কেক নয়,একেবারে দেশীয় পিঠের হরেক পদ নিয়ে এবার বড়দিনের উত্সব পালন করতে চলেছেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

0
273

সংবাদদাতা,বর্ধমান:-

রাতপোহালেই বাজবে গির্জায় গির্জায় ঘণ্টা। ঘণ্টার ধ্বনিদিয়েই জানিয়ে দেওয়া হবে আরও একটা বড়দিনের উত্সবের সূচনার কথা। কলকাতার পার্ক স্ট্রীটথেকে জেলায় জেলায় যখন রঙীন আলোয় সেজে উঠছে বড়দিনের উত্সব প্রাঙ্গণ তখন দীর্ঘদিনের মনস্কামনা পূরণ করতে একেবারে দেশীয়ভাবে বড়দিনের উত্সব পালনের উদ্যোগ নিলেন রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দপ্তরেরমন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। স্বপনবাবু জানিয়েছেন, অনেকদিন ধরেই তিনি ভাবছিলেন, কলকাতার পার্ক স্ট্রীট সহ বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে বড়দিনের উত্সব পালন করা হয় তার মধ্যে থাকে বিদেশী ছোঁয়া। আর তিনি চান একেবারে দেশীয়ভাবে এই উত্সব পালন করতে। বড়দিন মানেই কেক। কিন্তু স্বপনবাবু জানিয়েছেন, তিনি এবার প্রথম পালন করতে চলেছেন দেশীয় হরেক রকমের পিঠে নিয়ে বড়দিনের উত্সব। উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে একটানা খাল বিলকে না বুজিয়ে তা সংরক্ষণ করা এবংসেই সমস্ত খালবিলে দেশীয় লুপ্তপ্রায় নানান ধরণের চুনোমাছ – যেমন চিংড়ি, পুঁটি, খোলসে, কই, ট্যাংরা, মৌরলা প্রভৃতি চাষে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য কার্যত আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। ২০০০সাল থেকে পূর্বস্থলীর বিদ্যানগরের বড় কোবলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে খাল বিল চুনোমাছ ও পিঠে পুলিউত্সবও। একেবারে প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষ যাঁরা বিভিন্ন খালবিল ঘেঁটে বিভিন্ন ধরণের চুনোমাছ সংগ্রহ করে তা বিক্রিকরে সংসার চালান – তাদেরও আর্থসামাজিক উন্নতির প্রচেষ্টাকে এই উত্সবের সঙ্গে যুক্ত ও করেছেন তিনি। মূলত বড় কোবলা গ্রামের প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার বাঁশদহ ও চাঁদের বিলকে ঘিরেই তিনি এই উত্সব শুরু করেছিলেন। স্বপনবাবু জানিয়েছে্ন, একটা সময় এই দুটি বড় বিল যা গিয়ে ঠেকেছে গঙ্গা তথা ভাগীরথীতেতা মজে যাচ্ছিল। আর সেই মজে যাওয়া বিলকেই তিনি সংস্কারের উদ্যোগ নেন এবং সেখানে এইচুনো মাছের চাষ শুরুর উদ্যোগনেন। মঙ্গলবার যখন গোটা দেশজুড়ে বড়দিনের পিকনিক, কেকনিয়ে মেতে উঠতে চলেছে গোটা দেশ তখন স্বপনবাবু বাঁশদহ বিলের চারপাশে ৫ টি জায়গায় বড়দিনের উত্সব পালন করতে চলেছেন একেবারে দেশীয়ভাবে। স্বপনবাবু জানিয়েছেন,যেভাবে কলকাতার পার্ক স্ট্রীটে বড়দিনের কেক কেটে উত্সব পালন হয়, সেই একইভাবে তাঁরাও দেশীয় পিঠের বিভিন্ন পদ দিয়েই এবার প্রথম বড়দিনের উত্সবের সূচনা করবেন।উল্লেখ্য,স্বপনবাবু জানিয়েছেন, গতবছর থেকে এই জলাশয়ে পরিযায়ী পাখি আসায় তাঁরা ভীষণখুশী। কারণ গতবছরই রাজ্যপর্যটন দপ্তর থেকে এই বিলকেঘিরে দর্শকদের বেড়ানোর জন্য একটি ট্যুরিষ্ট লজ তৈরী করেদিয়েছে। ইতিমধ্যেই তৈরী হয়েছেপাকা রাস্তা। চুনোমাছের উত্সবের সঙ্গে যুক্ত হওয়া স্থানীয় মহিলাদের ১২টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উদ্যোগে নানান ধরণের পিঠে তৈরী করেতা বিক্রির ব্যবস্থাও। চোখের সামনেই বিভিন্ন ধরণের পিঠে তৈরী করে তা পরিবেশন করা হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে।স্বাভাবিকভাবেই পরিযায়ী পাখি আসার খবরে রীতিমত উত্ফুল্ল গোটা এলাকা। কারণ পর্যটকরা পাখী দেখতে আসলে তার সঙ্গে এভাবে হরেকরকম পিঠেরও আস্বাদ করতে পারবেন। ফলে এলাকার মানুষের অর্থনীতিরও পরিবর্তন ঘটবে। বুধবার এই উত্সবের উদ্বোধন করতে আসেন রাজ্যের মত্স্য মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। প্রতি বারেরমত এবছর ও স্বপনবাবুর উদ্যোগে এই খালবিল ও চুনো মাছের উত্সবের আয়োজন চলছে। ৩ দিন ধরে চলবে এই উত্সব। আর তার আগেই ২৪ ডিসেম্বরের রাত্রি ১২ টায় গোটা দেশের সঙ্গে এখানে ও পালিত হবে বড়দিনের উত্সব।উল্লেখ্য, গতবছরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় স্বপনবাবুর এই দীর্ঘদিনের আন্দোলনকে স্বীকৃতি সহ রাজ্যে রোল মডেল হিসাবে ঘোষণা করেছেন এই চুনোমাছ ও খালবিল উত্সবকে। আর তাই সরকারীভাবে গোটা রাজ্যেই খালবিল বোঁজানো বন্ধের নির্দেশ জারী করাহয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here