২০ বছর পর এম এ এম সি বাঁচানোর ‘দায়’ এখন মমতার ঘাড়ে

0
936

বিশেষ প্রতিনিধি, দুর্গাপুরঃ- নিয়তির ঠেলায় বল এবার মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কোর্টে। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে তালাবন্ধ এম. এ. এম. সি. র পুনরুজ্জীবনে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই শেষে দরবার করল সংস্থার “ছাঁটাই” হওয়া শ্রমিকদের একটি সংগঠন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বন্ধ এম এ এম সির ‘হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন’ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়ে, কারখানা পুনরুজ্জীবনে রাজ্য সরকারের অংশীদারির আর্জি জানিয়েছে। সংগঠনের সাধারন সম্পাদক অসীম চট্টোপাধ্যায় ওই আর্জিতে মুখ্যমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়ে বলেন। “সরকারী সংস্থা বি.ই.এম এলের অংশীদারির পুরোটাই কিনে নিক রাজ্য সরকার আর এভাবেই কারখানাটি নতুন করে খোলার পথ সুগম হবে।” তিনি আরো বলেন “কারখানা খুললে যেমন হাজার হাজার কর্ম সংস্থান হবে তেমনি কয়লাখনি শিল্পের প্রয়োজনে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানিও বন্ধ হবে।” সালটা ১৯৯৯ যখন কেন্দ্রে অটল বিহারী বাজপাই-র নেতৃত্বাধীন এন.ডি.এর সরকার। দীর্ঘকাল থেকে পুনরুজ্জীবনের আশায় ধুঁকতে থাকা দুর্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ব ‘মাইনিং এন্ড অ্যালয়েড মেশিনারি কর্পোরেশন’ (এম.এ.এম.সি) কে ঘিরে রাজ্য- রাজনীতি তখন তুঙ্গেঁ। বাম সরকার বারে বারে কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে এন.ডি.এ.কে তুলোধনা করছেন। রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জোতিবসু বাম শ্রমিক সংগঠন সিটু, এ আই টি য়ু সি দফায় দফায় কেন্দ্রের বিলগ্নীকরনের সিদন্তের বিরুদ্ধে বনধ, অবরোধ, মামলা করছেন একের পর এক। বাংলার লড়াকু নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় তখন বাজপেয়ী সরকারের জোট সঙ্গীঁ। এ রকমই একটা সময়, দুর্গাপুরে নির্বাচনী প্রচারে এসে তৃনমুল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, ওই এম এ এম সির শ্রমিক কলোনিতেই হাটে একটি ‘ফ্যাক্স বার্তা’ তুলে ধরে ঘোষনা করলেন- ‘ এম এ এম সি বন্ধের অপপ্রচারে কান দেবেন না। বাজপেয়ী জি আমাকে কারখানা পুনরুজ্জীবনের কথা জানিয়ে এই ফ্রাক্স বার্তা পাঠিয়েছেন।’ তারপর বহুজল গড়িয়েছে দামোদর দিয়ে। কথা রাখেননি বাজপেয়ী।”কারখানা বাঁচাতে দরকার ছিল ১৪২ কোটি টাকা। সেটা দিল না। অথচ কারখানা বন্ধ করতে ৩০০ কোটি টাকার বেশি খরচ করল স্বেচ্ছাবসর আর ধার দেনা মেটাতে,” আক্ষেপ সংস্থার এক সময়ের ডাকসাইটে নেতা আর হেলা সিটুর সভাপতি বিনয় চক্রবর্তীর। বিনয় বাবু অবশ্য রাজ্যসরকারের কাছে নতুন করে কারখানা খোলার আর্জির বিষয়ে খুব বেশি আশাবাদী নন। বললেন, “আমার জানা নেই আদৌ কি হবে!” বিনয়বাবুর মতামত সম্পর্কে অসীমের কটাক্ষ,”ওনারা তো কোনোদিনই আশার কথা ভাবেন না। ওনারা হতাশায় ডুবে আছেন।” তখন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বন্ধ এম এ এম সি বাঁচাতে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা ভারত আর্থ মুভারস লিমিটেড (বি.ই.এম.এল), কোল ইন্ডিয়া আর দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডি.ভি.সি) র যৌথ উদ্যোগে, ২০০৯ সালে তৈরি হল একটি কনসোর্টিয়াম। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে,২০১০ সালে বন্ধ কারখানাটির মালিকানা গেল ওই কনসোর্টিয়ামের হাতে। যাতে অংশীদারি হল- ৪৮ শতাংশ, ২৬ শতাংশ ও ২৬ শতাংশ। বি ই এম এল ই হল ৪৮ শতাংশের মালিক। কেন্দ্রের মোদি সরকার সম্প্রতি বি ই এম এল কে বিলগ্নীকরন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই, বি ই এম এল কনসোর্টিয়াম থেকে তার অংশীদারি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চায়। অর্থাৎ, বৃহৎ অংশীদারই কারখানা খোলার ব্যাপারে নিরুৎসাহী। আর সেই কারনেই, বি ই এম এলের ৪৮ শতাংশ অংশীদারি রাজ্য সরকার কিনে নিয়ে পুনরায় চালু করুক এম এ এম সি। এমনটাই আর্জি ইনটাক সমর্থিত সংগঠনের। সেটা ছিল ১৯৯৯ আর এটা ২০১৯। বিশ সাল বাদ- তবে কি ফের এম এ এম সির গেরোয় মমতা বন্দোপাধ্যায়!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here