গণপিটুনি রোধ বিল পাশের পরেও অপ্রকৃতগ্রস্থ যুবক কে গণধোলাই দিয়ে খুনের দায়ে গ্রেপ্তার খোদ মেডিক্যাল সেন্টারের মালিক সহ কর্মচারীর পুলিশ হেফাজত।

0
725

নিজস্ব সংবাদদাতা,বহরমপুরঃ- অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হবে। রাজ্য বিধান সভায় গণপিটুনি রোধ বিল পাশ করার পরেও অব্যহত গনপিটুনি দিয়ে মৃত্যুর পরম্পরা। এর আগে ডাইনি সন্দেহে গন পিটুনিতে মৃত্যূ থেকে শুরু করে, মোটরবাইক কিংবা বাচ্চা চুরি, প্রেমিক কে ডাকাত বানিয়ে গন পিটুনি দিয়ে মৃত্যুর পরে এবার মানসিকভাবে অপ্রকৃতগ্রস্থ যুবক সাবির সেখ(৩১) কে, সদর শহর বহরমপুরের ব্যাস্ততম এলাকা লালদিঘি এলাকায় খোদ ডাক্তারের চেম্বার চত্বরেই চূড়ান্ত নিষ্ঠুর ভাবে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগে । বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হল ওই মেডিকেল সেন্টারের মালিক অশোক বড়াল ও তার কর্মী রঞ্জিত বিশ্বাস কে।তাদের উভয় কেই ৫ দিনের পুলিশ হেফাজত চেয়ে বহরমপুর এসিজেএম আদালতে এদিন তোলা হয়। সন্ধ্যার পাওয়া শেষ খবরে জানা যায়, বিচারক তাদের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। এই ব্যাপারে থানার পুলিশ আধিকারিক জানান,”এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।ঘটনায় অনেক রহস্য জড়িয়ে রয়েছে। ওই মালিক ও তার কর্মচারীকে টানা জেরা করেই তথ্য মিলবে”। এদিকে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহরমপুর থানার লালদিঘী এলাকায় সুরক্ষা মেডিক্যাল সেন্টারে স্থানীয় সাহাজাদপুর । এলাকার পেশায় নির্মাণ সংস্থার ঠিকা শ্রমিক ওই যুবক সাবির সেখ শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ অমিয় ঘটকের চেম্বারে আসেন। যদিও সেই সময় চিকিৎসক সেখানে ছিলেন না ও পুলিশও সেখানকার রেজিস্টার থেকে সাবির বা তার সন্তানের কাউর কোন নাম প্রাথমিক ভাবে পাইনি। সেখানেই বাঁধছে সন্দেহ।কেন ওই যুবক আচমকা শিশু চিকিৎসকের চেম্বারে এসেছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ওই মেডিক্যাল সেন্টারের কর্মীদের সাথে যুবকের কোন কারনে শুরুতে সামান্য বচসা শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে কোন কিছু বোঝে ওঠার আগেই ওই মেডিক্যাল সেন্টার লাগোয়া রাস্তার পাশের ফুটে একদল লোক তাকে পিছমোড়া করে বেঁধে দেদার এলোপাথাড়ি পেটাতে শুরু করে।চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হলে সুযোগ বুঝে গণধোলাইকারীরা আড়ালে চলে যায়।বেশ কিছুক্ষণ পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে।ওই যুবক কে উদ্ধার করে টোটো তে করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়।আর চিকিৎসকেরা সেখানেই তার অনেক আগেই মৃত্যূ হয়েছে বলে জানিয়ে দেয়।এলাকা ছেড়ে চম্পট দেবার আগেই পুলিস মেডিক্যাল সেন্টারের মালিক অশোক বড়াল ও ওই সেন্টারের এক কর্মী রঞ্জিত বিশ্বাসকে এদিন গ্রেপ্তার করে আদলতে পেশ করতে সমর্থ হয়।রঞ্জিত বিশ্বাস কে আদালতে তোলার সময় ঘটনার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে।উনি আমতা আমতা ভাবে জানান,”ওই যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। সে এই সেন্টারে ঢুকে কর্মচারীদের মারধোর শুরু করে। কিন্তু তাকে বিশেষ ভাবে মারধোর করা হয়নি।সে আগে থেকেই অসুস্থ ছিল”।এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে মৃতার নিকটাত্মীয় সাবিবা বিবি বলেন,”ডাক্তারের চেম্বারের লোকেরাই ওকে এই ভাবে চূড়ান্ত অমানবিক ভাবে হাত পা বেঁধে পিটিয়ে খুন করেছে”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here