দুয়ারে সরকারে ক্যাম্পে যেসমস্ত সরকারি কর্মীরা সরকারের নির্দেশ মতো কাজ করেননি তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে, জানালেন জেলা প্রশাসনের এক অফিসার

0
412

অমল মাজি, দুর্গাপুর:- পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বিভিন্ন জায়গায় দুয়ারে সরকারের লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে। সবচেয়ে বেশি এবার লক্ষ্য করা গিয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ফর্ম নেওয়ার জন্য। ফর্ম নিতে গিয়ে অনেকেই আহত হয়েছেন। এই ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে খবর, এখন বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দুয়ারে সরকারের শিবিরের উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, খাদ্য সাথী বা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে আবেদনের জন্য যেভাবে প্রচুর মানু্যের ভিড় হচ্ছে, তাতে এত কম দিনে সাধারণ মানু্যের চাহিদা মিটছে না। এই পরিস্থিতিতে এবার দুয়ারে সরকারের স্থায়ী শিবির করার কথা ভাবছে জেলা প্রশাসন।
অন্যদিকে দুর্গাপুর পুরসভা এলাকায় বিশেষ করে ৪ নং বোরো এলাকায় সগর ভাঙ্গা কলোনি হাই স্কুল , টি এন হাই স্কুল, নিউ বয়েজ হয় স্কুল এবং শ্যামপুর- এ যেসমস্ত দুয়ারে ক্যাম্প হয়েছে সেখানে ফলাফল আশাতীত নয় | মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা সত্বেও সেকেন্ড জেনেরেশনের কেউ ৭দিনের মধ্যে কাস্ট সার্টিফিকেট পাননি | সেকেন্ড জেনারেশনের যারা আগস্ট মাসের দুয়ারে সরকারে ক্যাম্পে আবেদন জমা করেছিলেন তারা কেউই ১৩ সেপ্টেম্বর দুয়ারে সরকারে ক্যাম্প পর্যন্ত সার্টিফিকেট হাতে পাননি | বহু আবেদনকারীর আভিযোগ, অনলাইন সার্চ করলে “হার্ডকপি নট রিসিভ” দেখাচ্ছে | অর্থ্যাৎ যেসমস্ত আবেদনপত্র দুয়ারে ক্যাম্পে জমা পড়েছে সেইগুলি এখনো কম্পিউটারে লোড করা হয়নি, সার্টিফিকেট পাওয়া দূরের বিষয় | এখন প্রশ্ন হলো মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশকে কি অমান্য করলেন কাস্ট সার্টিফিকেট দপ্তরের অফিসাররা ?
একইভাবে অভিযোগ উঠেছে ল্যান্ড সেকশনের দপ্তরের বিরুদ্ধে | দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে কৃষক বন্ধু দপ্তরে যেসমস্ত ল্যান্ড সেকশনের অফিসাররা বসছেন তাদের বেশিরভাগেরই ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ | এই কাগজ নিয়ে আসুন, ওই কাগজ নিয়ে আসুন বলে আবেদনকারীদের রীতিমতো তাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ |
এমনকি জৈনক অমিতবাবু নামে একজন ল্যান্ড অফিসার টি এন হাই স্কুলে ক্যাম্পে বসে এলাকার জমি দালালদের সঙ্গে বেশিরভাগ সময় মজে থাকতে দেখা গেছে | তরুণ রায় নামে একজন দালাল যিনি মোটা টাকা ঘুষ নিয়ে জমির কাগজপত্র, জমির দালালির কাজ করে বেড়ায়, সেই তরুণ রায়ের সঙ্গে মজে থাকতে দেখা গেছে অমিতবাবুকে | গত ১১ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুর বাজার সংলগ্ন টি এন হাই স্কুলে দুয়ারে সরকারে ক্যাম্পে অমিতবাবু নিজের চেয়ার ছেড়ে জনৈক দালাল তরুণ রায়কে সঙ্গে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে দীর্ঘক্ষণ আড্ডা দিতে দেখা গেছে | অর্থাৎ এইসমস্ত অফিসাররা নিজেদের দায়িত্ব পালন না করে দুয়ারে সরকারে ক্যাম্পে বসেও “দু-পয়সা” কামাই-এ ব্যস্ত ছিলেন |
অথচ জনৈক পতিত পাবন, বি মন্ডল, সঞ্জয়বাবু সহ কিছু অফিসারের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত মানবিক | তারা আবেদনকারীদেরকে রীতিমতো সহযোগিতা করেছেন | সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, সাধ্যমতো কাজ করেছেন |
অন্যদিকে কৃষক বন্ধু জন্য যারা আবেদন করতে গেছেন তাদেরকেও বিভিন্ন নিয়ম দেখিয়ে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ | সরকারিভাবে যেসমস্ত নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছিল তা মানা হয়নি | বিভিন্ন অজুহাতে তাড়ানো হয়েছে আবেদনকারীদের |
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর-ফরিদপুর এলাকায় দুয়ারে সরকারে ক্যাম্পে ল্যান্ড সেকশনে সাকসেস রেট ৪০শতাংশ, সেখানে কাঁকসা এলাকায় সাকসেস রেট ৯৮۔৬৯শতাংশ | এটা ১৩ সেপ্টেম্বরের জেলা প্রশাসনের রিপোর্ট |
এসম্পর্কে জেলা প্রশাসনের এক অফিসার বলেন, যেসমস্ত সরকারি কর্মীদের দুয়ারে সরকারে ক্যাম্পে পারফর্মেন্স ভালো নয় তাদের বিরুদ্ধে করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে | প্রয়োজনে এই জেলা থেকে অন্য জেলায় ট্রান্সফার করা হবে |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here