বাংলাদেশীদের জাল রেশন কার্ড করিয়ে দিচ্ছিল আউস গ্রামের পঞ্চায়েত সমিতি কর্মী

0
393

সংবাদদাতা, গুসকরাঃ- টাকা নিয়ে জাল রেশন কার্ড করে দেওয়ার অভিযোগে আউস গ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির অস্থায়ী কর্মী কে বুধবার সকালে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই দিনই তাকে বর্ধমানের অতিরিক্ত দায়রা আদালতে তোলা হলে ধৃত কে তিন দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশের অনুমান এর পেছনে একটি বড়সড় চক্র কাজ করছে।
ধৃতের নাম সঞ্জয় মন্ডল। সে পঞ্চায়েত সমতির অস্থায়ী কর্মী। তার বাড়ী আউস গ্রামেরই ডাঙ্গাঁ পাড়া এলাকায়। সেখানকারই ছোড়া কলোনীর বাসিন্দা মনোজ রায় মঙ্গঁলবার থানায় অভিযোগ জানান যে সঞ্জয় তার মৃত বাবার নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে এ দেশে ঢুকে পড়া লোকেদের রেশন কার্ড করিয়ে দিচ্ছে। মনোজের অভিযোগ, “কিছুদিন আগে হঠাৎ দু’জন লোক কে আমার কাছে এনে সঞ্জয় বলে যে রেশন দপ্তর থেকে অনুসন্ধানে এলে আমি বলি যে ওরা আমার আত্মীয়। আমি অবাক হয়ে যাই, কারন ওরা কেউই আমার কোন দিনই পরিচিত নয়। আমি তখন ওই দু’জনের রেশন কার্ড খুলে দেখি যে সেখানে তাদের বাবা হিসাবে আমার প্রয়াত বাবার নাম লেখা আছে”।
মনোজের বাবা মহিম রায় দেড় বছর আগে মারা যান। বিষয়টি নিয়ে মনোজ সঞ্জয় কে প্রশ্ন করতেই, সে এড়িয়ে যেতে থাকে। তাতেই মনোজের সন্দেহ গভীর হয়। এরপর খাদ্য দপ্তরে গিয়ে নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে মনোজের। কারন, দেখা যায়, তাকে পরিবারের প্রধান করে সাথে করে আনা ওই দুই বাংলাদেশী কে তার ভাই সাজিয়ে রেশন কার্ড করিয়ে দিয়েছে। এরপরই অনুপ্রবেশকারী ওই দুজন জানায়, রেশন কার্ড হাতে পেতে তারা সঞ্জয় কে টাকা দিয়েছে। বাংলাদেশে থাকার সময়ই এক দালাল তাদের সঞ্জয়ের সাথে যোগাযোগ করতে বলেছিল। এরপর মনোজের অভিযোগের ভিত্তিতেই সঞ্জয় কে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ দিকে, তার দপ্তরেই যে ভূয়ো রেশন কার্ড জালিয়াতি একটি চক্র সক্রিয় তা নিয়ে পাশ কাটাতে চাইছেন আউসগ্রাম-২’র খাদ্য পরিদর্শক অভিজিৎ পাল। অভিজিৎের বক্তব্য, “আমাদের লোকজন কম। কাজের চাপ অনেক বেশি। তাই, অসাবধানতায় হয়তো কিছু ত্রটি হয়ে থাকবে। বিষয়টি আমি নিজে খোঁজ খবর করবো”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here