মাইথন জলাধারের জলস্তর নামলো ৭ মিটার নিচে, শিল্পাঞ্চল জুড়ে তীব্র জলসংকটের আশঙ্কা

0
2035

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গ্রীষ্মের দাবদাহ এখনও শুরু হয়নি, গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রার পারদ ধীরে ধীরে চড়তে শুরু করলেও এখনও শিল্পাঞ্চল জুড়ে সেভাবে দাবদাহ শুরু হয়নি। কিন্তু তার আগেই তীব্র জলসংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে দক্ষিনবঙ্গের সমগ্র শিল্পাঞ্চল জুড়ে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে খুব দ্রুত কমতে থাকা মাইথন জলাধারের জলস্তরকেই দায়ী করা হচ্ছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে থেকেই দ্রুত কমছে মাইথন জলাধারের সঞ্চিত জল। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, গত বছর ঠিক এইসময় মাইথন জলাধারে যে পরিমাণ জল সঞ্চিত ছিল, বর্তমান সময়ে সেই জলের পরিমাণ ৭ মিটার (১৪ ফুট) কমে গিয়েছে। গত কয়েকদিন আগেও যারা মাইথন জলাধার ঘুরে এসেছেন তারা সহজেই এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছেন। প্রশ্ন উঠছে কী কারণে গ্রীষ্মের শুরুর আগেই মাইথন জলাধারে এতটা জলের ঘাটতি দেখা দিল? এর প্রধান কারণ অবশ্যই বর্ষাকালের স্বল্প বৃষ্টি এবং পানীয় জলের চাহিদা বৃদ্ধি। মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় জলের চাহিদা মেটাতে গিয়েই মাইথন জলাধারের জলের পরিমাণ এরকম অস্বাভাবিক ভাবে নেমে গিয়েছে। মাইথন জলাধারের এক বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে, এইভাবেই যদি আগামী ১৫ দিন জলের পরিমাণ কমতে থাকে তাহলে শুধুমাত্র জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে জলের প্রয়োজন হয় সেই জল ছাড়া পানীয় জল ও সেচের কাজের জন্য বরাদ্দ জল সরবরাহ করা সম্ভব হবে না বলে জানা গেছে। এমনিতেই ডিভিসির ক্ষতির পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তার মধ্যে যদি জলের ঘাটতির জেরে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় তাহলে সেই ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে কয়েকগুণ। জলের ঘাটতির জেরে শুধু মাইথন ড্যাম নয়, দুর্গাপুর ব্যারেজ ও পাঞ্চেত জলাধারের মতো বিভিন্ন জলাধারেও জলের পরিমাণ কমবে। ফলস্বরূপ দুর্গাপুর ও আসানসোল জুড়ে পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিতেই পারে। ২০১৭ সালে দুর্গাপুর ব্যারেজের লকগেট ভেঙে যে জলসংকট দেখা দিয়েছিল শিল্পাঞ্চল জুড়ে সেই ঘটনারই ফের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সেইসময় সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রয়োজনের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি জল সঞ্চয় করে রাখা হবে বিভিন্ন জলাধারে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে ঠিক তার উল্টো ঘটছে। গ্রীষ্মের শুরুর আগেই মাইথন জলাধারের ২৫ শতাংশ জল কমে গিয়েছে, ফলে কমেছে বাকি অন্যান্য জলাধারের জলের পরিমাণও। জল সংকটের এই আঁচ বোধহয় আগেভাগেই পেয়েছিলেন দুর্গাপুর পুরসভার আধিকারিক ও জলদফতর। আর সেই কারণেই আপাতকালীন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সম্প্রতি দুর্গাপুর শহর জুড়ে প্রথম ধাপে ২৫টি ডিপ টিউবওয়েল বসানোর পরিকল্পনার সূচনাও করা হয়। কয়েকদিন আগে দুর্গাপুরে সেই প্রকল্পের ঘটা করে উদ্বোধন করেন মেয়র দিলীপ অগস্তি মহাশয়। যার কাজ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। দিন কয়েক আগে থেকেই দুর্গাপুর স্টীল টাউনশিপ এলাকায় দিনে একবার করে পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে খবর, এই খবর যদি সত্যি হয় তাহলে পুরো গ্রীষ্মকালের জন্য দুর্গাপুর স্টীল টাউনশীপবাসীর জন্য কী দুরবস্থা অপেক্ষা করে আছে তা সহজেই অনুমান করা যায়।