মানবতা আজও বেঁচে আছে, ৬ দিন অভুক্ত অবস্থায় থাকা প্রতিবন্ধী ছেলে ও তার বাবাকে সাহায্য করলেন সহৃদয় গ্রামবাসীরা

0
512

সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদঃ- আজ এমন এক সত্যিকারের এর ঘটনা আপনাদের বলব যেটি শুনলে আপনারা বুঝতে পারবেন মানবতা আজও বেঁচে আছে। বলবো বুবাই রায় ও আকাশ রায়ের কথা। উত্তর ২৪ পরগণার সোনারপুরের বাসিন্দা বুবাই রায় ও তার প্রতিবন্ধী ছেলে আকাশ রায় ঠিকা শ্রমিকের কাজ করতে যান মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায়। নতুন ফারাক্কা ব্রিজ নির্মাণে তারা কাজ করছিলেন। এরপর লকডাউন ফেঁসে যান তারা দুজন। লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় ঠিকাদারী সংস্থা তাদের টাকা মিটিয়ে দেয় ও ফিরে যেতে বলে। বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রেল লাইন ধরে হাঁটা শুরু করেন বাবা ও ছেলে। ফারাক্কারই এক পথে ছেলের জলতেষ্টা পেলে বাবা নিকটবর্তী এক গ্রামে যান জল আনতে। সংক্রমণের ভয়ে নতুন লোক দেখে বুবাইকে মারতে শুরু করেন গ্রামবাসী। কোনোক্রমে পালিয়ে আসেন বুবাই রায়। এরপর বুবাই রায় আসেন ডাকবাংলো মোড়ে সেখানে ও তিনি পুলিশের কাছে মার খান। এরপর জঙ্গিপুর স্টেশনে আসে তারা সেখানকার জি আর পি তাদের থার্মাল স্কিনিং এ পাঠায়। তারপর জি আর পি তাদের ছয় কেজি চিঁড়ে কিনে দেয় ও তাদের ছেড়ে দেয়। আবার তারা হাঁটতে শুরু করে রেল লাইন ধরে। একসময় তারা পৌছায় সাগরদীঘি থানার ছামু গ্রাম এলাকায়। রাত হয়ে গিয়েছিলো ছেলেও হাঁটতে পারছিলোনা আর তার সাথে দুর্যোগ। এইসময় তারা কোথায় যাবে ভেবে পাচ্ছিলো না! নিকটবর্তী গ্রামেও তারা যেতে পারছিলেন না ভয়ে। একটি স্কুলবাড়ির দোতলার ঘরে কোনোরকমে আশ্রয় নেন তারা। এরপর টানা ৪০ দিন তারা সেখানেই ছিলেন। একসময় তাদের খাবার ও ফুরিয়ে যায়। অভুক্ত অবস্থায় তারা পড়ে ছিলেন গত ছয়দিন। ছয়দিন ধরে তারা শুধু জল খেয়েই ছিলেন। ৪০ দিনের দিন বিকেলের দিকে কিছু ছেলে সেই এলাকায় খেলতে এসে ব্যাপারটা জানতে পেরে গ্রামের মানুষকে খবর দেয়। এই ছেলেগুলি তখন বুবাই রায়ের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি সমস্ত ঘটনা ছেলেগুলিকে খুলে বলেন। এরপর গ্রামের মানুষ তাদের খাবার ব্যবস্থা করেন। সাথে দেন মশারি, সাবান, যাবতীয় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস!
তাকে ভাত খাওয়ার কথা জিজ্ঞেস করলে বুবাই রায় জানান যে ভাত তিনি অনেকদিন খাননি। তখন তারা বুবাই রায়ের ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। বুবাই রায় নিতে না চাইলেও কিছু সহৃদয় মানুষ তার হাতে জোর করেই টাকা তুলে দেন। গ্রামের মানুষরা জানান লকডাউনে বাবা ছেলেকে খাবার পাঠাবেন তারা প্রতিদিন। আর লকডাউন মিটলে বাবা ছেলের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থাও করবেন তারা। এখনও মানবতা বেঁচে আছে। সকলেই অমানবিক নয় তার জ্বলন্ত প্রমাণ বুবাই রায় ও আকাশ রায় এর এই ঘটনা। ভালো থাকুক সাগরদীঘির ছামুগ্রামের সহৃদয় মানুষরাও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here