তিন মাসের মধ্যেই কী পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের সম্ভাবনা ?

0
6796

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ বহু প্রতীক্ষিত ২০১৯ লোকসভা ভোটের ফলাফল দেশ তথা বিশ্ববাসীর সামনে। ভোট গণনার শেষলগ্নে যা পরিস্থিতি তাতে দেশে গেরুয়া শিবিরের ক্লিন সুইপ বললেও বোধহয় কম বলা হবে। লোকসভা ভোটের সপ্তম দফা ভোট গ্রহণ শেষে বিভিন্ন বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের বুথ ফেরত সমীক্ষা আগাম জানিয়েছিল দেশে গেরুয়া শিবিরের “ব্যাক উইথ ব্যং”-র, পূর্বাভাস। কিন্তু অতীতের বুথ ফেরত সমীক্ষার ইতিহাস ঘেঁটে এবারের বুথ ফেরত সমীক্ষা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও পক্ষই আগাম কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। কিন্তু বৃহস্পতিবারের লোকসভা ভোটের বাস্তব ফলাফল শুধু বুথ ফেরত সমীক্ষাকে সত্যিই করলো না ২০১৪ লোকসভা ভোটে বিজেপি তথা গেরুয়া শিবিরের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাকেও ছাপিয়ে গেল। দেশ জুড়ে গেরুয়া সুনামি কার্যত খড় কুটোর মতো উড়িয়ে নিয়ে গেল বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে। ব্যতিক্রম হল না তৃণমূল কংগ্রেস একক নিয়ন্ত্রণাধীন পশ্চিমবঙ্গও। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৪২-এ ৪২-র স্বপ্নকে চুরমার করে দিয়ে লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণার শেষ লগ্নে রাজ্যে ৪২ আসনের মধ্যে ১৯টি আসনে থাবা বসালো গেরুয়া শিবির। বর্ধমান-দুর্গাপুর, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, পুরুলিয়া, আসানসোল, বনগাঁ সহ বিভিন্ন হেভিওয়েট প্রার্থী সমন্বিত কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসকে বহু পেছনে ফেলে রাজ্যে গেরুয়া আবির্ভাবের ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে বিজেপি। স্বভাবতই বিভিন্ন মহলেই এর মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গে একক আধিপত্য বিশিষ্ট তৃণমূল কংগ্রেসের এহেন ভরাডুবির কারণ কী? ভোট চলাকালীন রাজ্যে ভোট প্রচারে এসে বার বার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত স্পষ্ট করেছিলেন বিজেপি সুপ্রিমো তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে প্রচারে এসে তিনি জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ৪০ জন বিধায়ক তাঁর সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রেখে চলেন। ২৩শে মে লোকসভা ভোটের ফলাফল তাঁর সেই বক্তব্যকেই ক্রমে সত্যি প্রমাণিত করছে। কারণ ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে ৪২ আসনের মধ্যে ১৯টি আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে বিজেপি, আর গণনার শেষঅবধি যদি এই ফলাফলই থাকে তাহলেও ১৯x৭ = ১৩৩ জন বিধায়ক ইতিমধ্যেই বিজেপির ঝুলিতে। প্রধানমন্ত্রীর ৪০ বিধায়কের তত্বকে সত্যি করেও যা ইতিমধ্যেই ছাপিয়ে গেছে। প্রশ্ন উঠছে যেখানে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রচারে রাজ্য সরগরম হয়ে উঠেছিল সেখানে রাজ্যে এভাবে বিজেপির এহেন দাপট বাড়ার কারণ কি? তাহলে কী লোকসভা ভোটের প্রচারে যেসমস্ত তৃণমূল হেভিওয়েট নেতৃত্ব ৪২-এ ৪২ নিয়ে গলা ফাটাচ্ছিলেন তার সবটাই কি ছিল ফাঁকা আওয়াজ? নাকি শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীকে তোষণ করতেই ৪২-এর স্বপ্নে বুঁদ হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী থেকে শুরু করে তাবড় তাবড় নেতারা? বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন, “এরাজ্যে বিজেপি ১০টা আসন পেলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন”। তাহলে বৃহস্পতিবারের লোকসভা ভোটের ফলাফল অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক জীবনেও ইতি টানলো বলে মনে করা যেতে পারে। এরকম পরিস্থিতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী করনীয় হতে পারে? কারণ বিরোধী দল হিসেবে লোকসভা ভোটে বিজেপির ফলাফল তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে বাধ্য। রাজ্যে ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে যে তৃণমূল কংগ্রেস ২৯৪টি আসনের ২১১টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল সেই ২৯৪ আসনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৩৩টি আসন বিজেপির দখলে চলে গেছে বলেই ধরে নেওয়া যায়। এরকম পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা কী হতে পারে তৃণমূল কংগ্রেসের? তড়িঘড়ি বিধানসভা নির্বাচন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই ধারনা লোকসভা ভোটের এই ফলাফলের জেরে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে তৃণমূল কংগ্রেসের, তাই এরকম পরিস্থিতিতে আগামী তিন মাসের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পথেই তৃণমূল কংগ্রেস হাঁটতে চলেছে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।