কর্মব্যস্ততার যুগে হারিয়ে যাচ্ছে ভাদু পুজোর প্রচলন

0
859

সঞ্জীব মল্লিক , বাঁকুড়া :- আধুনিক সভ্যতা, সোশাল মিডিয়া, আর কর্মব্যস্ততার যুগে হারিয়ে যাচ্ছে লোক সংস্কৃতি কমেছে ভাদু পুজোর প্রচলন, দূর্গো পুজোর আগে কমেছে আয়, ফিকে পূজোর হাসি মৃৎশিল্পীদের। রাঢ় বাংলার অন্যতম লোক উৎসব ভাদুপূজো। ভাদ্র মাসের সংক্রান্তিতে এই উৎসবে মাতেন সাধারণত মহিলারা। লোককথা অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়ার কাশীপুরের পঞ্চকোটের রাজা নীলমনি সিংহদেও এর কন্যা হলেন ভাদু, যার নাম ছিল ভদ্রেশ্বরী। নীলমনি রাজার কন্যা ভদ্রেশ্বরীর অকাল মৃত্যুর স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতেই শুরু হয় ভাদু পুজো। কোন মৃৎ শিল্পীর কাছ থেকে সুন্দরী রমণীর মূর্তি এনে করা হয় পূজো। তবে পূজোর কোন বৈদিক মন্ত্র নেই, এই পূজোর মন্ত্র হল লোক গান, যে গানের মধ্যে ফুটে ওঠে নারী সমাজের গান। এক সময় এই ভাদু পূজো কে কেন্দ্র করে উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। গ্রাম বাংলার এমন কোন পাড়া ছিল না, যেখানে ভাদ্র মাসের সংক্রান্তির আগে রাতের বেলা ভাদু গান শোনা যেত না। ভাদু পুজোকে কেন্দ্র করে চলত পাড়ায় পাড়ায় লড়াই। তবে ধীরে ধীরে কমেছে সেই রেওয়াজ। এখন ভাদু পুজোর প্রচলন অধিকাংশ এলাকায় প্রায় বন্ধের মুখে। ফলে দুর্গাপূজার আগে আয় কমেছে মৃৎশিল্পীদের। বাড়ির ছেলে মেয়েদের জামা কাপড় থেকে অনান্য সদস্যদের ও কেনাকাটায় ভাটা পড়েছে। বাঁকুড়ার পাঁচমুড়ার মৃৎশিল্পী সাগর কুম্ভকার, মমতা কুম্ভকারদের কথায়, আগে যেখানে প্রতিটি পরিবার আশি থেকে কমপক্ষে একশটি ভাদু তৈরী করত, এমনকি তিনশি পর্যন্ত ভাদু তৈরী করত এবং তা অনায়াসে বিক্রি করতো এখন অধিকাংশ মৃৎশিল্পী ভাদু করাই বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও কিছু কিছু ভাদু করা হয় সেগুলোই বিক্রি হয় না। তারা জানান, দুর্গাপূজার আগে ভাদু বিক্রি করে ভালো আয় হতো যা দিয়ে পুজোর কেনাকাটা করতেন তাঁরা, ছেলে মেয়েদের মুখে হাঁসি ফুটত। তবে এখন সেই আয় আর নেই। প্রাবন্ধিক,লোক সংস্কৃতির গোবেষক রামামৃত সিংমহাপাত্র বলেন, আগে গ্রাম গুলো পরিপূর্ণ ছিল, এখন গ্রাম গুলো শুন্য হচ্ছে, গ্রাম ছেড়ে মানুষ শহর মুখী হচ্ছে, পড়াশুনোর সুযোগ বেড়েছে, মা বাবার এখন মেয়েদের পড়াশুনোয় অনেক বেশি চিন্তিত, সেই কারণে ধীরে ধীরে এই হয়তো কমে যাচ্ছে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here