অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আবার সৌজন্যতাবোধ – এরই নাম রাজনীতি

0
655

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ দোরগোড়ায় লোকসভা ভোট। শাসক, বিরোধী বিভিন্ন দলের প্রার্থী তালিকাও মোটামুটিভাবে প্রকাশিত। সাধারণ মানুষের কাছে নিজের নিজের দলের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে প্রচারে নেমেছেন দলীয় প্রার্থীরা। আর রাজনীতির এই খোলা ময়দানে কেউ কাউকে এতটুকু জায়গা ছেড়ে দিতে নারাজ। তাই ভোট আসতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যেই শুরু হয়েছে পুরনো রীতি, সেই কাদা ছোঁড়াছুড়ি। আজ তৃণমূলের দেওয়াল লিখন মুছে দেওয়ার অভিযোগ তো কাল বিজেপির দেওয়াল লিখনে গোবর লেপে দেওয়ার অভিযোগ আবার কখনো কখনো এইসমস্ত কিছুর উর্ধে উঠে সরাসরি বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের উপর হামলা করার মতো ঘটনাও রয়েছে। এমনই এক ঘটনা গত বৃহস্পতিবার ঘটেছিল বাঁকুড়া জেলার রানীবাঁধের সিঁদুরপুর গ্রামে। রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য ও রানীবাঁধ এরিয়া কমিটির সম্পাদক মধুসূদন মাহাতোকে। ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রিত দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে। সিপিএমের তরফে দাবী করা হয়েছিল এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করতেই সিপিএম নেতার উপর এই হামলা করা হয়েছে। রাজ্যের রাজনীতিতে ঠিক এরকম যখন অবস্থা তখন বিরোধী দলের প্রতি সৌজন্যতাবোধ জ্ঞাপন করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ সুভাষ সরকার । শনিবার ভোট প্রচারের ব্যস্ততার ফাঁকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত সিপিএম নেতা মধুসূদন মাহাতোকে দেখতে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পৌছালেন তিনি। সেখানে আহত নেতার শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনেও জানানো হবে বলে জানান তিনি। একদিকে যখন ভোটের মুখে প্রচারের কাজে ব্যস্ত অন্যান্য প্রার্থীরা তখন বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর এহেন রাজনৈতিক সৌজন্যতা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু একদিকে যখন রাজনীতির আঙিনায় সৌজন্যতা দেখা যাচ্ছে তখন অন্যদিকে শাসক-বিরোধী তরজা অব্যহত। ফের বিজেপির দেওয়াল লিখন মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ঘটনা বাঁকুড়ার তালডাংরার হাড়মাসড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার খিচকা গ্রামে। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিরা রাতের অন্ধকারে খিচকা গ্রামের দুলেপাড়ায় তাদের দলীয় প্রার্থী ডাঃ সুভাষ সরকারের সমর্থণে লেখা দেওয়াল লিখন মুছে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিজেপির দেওয়াল লিখন মুছে সেখানেই আবার তৃণমূল প্রার্থীর নামে দেওয়াল লিখন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও শাসকদল তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে।