বারাসত আদালত চত্ত্বরেই লকেট চ্যাটার্জী ও সুদীপ ব্যানার্জীর ঠান্ডা লড়াই

0
563

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ লোকসভা ভোটের সম্মুখ সমরে নামতে এখনও দিন কয়েক বাকি। কিন্তু প্রচারের ময়দানে মাইন্ড গেমের ময়দানে বিরোধী পক্ষকে এক চুল ছাড়তে নারাজ কোনও পক্ষই। যার আরও এক প্রমাণ মিললো সোমবার বারাসত আদালত চত্ত্বরেই। যেখানে সাংবাদিকদের সামনে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জী। শুরু থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন লকেট। তাঁর বক্তব্য, বসিরহাটের দাঙ্গার রেশ ভোলাতে বাংলা সিনেমার তারকা নুসরতকে প্রার্থী হিসেবে বসিরহাটে দাঁড় করানো হয়েছে, আসলে তারকাদের মুখ দেখিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা। ভোট পেরোলেই এই তারকা প্রার্থীদের হাত বেঁধে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বিরুদ্ধে তোপ দেগে লকেটের বক্তব্য, রামনবমী ও মহোরমে অস্ত্র নিয়ে মিছিল বেরোলেই সন্ত্রাস হয় না, সন্ত্রাস হয় অন্য দিক থেকে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার মতো গুরুতর অভিযোগও তোলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে “হ্যাঙারে ঢুকিয়ে দেওয়া” মন্তব্য প্রসঙ্গে লকেটের খোঁচা, কয়েক বছর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতা বলেছিলেন মেয়দের ঘরে ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেব, তাই মুখমন্ত্রীও সেই একই সুর আওড়াচ্ছেন। এককথায়, সোমবার বারাসতে রাজনৈতিক এক মামলার হাজিরা দিতে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতায় সরব হলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে লকেট মুখোপাধ্যায়ের মুখ থেকে শাসক দলের বিরোধিতায় যখন একের পর এক বাক্যবান নিক্ষেপিত হচ্ছে তখন পিছিয়ে থাকলেন না তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সোমবার অন্য এক মামলায় বারাসত আদালতে হাজিরা দিতে উপস্থিত হয়েছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েই নরেন্দ্র মোদী তথা কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহাকে উদ্দেশ্য করে তীব্র কটাক্ষ করলেন এই তৃণমূল সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, এই নিয়ে ন’বার কলকাতা কেন্দ্র থেকে জয়ী হতে চলেছেন তিনি। আর এই বক্তব্যের সঙ্গেই শুরু করে দিলেন বিরোধী পক্ষের সঙ্গে মাইন্ড গেম খেলার কৌশল। সম্প্রতি দেশপ্রেম নিয়ে লালকৃষ্ণ আডবানির করা মন্তব্য ‘বিরোধিতা মানেই দেশদ্রোহী নয়’ প্রসঙ্গে সুদীপ ব্যানার্জী মন্তব্য করেন এর চেয়ে বড় সত্য বোধহয় নেই। সেই সঙ্গে আডবানির করা মন্তব্যে সীলমোহর দেন তিনি।