শিক্ষিত ছেলে পাবক কুমারের নিজহাতে মৎস চাষে প্রবল উৎসাহ দেখে বেজায় খুশী বাঘমুন্ডি বাসী

0
1681

সংবাদদাতা, পুরুলিয়াঃ- পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডির ব্লকের প্রত্যন্ত ছাতাটাড় গ্রামের বাসিন্দা পাবক কুমার। শিক্ষাগত যোগ্যতা ভূগোল বিষয়ে এম.এ, বি.এড, নিজেকে স্বনির্ভর করার লক্ষে একসময় সরকারি চাকরির জন্য ছুটেছেন বহু জায়গায় বাদ যায় নি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও। এভাবে হতাশায় বছর কয়েক কাটার পর মাথায় আসে মাছ চাষ করার কথা পরামর্শ করেন জামাই বাবু অসিত কুমারের সঙ্গে, তিনিও অবশ্য বলেন সব ধরণের সহযোগিতা করবেন ও পাশে থাকবেন। সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটুবে থেকে দেখে আশা বাড়তে থাকে মাছ চাষের ক্ষেত্রে। বায়ো ফ্লক পদ্ধতিতে স্বল্প জায়গার মধ্যে মাছ চাষ করে নতুন স্বপ্ন দেখতে পান পাবক। কই, তেলাপিয়া ও মাগুর এই তিন প্রজাতির মাছ চাষ শুরু করেন বায়ো ফ্লক পদ্ধতিতে। এভাবেই বেশ কিছুদিন কেটে যাওয়ার পর মাছ চাষ করে হাতে অর্থ আসায় জন্মাতে থাকে আত্মবিশ্বাস। মাছ চাষের প্রসারে বাঘমুন্ডি ব্লকের মৎস আধিকারিকের স্বরণাপন্ন হন পাবক। মৎস আধিকারিক পাবকের এমনই উৎসাহ দেখে মাছ চাষের প্রশিক্ষেনে পাঠান পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুনে। সেখানে ৭ দিনের হ্যাচারি ম্যানেজমেন্টের প্রসিক্ষন নিয়ে আসার পর পাবক ৭ হাজার লিটারের ২ টি ও ৫ হাজার লিটারের ১ টি ট্যাংকে তিনটি প্রজাতির মাছ চাষ শুরু করেন। পাবক কুমার একটি সাক্ষাৎ করে বলেন প্রথম যখন মাছ চাষ শুরু করি তখন নৈহাটী থেকে প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ করে এনেছিলাম ৩ টি প্রজাতির মাছের পোনা, ট্যাংকে সবসময় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ইনভার্টার,পাইপ লাইন সহ সমস্ত কিছু মিলে খরচ হয় প্রায় লক্ষাধিক টাকা। তিনি আরও জানান ৪ থেকে ৫ মাসের ব্যবধানে এক একটা মাছ প্রায় ১০০ গ্রাম করে জন্যে হয়েছে। বাজার মূল্য ১৬০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা কেজি প্রতি দরে। নিজেকে আরও বেশি স্বনির্ভর করার লক্ষে তিনি বলেন উচ্চ শিক্ষিত হয়েও জুটে নি সরকারি চাকরি তাই রাজ্য সরকার বা কেন্দ্র সরকার থেকে যদি কোনো সাহায্য পায় তাহলে খুব বেশি উপকৃত হবো। এই বিষয়ে পাবক কুমার একটি বই ও লিখে ফেলেছেন বলে তিনি জানান যার নাম রেখেছেন “মৎস চাষের নতুন দিগন্ত বায়োফ্লক”, তবে এখনো বইটি তিন প্রকাশ করেন নি আনুষ্ঠানিক ভাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here