজন। জুতো সেলাই করে এনাদের উপার্জন হয়। লকডাউন এর কারণে তাদের স্বামীরা কোনরকম উপার্জন করতে পারছেন না। সেই কারণেই তাদের এই অবস্থা। তারা গ্রাম পঞ্চায়েতের লোকাল সদস্য তথা পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে বিডিও অফিস অব্দি ছুটেছেন তাদের দাবি জানাতে। কিন্তু কোথাও কোনো ফল হয়নি। তাই স্বামীদের এই কর্মহীনতার কারণেই হরিশচন্দ্রপুরের এই মুচি হরিজন দের পরিবাররা অর্ধ অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন এবং বসে আছেন সাহায্যের আশায়।

লকডাউনের এই সময় আমাদের অনুরোধ রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকার তাদের সাধ্যমত করে চলেছেন। এখন আমাদের ও একটু মানবিক হতে হবে এই সময়ে। আমাদের আশে পাশে যে সকল বাড়িতে খেটে খাওয়া দিন মজুর রা আছেন এই দুঃসময়ে তাদের পাশে আমাদেরকেই দাঁড়াতে হবে।তাই দয়া করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেও একটু খোঁজ নিন পাশের বাড়িতে মানুষ গুলো র হাড়ি চলছে কিনা!এটি আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সকলেই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। খুব শীঘ্রই আমরা রোগমুক্ত সুন্দর একটা সকাল দেখবো ততদিন বাহ্যিক দূরত্ব বজায় রাখুন কিন্তু অন্তরে যেন যোগ থাকে। ফোনেই খোঁজ নিন আশে পাশের বৃদ্ধ বৃদ্ধা মানুষদের। আর এগিয়ে আসুন অসহায় পথ কুকুরদের পাশে।আমরা সবাই ভালো থাকবো আর সবাই মিলেই বাঁচবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here