দুর্গাপুরে হিন্দি ছবি ‘পিপা’ র শুটিংয়ের বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে পুরনো ঘরবাড়ি আতঙ্কিত এলাকাবাসী

0
799

এই বাংলায় ওয়েব ডেস্কঃ- দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে এই প্রথমবার কোন বলিউডের হিন্দি ব্লকবাস্টার ছবির শুটিং শুরু হয়েছে । ১৯৭১ সালের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের পটভূমি নিয়ে এই ছবি। শুটিং শুরু হয়ে গিয়েছে বেশ কয়েকদিন হল। ইতিমধ্যেই দুর্গাপুরের এফ সি আই ভগ্নপ্রায় কোয়াটার সংলগ্ন ময়দানে যুদ্ধের শুটিং চলছে । এই ছায়াছবিটি ‘রায় কাপুর’ ফিল্মসের প্রযোজনায় শুরু হয়েছে। নির্দেশনায় আছেন রাজা কৃষ্ণ মেনন । এই ছায়াছবির মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন ঈশান কাটারা ও প্রিয়াংশু পানিওয়ালি। যেহেতু এই হিন্দি সিনেমাটি ১৯৭১ এর ভারত পাকিস্তান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ,তাই বিভিন্ন সামরিক অস্ত্র শস্ত্র এখনে নিয়ে এসে হাজির করা হয়েছে ওই শুটিং ময়দানে । অত্যাধুনিক অস্ত্র শস্ত্র ছাড়াও রয়েছে কামান, ট্যাংক ও ১৯৭১ সালে ব্যবহৃত তৎকালীন সামরিক অস্ত্র শস্ত্র । সামরিক ট্যাংকের ওপর চেপে ভয়ঙ্কর যুদ্ধের ছবি শুটিং করছেন ছবির নায়ক, চলছে গোলা-গুলি। কামানের গোলাতে আকাশে কালো হয়ে যাচ্ছে সাথে সাথে হচ্ছে বিকট শব্দ ও বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে আশেপাশের জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা এফ সি আই কোয়াটার গুলি। এফ সি আই ভগ্নপ্রায় কোয়াটার গুলিতে এখনও বহু মানুষ বসবাস করছেন বেশিরভাগই বরিষ্ঠ নাগরিক। শ্যুটিং চলাকালীন যে সমস্ত বিস্ফোরণ করা হচ্ছে তাতে তাদের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে শুধু তাই নয় জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা তাদের ঘরের ছাদের অংশও ফাটল দেখা দিচ্ছে। স্বভাবতই আতঙ্কিত এলাকাবাসী।

কেন্দ্রীয় সরকারের বন্ধ হয়ে যাওয়া সার কারখানার আবাসন এলাকায় কিভাবে সামরিক ট্যাংকের গোলা বিস্ফোরণের শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হল তা নিয়ে সরব হয়েছেন এলাকাবাসীরা। আজ বেশ কিছু বরিষ্ঠ নাগরিক শ্যুটিং চলাকালীন এলাকায় গিয়ে শুটিং করতে আসা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন যাতে তারা এই বিকট শব্দের বিস্ফোরণ এলাকায় না করেন । ‘কিন্তু কে কার কথা শোনে’। শুটিং করতে আসা সংস্থার প্রতিনিধিরা পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে তারা শুটিংয়ের বৈধ অনুমতি নিয়েই এখানে শুটিং করতে এসেছেন তাই তাদের শুটিংয়ের কাজ বন্ধ করার প্রশ্নই ওঠে না ।

কেন্দ্রীয় সরকারের বন্ধ হয়ে যাওয়া সার কারখানার আবাসনে এখনো যে সমস্ত প্রাক্তন কর্মীরা রয়েছেন তাদের সকলেই এখন বরিষ্ঠ নাগরিক। তাদের একটাই প্রশ্ন কি করে জনবহুল এলাকা তে অনুমতি দিল সরকার ও পুলিশ প্রশাসন এইভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শুটিং করার। কারা নিল জনবহুল এলাকায় এরকম সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেছেন তারা। কিভাবে এই জনবহুল এলাকায় যেখানে সমস্ত সিনিয়র সিটিজেনরি বাস করেন যারা , একসময় এই কারখানায় কাজ করতেন সেখানে এভাবে অনুমতি দেওয়া হল শুটিংয়ের জন্য প্রশ্ন তুলছেন তারা। কেন্দ্রীয় সরকারের বন্ধ হয়ে যাওয়া সার কারখানার প্রাক্তন কর্মীরা অবিলম্বে দুর্গাপুর মহকুমা শাসক ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা শাসককে এই বিষয়ে অভিযোগ জানাবেন বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here