কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার প্রতিবাদে ডি.এস.পির জি.এম.পি.এস গার্লস স্কুলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ

0
880

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- সারা রাজ্যে চলছে লকডাউন পরিস্থিতি। এরই মধ্যে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন বিভাগ সচেষ্ট হয়েছেন সাধারণ মানুষকে করোনা ভাইরাস সম্বন্ধে সচেতন করতে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে উন্নত মানের করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই সূত্র ধরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছোট-বড় হাসপাতাল গুলিকে করোনার মোকাবেলায় তৈরি থাকতে বলা হয়েছিল। সেই মতো রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে চিহ্নিত করা হয়েছে ৪৭ টি এমনই হাসপাতাল যেখানে করোনা আক্রান্ত মানুষজনের চিকিৎসা করা হবে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালটি কে কোভিড হাসপাতাল করা যায় কি না বা কোভিড হাসপাতালের পরিকাঠামো আছে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
অন্য একটি সূত্রের খবর – দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরী বি-জোনের এডিসন মোড়ে অবস্থিত গার্লস স্কুলটি পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন‍্যতম কোয়ারান্টাইন সেন্টার করতে চলেছে রাজ‍্য সরকার। দুটোই জনবহুল জনবসতির মধ্যে অবস্থিত।

দুর্গাপুরে এই ঘটনা জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ ইস্পাত নগরী স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা দলে দলে জড়ো হতে শুরু হয় স্কুল গেটের সামনে। স্কুলের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষী ও পরিষ্কার করার জন্য যে ঠিকাদার সংস্থার কর্মীরা কাজে ব্যস্ত ছিলেন তাদেরকে আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন সাধারণ ইস্পাত নগরী স্থানীয় বাসিন্দারা। স্কুল থেকে বার করে দেওয়া হয় ঠিকাদার সংস্থার কর্মীদেরকে। উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা ওই ঠিকাদার সংস্থার কাছ থেকে জানতে চান যে কার অনুমতিতে তারা এই স্কুলটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজে করছেন। যদিও ঠিকাদার সংস্থাটি জানিয়েছে তারা শুধুমাত্র স্কুলটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য আগে থেকেই এখানে নিয়োগ হয়ে আছেন। এর পরেই স্থানীয় সাধারণ ইস্পাত নগরীরের বাসিন্দারা স্কুলের মূল গেট টিকে বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেন।

পুলিশ প্রশাসনের কাছে খবর যেতে ছুটে আসে পুলিশ বাহিনী। পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় উত্তেজিত বাসিন্দাদের কে বোঝানোর চেষ্টা করা হয় কিন্তু সাধারণ বাসিন্দারা পুলিশের কোন কথা না শুনেই একই কথাই বারবার বলতে থাকেন কোনোভাবেই ইস্পাত নগরী ভেতরে জনবহুল এলাকায় এই ভাবে তারা কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করতে দেবেন না। এলাকার বাসিন্দারা যোগাযোগ করেন এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরোমাতা মনির দাশগুপ্তর সঙ্গে, তাকে ঘটনাস্থলে আসার অনুরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু তিনি অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় না আসতে পারার জন্য ক্ষমা চান বাসিন্দাদের কাছে। এতে সাধারণ ইস্পাত নগরীর স্থানীয় বাসিন্দারা আরো উত্তেজিত হয়ে পড়েন। উত্তেজিত জনতা দলবেঁধে স্থানীয় পুরোমাতা মনি দাশগুপ্তের বাড়িতে চড়াও হন। তিনি বাড়িতে সেই সময় না থাকায় ফিরে এসে তারা পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন।

দুর্গাপুর পুলিশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি কে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীরা। পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে আপাতত স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ তুলে নেন। কিন্তু হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখেন যদি স্কুলটিকে কোনভাবে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার কাজ করা হয় তাহলে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন।

এ দিকে এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরোমাতা মনির দাশগুপ্তকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান আমি এই এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও ভোট পেয়ে এই এলাকায় কাউন্সিলার নির্বাচিত হয়েছি। সাধারণ মানুষের সুখ, দুঃখ ,কষ্ট ,অভিযোগ, দেখা আমার প্রথম কর্তব্য। কিন্তু আজকে যেভাবে আমার বাড়িতে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা যেভাবে ব্যবহার করেছেন তাতে আমি দুঃখিত ও মর্মাহত। আমি সবসময় এলাকার মানুষের পাশে থাকি সেটা এলাকার মানুষের ভালো করে জানে। আমি যতদূর জানি এখনো পর্যন্ত এই স্কুলটিকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানি, তবে যদি এইরকম কোন প্রস্তাব আসে তা তাহলে আমি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ও আমার দলের উচ্চ স্তরের নেতৃত্বকে জানাবো বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক অনির্বাণ কোলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর ভেতরে কোনরকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করার কোনো আলোচনা বা প্রস্তাব এখনো পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নেই। তিনি সাধারণ ইস্পাত নগরীর বাসিন্দাদের কে অনুরোধ করেছেন যাতে তারা গুজবে কান না দেন, সুস্থ থাকুন, বাড়িতে থাকুন এই অনুরোধ জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here